
পরমাণু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার একটি রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ইরান। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া তারা খতিয়ে দেখছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি হবে বলে তারা আশা করছে।
এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষই সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে।
সোমবার তেহরান জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রস্তাবিত একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ তারা পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনার একটি কাঠামো চূড়ান্ত হবে বলে তারা আশা করছে।
এ ঘোষণার পরে মনে করা হচ্ছে, সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটন আপাতত সরে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার ইস্তাম্বুলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অংশ নেবেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আগামী শুক্রবার তুরস্কে একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত জানুয়ারিতে ইরানে গণবিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠান। তবে পরে তিনি তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর এই আলোচনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
গত রোববার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কথা বলছে। পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করছি। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি সম্পন্ন হবে।’
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
এরপর ফার্স নিউজ এজেন্সি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ইরানের প্রেসিডেন্ট পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। তারিখ উল্লেখ না করে ফার্স জানায়, ‘পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা করবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।’
এই প্রতিবেদনটি সরকারি পত্রিকা ইরান এবং দৈনিক শারঘ-এও প্রকাশিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আরাগচির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে সোমবার ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে। তবে তেহরান বা ওয়াশিংটন কোনো পক্ষই এখনো বৈঠক চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, উইটকফ আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গত রোববার ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলছে। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত বড় ও শক্তিশালী জাহাজগুলো সেই অভিমুখে (ইরানের দিকে) যাচ্ছে।’
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। গত রোববার তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তা ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হলো ‘মিশিগান স্টেডিয়াম’ (বিগ হাউস), যেখানে ১ লাখ ৭ হাজার মানুষ বসতে পারে। ভেনেজুয়েলার ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল দিয়ে এ রকম ৬৪ হাজারটি স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ করা সম্ভব।
৩ ঘণ্টা আগে
ইউক্রেনের তাপমাত্রা বর্তমানে মাইনাস ২০ থেকে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। হিটিং সিস্টেম অকেজো হয়ে যাওয়ায় পাইপলাইন ফেটে যাওয়া রোধ করতে পানি সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
৪ ঘণ্টা আগে
২০১৯ সালে যখন এপস্টেইন গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, তখন চমস্কি তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন পুরো বিষয়টি ‘উপেক্ষা’ করার জন্য। এমনকি নারী নির্যাতন বিরোধী সামাজিক আন্দোলনকেও তিনি সে সময় ‘হিস্টিরিয়া’ বা উন্মাদনা বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
৪ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনা।
৪ ঘণ্টা আগে