Ajker Patrika

ট্রাম্পের শান্তি পরিষদের প্রথম বৈঠকের তোড়জোড়, হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ট্রাম্পের শান্তি পরিষদের প্রথম বৈঠকের তোড়জোড়, হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে শান্তি পরিষদের সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এবং অন্যান্যরা। ছবি: এএফপি

হোয়াইট হাউস আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজা নিয়ে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং বোর্ডের সদস্য চারটি দেশের কূটনীতিকেরা এ তথ্য জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে এবং গাজা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করতে এই বৈঠককে কাজে লাগাতে চায় হোয়াইট হাউস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি হবে বোর্ড অব পিসের প্রথম বৈঠক এবং একই সঙ্গে গাজা পুনর্গঠনের জন্য একটি তহবিল সংগ্রহ সম্মেলন।

তবে এই শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। এতে পরিবর্তন আসতে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। পর্দার আড়ালের কথা হলো, গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সন্দেহ ও সংশয় দেখা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ পশ্চিমা মিত্র দেশ এতে যোগ দেয়নি। এর একটি কারণ হলো, বোর্ডের সনদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুব বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং সব সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের একক ভেটো ক্ষমতা রাখা হয়েছে। কিছু মিত্র দেশের ধারণা, ট্রাম্প জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিকল্প একটি কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ২৭। এর চেয়ারম্যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এই বোর্ডকে গাজা যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন তদারকি এবং গাজার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন নিয়ে কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে। শুক্রবার থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ডজনখানেক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তাদের নেতাদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো এবং আয়োজক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে ইনস্টিটিউট অব পিসে। এই প্রতিষ্ঠানটির নাম সম্প্রতি ট্রাম্প নিজের নামে পুনর্নামকরণ করেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রশাসন বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং কোন কোন নেতা উপস্থিত থাকতে পারবেন, তা যাচাই করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এটি হবে পরিকল্পিত বোর্ড অব পিস বৈঠকের এক দিন আগে। নেতানিয়াহু বোর্ডে ইসরায়েলের যোগদানের জন্য ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে এখনো বোর্ডের সনদে স্বাক্ষর করেননি।

নেতানিয়াহু যদি বোর্ড অব পিসের বৈঠকে অংশ নেন, তাহলে ৭ অক্টোবরের হামলা ও গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে আরব ও মুসলিম নেতাদের সঙ্গে একই বৈঠকে বসবেন। গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন শুরু হলেও অগ্রগতি খুবই ধীর।

ইসরায়েল গাজা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত আবার খুলতে সম্মত হয়েছে। তবে খুব অল্পসংখ্যক ফিলিস্তিনিকেই সীমান্ত পার হতে দেওয়া হচ্ছে। একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। তারা মিসর থেকেই কাজ করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এবং অন্য মধ্যস্থতাকারী মিসর, কাতার ও তুরস্ক হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং পুনর্গঠনের অনুমতিও দেবে না।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ গত সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘সম্মত অস্ত্র অপসারণ প্রক্রিয়া’ শুরু করতে চায়। তিনি বলেন, সব ধরনের সামরিক, সন্ত্রাসী ও আক্রমণাত্মক অবকাঠামো, যার মধ্যে টানেল এবং অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনাও রয়েছে, ধ্বংস করা হবে এবং আর পুনর্নির্মাণ করা হবে না।

ওয়াল্টজ আরও বলেন, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য ‘স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক’ নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়নে একটি কর্মসূচির মাধ্যমে হামাস সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ‘কিনে নেওয়া’ হবে। হামাসের কিছু সাবেক সদস্যকে নতুন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও দেওয়া হবে।

নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের এই গাজা পরিকল্পনা নিয়ে বেশ সন্দিহান। তাঁর দাবি, ট্রাম্প তাঁদের সর্বশেষ বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য মাত্র ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপর ইসরায়েল আবার যুদ্ধ শুরু করতে পারবে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ হবে। ট্রাম্পের উপদেষ্টা এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার দাভোসে ১০০ দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন। ওই পরিকল্পনায় শুধু প্রাথমিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত