Ajker Patrika

মার্কিন হামলা হলে ইরানকে সহায়তায় প্রস্তুত হাজার হাজার ইরাকি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৩৮
মার্কিন হামলা হলে ইরানকে সহায়তায় প্রস্তুত হাজার হাজার ইরাকি
মার্কিন আক্রমণ হলে ইরানের হয়ে লড়তে নাম লেখাচ্ছেন ইরাকিরা। ছবি: এএফপি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে মার্কিন হামলার সম্ভাবনা দেখা দিলে দেশটিকে রক্ষায় সহায়তা করতে প্রস্তুত হাজার হাজার ইরাকি। এই লক্ষ্যে হাজার হাজার ইরাকি নাগরিক একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এক বিবৃতি অনুযায়ী, ইরাকের দিয়ালা প্রদেশের প্রায় ৫ হাজার মানুষ সমবেত হয়ে ঘোষণা করেছে, তারা ইরাক ও তাদের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী দেশ (ইরান), এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে’‚ ‘বিনা পারিশ্রমিকে’ রক্ষা করতে প্রস্তুত।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আমাদের প্রস্তুতি ঘোষণা করছি। একই সঙ্গে আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রে আমেরিকার হস্তক্ষেপকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’

ওমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যখন ক্রমাগত বাড়ছে, ঠিক তখনই এই ঘোষণাটি এল।

ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করার লক্ষ্যে শুক্রবার ওয়াশিংটন নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে তুরস্ক, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর পতাকাবাহী ১৪টি জাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং দুই ব্যক্তির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলো ইরানের উপকূলীয় জলসীমার কাছে অবস্থান করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম আরব সাগরে নিমিৎজ-ক্লাস রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের রসদ সরবরাহ অভিযানের ফুটেজ প্রকাশ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, সামরিক বাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং ওয়াশিংটন যদি যুদ্ধই চায়, তবে সেই যুদ্ধ ‘পুরো অঞ্চল এবং সমস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে সম্ভবত ‘বাজে কিছু’ ঘটবে।

দিয়ালার এই সমাবেশের সমন্বয়কারী এবং ইরান-সমর্থিত বদর অর্গানাইজেশনের নেতা আম্মার আল-তামিমি জানিয়েছেন, এই স্বেচ্ছাসেবীরা নির্দিষ্ট কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নন। তামিমি বলেন, ‘বরং আমরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি রিজার্ভ ফোর্স বা সংরক্ষিত বাহিনী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।’

তামিমি আরও যোগ করেন, ‘এই সংগঠনে ৪ হাজার ৯৪৭ জনের নাম রয়েছে। এর সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবীর নাম দিয়ালা অপারেশনস কমান্ডের কাছে জমা দেওয়া হবে, যারা পরে এগুলো সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডারের কাছে পাঠিয়ে দেবে।’

২০০৩ সালের যুদ্ধের পর সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকেই ইরাক ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই ইরাকে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সেখানে বর্তমানেও হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং দেশটির অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরানের অনুসারী।

কাতায়েব হিজবুল্লাহ এবং হারাকাত আল-নুজাবার মতো ইরাকের ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোও বাগদাদসহ সারা দেশে রিক্রুটিং স্টেশন বা নিয়োগ কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যাতে ইরানে মার্কিন হামলা হলে তারা স্বেচ্ছাসেবীদের তালিকাভুক্ত করতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত