Ajker Patrika

ষষ্ঠ মেয়াদে নির্বাচিত হলেন জিবুতির প্রেসিডেন্ট, ভোট পেলেন ৯৭.৮%

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ষষ্ঠ মেয়াদে নির্বাচিত হলেন জিবুতির প্রেসিডেন্ট, ভোট পেলেন ৯৭.৮%
৭৮ বছর বয়সী গুয়েলেহ ১৯৯৯ সালে তাঁর চাচা হাসান গুলেদ আপতিদনের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

ষষ্ঠ মেয়াদে জিবুতির প্রেসিডেন্ট হলেন ইসমাইল ওমর গুয়েলেহ। ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৭ বছরের শাসনের সময়সীমা দীর্ঘায়িত করলেন তিনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও টেলিভিশন জিবুতি গত শনিবার এই তথ্য জানিয়েছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ছোট হলেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে নিজের আধিপত্য বজায় রাখলেন ইসমাইল ওমর গুয়েলেহ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে ৭৮ বছর বয়সী গুয়েলেহ জয়ের খবর জানান। ছবির ওপর ফরাসি ভাষায় লেখা ছিল ‘RÉÉLU’, যার বাংলা অর্থ ‘পুনর্নির্বাচিত’।

১০ লাখের কম জনসংখ্যার দেশ জিবুতি গালফ অব এডেনে এবং লোহিত সাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত। এখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপানের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ মেরামতের জন্য এই দেশটির বন্দরে নোঙর করেছে।

১৯৯৯ সালে চাচা হাসান গুলেদ আপতিদনের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন গুয়েলেহ। এরপর থেকে তাঁর দল দেশটির জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে। ফলে নির্বাচনে তাঁর এই জয় অনেকটাই নিশ্চিত ছিল।

গত অক্টোবরে দেশটির পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৭৫ বছরের বয়সসীমা তুলে দেয়। একই সঙ্গে নতুন সংবিধান অনুমোদনের জন্য আগে যে গণভোটের প্রয়োজন ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়।

গত শুক্রবারের নির্বাচনে গুয়েলেহের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মোহাম্মদ ফারাহ সামাতার। তিনি পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বহীন একটি ছোট দলের প্রার্থী। দেশটির প্রধান দুটি বিরোধী দল ২০১৬ সাল থেকে নির্বাচন বর্জন করে আসছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন মোটেও নিরপেক্ষ নয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও গুয়েলেহ ৯৭ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন।

হর্ন অব আফ্রিকার অন্যান্য দেশের তুলনায় জিবুতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ স্থিতিশীল। গুয়েলেহ সরকার বন্দর অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, যার লক্ষ্য হলো স্থলবেষ্টিত প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জিবুতি কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনাও প্রত্যাখ্যান করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিরল গণবিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। বিমানবাহিনীর সাবেক এক পাইলটকে গ্রেপ্তারের পর ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ওই পাইলট সরকারি দুর্নীতি ও গোষ্ঠীভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত