Ajker Patrika

৩০টির বেশি দেশে ১২০টি বিপজ্জনক জৈব গবেষণাগারে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: তুলসী গ্যাবার্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১২: ৪০
৩০টির বেশি দেশে ১২০টি বিপজ্জনক জৈব গবেষণাগারে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: তুলসী গ্যাবার্ড
তুলসী গ্যাবার্ড। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে ১২০টির বেশি জৈব গবেষণাগারে (বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরি) যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে অর্থায়ন করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের সাবেক পরিচালক (ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড। নতুনভাবে অবমুক্ত করা (ডিক্লাসিফায়েড) কিছু নথির বরাত দিয়ে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।

অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের (ওডিএনআই) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই গবেষণাগারগুলোর অনেকগুলোতেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতি সংক্রামক জীবাণু বা প্যাথোজেন নিয়ে গবেষণা চালানো হতো। এর মধ্যে ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত ‘গেইন-অব-ফাংশন’ (ভাইরাস বা জীবাণুর কার্যক্ষমতা ও সংক্রমণ যোগ্যতা বৃদ্ধির কৃত্রিম গবেষণা) পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ডিএনআই গ্যাবার্ডের অভিযোগ, এই জটিল গবেষণাগুলো অত্যন্ত নামমাত্র বা সামান্য নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হতো।

তুলসী গ্যাবার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ওডিএনআই সরকারের অন্য অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে এই ল্যাবগুলো কোথায় অবস্থিত এবং সেখানে কী ধরনের প্যাথোজেন রয়েছে তা শনাক্ত করা যায়। আমরা এই বিপজ্জনক “গেইন-অব-ফাংশন” গবেষণা বন্ধ করতে চাই, যা মার্কিন জনগণসহ বিশ্ববাসীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।’

অবমুক্ত হওয়া নথির সূত্রে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে, ইউক্রেনের ৪০টিরও বেশি গবেষণাগার সাবেক সোভিয়েত আমলের জৈব যুদ্ধাস্ত্রের প্যাথোজেন নিয়ে কাজ করার সঙ্গে জড়িত ছিল। এই ল্যাবগুলোতে অ্যানথ্রাক্স, ইবোলা, মার্স, সার্স এবং প্লেগের মতো মারাত্মক সংক্রামক জীবাণু (বিশেষ বিপজ্জনক প্যাথোজেন বা ইডিপি) নিয়ে গবেষণা করা হতো বলে ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের খেরসন ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট জীবাণু নিয়ে কাজ করার অনুমোদন ‘প্রক্রিয়াধীন’ থাকা অবস্থাতেই এই গবেষণাগারটি ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৮২২ ডলারের মার্কিন তহবিল পেয়েছিল।

সাবেক মার্কিন প্রশাসন ও শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনা করে ডিএনআই গ্যাবার্ড বলেন, ‘জৈব গবেষণাগারে বিপজ্জনক প্যাথোজেন নিয়ে গবেষণার বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনার স্পষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। তা সত্ত্বেও, রাজনীতিবিদ, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. ফাউসির মতো তথাকথিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যরা মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত এই ল্যাবগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে মার্কিন জনগণের কাছে মিথ্যা বলেছেন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে যারা এই সত্যটি সামনে আনার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এই গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ‘গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণায় মার্কিন ফেডারেল অর্থায়ন সম্পূর্ণ বন্ধের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি, ডিএনআই গ্যাবার্ড মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে দেশের বাইরে অবস্থিত এই ধরনের মার্কিন অর্থায়নের সব ল্যাবরেটরি থেকে তথ্য সংগ্রহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ওডিএনআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বাড়তি নজরদারির ফলে ওইসব সাইটে চলমান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নানা তথ্য ইতিমধ্যে উঠে আসতে শুরু করেছে, যা নৈতিক, আর্থিক এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে অভিযুক্ত ড. অ্যান্থনি ফাউসি বা পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত