Ajker Patrika

মরক্কো থেকে ১০ দিনে দুই হাজার লোক ঢুকেছে স্পেনে, ৯ জনের মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১: ২১
মরক্কো থেকে ১০ দিনে দুই হাজার লোক ঢুকেছে স্পেনে, ৯ জনের মৃত্যু
স্পেনের উত্তর আফ্রিকার অংশ সেউতায় মরোক্কো থেকে শত শত লোক সীমান্ত পরিয়ে ঢুকে পড়ছে। ছবি: এএফপি

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতার সীমান্তে প্রতিবেশী মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ঢুকে পড়ার সময় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেউতার সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গত ১০ দিনে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মানুষ সেখানে প্রবেশ করেছে। বৃহস্পতিবার আরও কয়েকশ মানুষ প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হেসুস ভিভাস এটিকে ‘চরম মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করেন। সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে তিনি মাদ্রিদে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সেনা পাঠানোর আহ্বান জানান।

তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান প্রযোজ্য নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সহায়তা ও সম্পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে সশস্ত্র বাহিনী ৬০ জন সেনা পাঠাবে।

প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অনেক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশের সময় ‘ভিভা এস্পানিয়া!’ বা ‘স্পেন দীর্ঘজীবী হোক!’ বলে চিৎকার করছেন। তাদের অনেকেই মরক্কোর দিক থেকে বিভিন্ন নৌযান বা রাবারের ভেলার মতো জলযানে করে সেউতায় পৌঁছান।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসীদের বড় বড় দল সমুদ্রের বাঁধ বা ব্রেকওয়াটার ধরে হেঁটে স্থানীয় সড়কে উঠে আসে। স্পেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইইই জানিয়েছে, অন্যদের একটি অংশ স্থলপথে সীমান্ত পার হয়েছে এবং সীমান্তের বেড়া টপকে সেউতায় ঢুকেছে।

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী জাকারিয়া জাররুকি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, অভিবাসীদের এই ঢল ২০২১ সালের মে মাসে ঘটে যাওয়া একটি বড় ধরনের সীমান্ত পারাপারের ঘটনার সঙ্গে তুলনীয়। ওই সময় মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মরক্কোর নাগরিক ও সাব-সাহারান আফ্রিকার তরুণ সেউতায় প্রবেশ করেছিল। জাররুকি বলেন, ‘আমরা কথা বলার সময়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।’ তিনি জানান, সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করতে এখনও মানুষ মরক্কোর ফনিদেক শহরের দিকে ভিড় করছে।

সেউতা এবং মেলিয়া, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত আরেকটি স্বায়ত্তশাসিত স্প্যানিশ শহর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকার সঙ্গে একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অভিবাসীদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা দুই শহরেই প্রায়ই বেড়ে যায়।

চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক করা অভিবাসীদের মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী গার্দিয়া সিভিলের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে মানুষ আসছিল। কিন্তু আজ পরিস্থিতি বিস্ফোরণের মতো আকার নিয়েছে।’

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনিয়মিতভাবে অভিবাসীদের প্রবেশের এই ঢল মোকাবিলায় তারা মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে এবং নথিপত্রবিহীন অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শুক্রবার সেউতা সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত