Ajker Patrika

অত্যাধুনিক ইসরায়েলি ড্রোন প্রায় অক্ষত অবস্থায় ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৪: ২৪
অত্যাধুনিক ইসরায়েলি ড্রোন প্রায় অক্ষত অবস্থায় ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ড্রোন হার্মিস ৯০০। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানের আকাশে একটি উন্নত প্রযুক্তির হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। আজ বুধবার কেরমান শহরের উপকণ্ঠে এই ঘটনা ঘটে বলে তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি-র আঞ্চলিক ইউনিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধ্বংস করা ড্রোনটি ইসরায়েল অথবা মার্কিন বাহিনীর হতে পারে। ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছিল বলে দাবি তেহরানের। উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অঞ্চলে আইআরজিসি মোট তিনটি হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর তথ্যমতে, বর্তমান সংঘাত (অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ ৪’) শুরু হওয়ার পর থেকে তারা প্রায় ২০ থেকে ৩৫টি মার্কিন ও ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এমনকি লোরিস্তান প্রদেশ থেকে একটি ‘হার্মিস ৯০০’ মডেলের ড্রোন অক্ষত অবস্থায় জব্দ করার দাবিও করেছে ইরান।

কেরমানের এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৩ মার্চ কেরমান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানও কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের সংবাদের পর থেকেই যুদ্ধের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে ২০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ‘কামিকাজে’ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

হার্মিস ড্রোন কী?

ইসরায়েলের তৈরি ‘হার্মিস ৪৫০’ এবং ‘হার্মিস ৯০০’ ড্রোনগুলো মূলত মধ্যম উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ উড়তে সক্ষম। এগুলো মূলত নজরদারি এবং নিখুঁত হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এলবিট সিস্টেমস হার্মিস ৯০০ ড্রোন তৈরিতে প্রতি ইউনিটে খরচ হয় কনফিগারেশনের ওপর নির্ভর করে প্রায় ৬.৮৫ মিলিয়ন থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

সাম্প্রতিক চুক্তিগুলোতে অবশ্য রপ্তানিমূল্য আরও অনেক বেশি বলে ইঙ্গিত মেলে। একটি অপ্রকাশিত গ্রাহকের জন্য ছয়টি ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ছয়টি ড্রোনের জন্য ২৫৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে ইসরায়েল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত