Ajker Patrika

মাদুরোর মামলা চালাতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ২৩
মাদুরোর মামলা চালাতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি
নিকোলাস মাদুরো। ছবি: এএফপি

ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ভেনেজুয়েলা সরকার যেন নিউইয়র্ক সিটিতে মাদক পাচারের অভিযোগে ফেডারেল বিচারের মুখোমুখি প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর আইনি খরচ বহন করতে পারে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর এই বিচার শুরু হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোল্যাক ফেব্রুয়ারিতে ম্যানহাটানভিত্তিক মার্কিন জেলা বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইনের কাছে মামলা খারিজের আবেদন করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, কারাকাসের সরকারকে আইনি খরচ বহন করতে বাধা দেওয়া মাদুরোর নিজের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।

আদালতে দাখিল করা নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তারা নিষেধাজ্ঞা সংশোধনে সম্মত হয়েছে, যাতে ভেনেজুয়েলার সরকার মাদুরোর প্রতিরক্ষা আইনজীবীর পারিশ্রমিক দিতে পারে। তারা আরও বলেছে, এই পরিবর্তনের ফলে মামলাটি খারিজের জন্য মাদুরোর আইনজীবীর আবেদন এখন ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে গেছে।

সমালোচকেরা নিউইয়র্কে মার্কিন আদালতে মাদুরোর বিচারপ্রক্রিয়াকে মৌলিকভাবে অবৈধ বলে নিন্দা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে অপহরণ করা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি অবমাননা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই দাবি করেছে, এই অপহরণ ছিল সামরিক সহায়তায় পরিচালিত একটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তাদের যুক্তি, বিতর্কিত একাধিক নির্বাচনের পর ওয়াশিংটন মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। আন্তর্জাতিক আইনের ‘হেড অব স্টেট ইমিউনিটি’ ধারণা অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন বিশ্বনেতাদের সাধারণত বিদেশি আদালতের বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে আনার পর মাদুরো ও ফ্লোরেস নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এবং বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কারাগারে আটক। মাদুরো অভিযোগগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এগুলো ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি অজুহাত মাত্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি চান বিদেশি কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার পাক।

এদিকে গত ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে বিচারক হেলারস্টেইন মামলাটি খারিজ করবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভেনেজুয়েলা সরকারকে মাদুরোর আইনি খরচ বহন করতে বাধা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন কি না। যুক্তরাষ্ট্রে সব আসামিরই সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, তাঁরা নাগরিক হন বা না হন। সে সময় প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আরোপ করা হয়েছে এবং পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার দায়িত্ব বিচার বিভাগের নয়, নির্বাহী বিভাগের।

তাঁরা আরও দাবি করেন, মাদুরো ও ফ্লোরেস ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবহার করে নিজেদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন। বিচারক হেলারস্টেইন বলেন, ‘আসামি এখানে, ফ্লোরেস এখানে। তারা আর কোনো জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যে অধিকারটি জড়িত, যা অন্য সব অধিকারের ওপর প্রাধান্য পায়, তা হলো সাংবিধানিকভাবে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক ও বন্ধু পুলিশ হেফাজতে

যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম আবুঘারবিয়েহ

হোয়াইট হাউসের ডিনারে হামলা: মেধাবী প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক অ্যালেন কেন অস্ত্র তুলে নিলেন

ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে গুলি: আটক যুবক সম্পর্কে যা জানা গেল

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনার আড়ালে ঢাকাকে কী বার্তা দিল দিল্লি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত