Ajker Patrika

হরমুজে বৈশ্বিক অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সমঝোতার বার্তা দিলেন হেগসেথ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হরমুজে বৈশ্বিক অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সমঝোতার বার্তা দিলেন হেগসেথ
পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথ। ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মাঝে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের আরোপিত নৌ-অবরোধ এখন বৈশ্বিক রূপ নিয়েছে। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর সরাসরি অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে বিশ্বের কোনো প্রান্তে কোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

পেন্টাগনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের অবরোধ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং এটি এখন বিশ্বজুড়ে কার্যকর। হরমুজ প্রণালি থেকে বিশ্বের অন্য কোনো গন্তব্যে যাওয়ার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর ক্লিয়ারেন্স নেওয়া এখন বাধ্যতামূলক।’

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) শীর্ষ জেনারেল ড্যান কেইনের উপস্থিতিতে হেগসেথ আরও বলেন, তেহরানের সামনে এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘ভালো চুক্তি’ করার সুযোগ অবশিষ্ট আছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির জন্য কোনো তাড়াহুড়ো করছে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে অফুরন্ত সময় রয়েছে।’

জেনারেল ড্যান কেইন অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের প্রতিটি বন্দরে কঠোর নজরদারি ও অবরোধ বজায় রেখেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩৪টি জাহাজকে ইরানের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করার সময় বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেইন আরও বলেন, ‘আমরা প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরেও ইরানি নৌযানগুলোকে আটকে দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখব। যেকোনো দেশের জাহাজ যদি ইরানি বন্দর বা ভূখণ্ডের দিকে যায় অথবা সেখান থেকে ফিরে আসে, তবে আমরা তা প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও মোতায়েন রয়েছি।’

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল থেকে এই আনুষ্ঠানিকভাবে নৌ-অবরোধ শুরু হয়।

অবরোধের এই কঠোর পরিস্থিতির মাঝেও কূটনীতির জানালা সামান্য খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন হেগসেথ। তিনি জানান, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে ‘বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত’ নেয় এবং অর্থবহ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে, তবেই ওয়াশিংটন নমনীয় হবে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ভিত্তিক তিনটি সূত্রের মতে, খুব শিগগিরই পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি সম্ভাব্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এটি হবে দুপক্ষের মধ্যে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছেন। অপর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানের পথে রওনা দিয়েছেন। তবে এবার মুখোমুখি বৈঠকের সম্ভাবনা কম।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি প্রণালিতে মাইন স্থাপনের কোনো চেষ্টা চালায়, তবে সেটিকে সরাসরি বর্তমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

হেগসেথ অভিযোগ করেন, ‘বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত অনেক সীমিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর প্রধান কারণ ইরান তাদের অস্ত্রধারী ছোট ও দ্রুতগামী নৌকাগুলো নিয়ে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর এই বৈশ্বিক অবরোধ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে পেন্টাগনের এই সামরিক তৎপরতা এবং অন্যদিকে পাকিস্তানে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবর—সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে, তারা আলোচনার টেবিলে বসবে নাকি এই অবরোধের বিরুদ্ধে পালটা কোনো শক্ত অবস্থান নেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

৭ দিনের গণভোট প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক: রিফাত রশিদ

অধ্যক্ষকে জড়িয়ে আপত্তিকর কথা বলায় প্রথমে থাপ্পড় দেন প্রদর্শক

উত্তরায় মদের বারে অভিযান, নারীসহ ১৪০ জন গ্রেপ্তার

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসা স্থগিত

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত