Ajker Patrika

বাংলাদেশের হিন্দুরা সংগঠিত হলে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস আরএসএস প্রধানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ০৪
বাংলাদেশের হিন্দুরা সংগঠিত হলে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস আরএসএস প্রধানের
ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। ছবি: পিটিআই

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুরা যদি নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হয়, তাহলে বিশ্বের সব প্রান্তের হিন্দুরা তাদের পাশে দাঁড়াবে। আজ রোববার মুম্বাইয়ের ওয়ারলির নেহরু সেন্টারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ব্যাখ্যানমালা’ বক্তব্য সিরিজের দ্বিতীয় দিনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সংঘের ১০০ বছরের যাত্রা: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক এই আয়োজনের মাধ্যমে আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর, বিশেষ করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে বলে দাবি করছে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ হিন্দু বসবাস করে। তারা যদি সেখানে থেকে নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিশ্বের সব হিন্দু তাদের সাহায্য করবে।’

ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, অতীতে ভারতের সরকারগুলো জনসংখ্যার পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি।

মোহন ভাগবত বলেন, ‘আগে সরকার জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে যথেষ্ট কাজ করেনি। জন্মহার এবং অবৈধ অভিবাসন এর প্রধান কারণ। এখন সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে এবং তারা সফল হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতকে আর দুর্বল করা যাবে না। যারা ভারতকে ভাঙার চেষ্টা করবে, তারা নিজেরাই ভেঙে পড়বে।’

আরএসএসের অর্থের উৎস নিয়ে কৌতূহলের বিষয়ে ভাগবত বলেন, সংগঠনটি কোনো করপোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুদানের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি বলেন, ‘অনেকে আরএসএসের তহবিল নিয়ে কৌতূহলী। আমরা আমাদের স্বয়ংসেবকদের কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহ করি। ভ্রমণের সময় আমরা খাবার কিনে খাই না, টিফিন চাই। আমরা হোটেলে থাকি না, স্বয়ংসেবকদের বাড়িতেই থাকি।’

জাত ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধান বলেন, ‘আমাদের সংগঠনে কোনো বৈষম্য নেই। যে কেউ আরএসএসের প্রধান হতে পারে। তফসিলি জাতি বা উপজাতি হওয়া অযোগ্যতা নয়, আবার ব্রাহ্মণ হওয়াও কোনো যোগ্যতা নয়। যদিও আরএসএসের সূচনা হয়েছিল মূলত ব্রাহ্মণদের মাধ্যমে, আমরা সব জাতির জন্য কাজ করি।’

মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করার কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষ এড়িয়ে চলাই আরএসএসের নীতি। মুসলিম এলাকায় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হয় প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে। তারা গালাগাল দিতে পারে, কিন্তু আমরা উত্তর দিই না। এতে সংঘাত বাড়ে না।’

এর আগের দিন, শনিবার মোহন ভাগবত বলেন, ‘আরএসএস কারও বিরুদ্ধে নয় এবং ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যেও কাজ করে না। সংঘ কারও বিরুদ্ধে নয়। এটি ক্ষমতা চায় না। এর একমাত্র লক্ষ্য সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সমাজে ঐক্যের অভাব অনুভব করেই ১৯২৫ সালে ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইসিসি-পিসিবির সঙ্গে জরুরি মিটিংয়ে হঠাৎ লাহোরে বিসিবি সভাপতি

১৩ অস্ত্রসহ সুব্রত বাইনের সহযোগী দীপু গ্রেপ্তার

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শেষ সময়ে এমপিওর তোড়জোড়

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারত-আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্র হয়: সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দি

আজকের রাশিফল: আপনার উন্নতি দেখে অনেকের জ্বলবে, চ্যাট হিস্ট্রি সাবধানে রাখুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত