
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাঁর প্রশাসনের সাফল্যের তালিকায় ‘ইরানে সামরিক হামলার মাধ্যমে চালানো ধ্বংসযজ্ঞকে’ অন্তর্ভুক্ত করেন। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘to be continued!’ বা এই ধ্বংসযজ্ঞ ‘চলতে থাকবে।’
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া দীর্ঘ ওই পোস্টের ভাষা ইঙ্গিত দেয়, আজ শুক্রবার চীন সফর শেষে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ শুরু করতে পারেন। এপ্রিলের শুরুর দিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আর খুব বেশি ধৈর্য ধরতে যাচ্ছি না। তাদের একটি চুক্তিতে আসা উচিত।’ তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত খুঁজে বের করার বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বা জনসংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আসলে এটা হাতে পেলে স্বস্তি বোধ করব। কিন্তু আমার মনে হয়, এটা যতটা না বাস্তব কারণে গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি জনসংযোগের জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি কাজ আমরা করতে পারি, সেটা হলো আবার বোমা হামলা করা। কিন্তু আমি সেটা উদ্ধার করতে পারলে বেশি স্বস্তি বোধ করব এবং আমরা সেটা উদ্ধার করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটের একটি কমিটিতে দেওয়া সাক্ষ্যে বলেন, যুদ্ধের ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। তবে এখনো দেশটির পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। একই সময়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা তীব্র রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে নোঙর করা একটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে এবং সেটিকে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মধ্যে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে।
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চীনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যুদ্ধে ইরানকে সহায়তা দিতে চীন সামরিক সরঞ্জাম পাঠাবে না। ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (সি) বলেছেন, তিনি (ইরানকে) কোনো সামরিক সরঞ্জাম দেবেন না…তিনি খুব জোর দিয়ে এটা বলেছেন। তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা দেখতে চান এবং বলেছেন—‘আমি যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারি, তাহলে আমি সাহায্য করতে চাই’।’
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানায়, দুই নেতা একমত হয়েছেন যে—হরমুজ প্রণালি খোলা থাকা উচিত। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর চীনের নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সি চিনপিং। একই সঙ্গে দুই নেতা একমত হয়েছেন যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।
তেহরান অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে তারা এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যার কোনো শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নেই। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরীক্ষা করতে বাধা দিয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, চীনা কর্মকর্তারা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে বেইজিং কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা টোল ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু দেখতে চায়। পাশাপাশি ইরানকে সামরিক সহায়তা সীমিত রাখতে চীন বাস্তববাদী পদক্ষেপ নেবে বলেও তারা জানিয়েছে।

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ‘সনাতন ধর্ম’ নিয়ে বিতর্ক ফের তুঙ্গে। তিন বছর আগে দেওয়া নিজের বিতর্কিত মন্তব্যকে আবারও উসকে দিয়ে ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন গত মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সনাতন ধর্ম অবশ্যই নির্মূল করতে হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যটি।
৮ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে ‘অনাগ্রাসন চুক্তি’ বা নন-অ্যাগ্রেশন প্যাক্টের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছে সৌদি আরব। কূটনীতিকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, সে বিষয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবেই এই ধারণা...
১৪ মিনিট আগে
পূর্ব লন্ডনের কমিউনিটিতে ‘সম্মানিত’ হিসেবে পরিচিত সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খানকে (৫৪) নারী ও শিশুদের ওপর ধারাবাহিক এবং ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন আদালত। ১১ বছর ধরে অন্তত সাতজন ভুক্তভোগীর ওপর পৈশাচিক নিপীড়নের দায়ে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়।
২৭ মিনিট আগে