
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী স্ট্যু। বছর দেড়েক আগে কালশি নামে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেন তিনি। এর পর থেকে খেলাধুলা নিয়ে ছোটখাটো বাজি ধরা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু কয়েক সপ্তাহ আগে গভীর রাতে অ্যাপটি স্ক্রল করতে করতে পেন্টাগনের আশপাশে পিৎজা সরবরাহের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার খবর দেখে তিনি এক ভিন্ন ধরনের বাজি ধরেন। ১ মার্চের মধ্যে ইরানের আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ‘ক্ষমতাচ্যুত’ হবেন কি না, এই সম্ভাবনার ওপর ১০ ডলার বাজি ধরেন স্ট্যু। এই বাজি আমেরিকায় বাজি ধরার বৈধতার সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, কালশির মতো অ্যাপ দিয়ে পরিচালিত এই ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ বা আগাম পূর্বাভাসের বাজার গত এক বছরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মে এখন পর্যন্ত ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাজির দুনিয়াকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে এই বাজার। দেশটিতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত খেলাধুলায় বাজি ধরা অনেকটা অবৈধ ছিল এবং ২০২৪ সালের আগে নির্বাচনে বাজি ধরা নিষিদ্ধ ছিল।
এই প্ল্যাটফর্মগুলোর বেশির ভাগ কার্যক্রম খেলাধুলাকেন্দ্রিক হলেও ব্যবহারকারীরা এখন যেকোনো বিষয়েই বাজি ধরছেন। যার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা, এমনকি যিশুখ্রিষ্টের পুনরাগমনের সাল নিয়েও।
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এই অ্যাপগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। আইনি লড়াইয়ে জয়ের পর যখন তারা নির্বাচনী বাজি ধরার অনুমতি পায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে দেখাতে শুরু করে, তখন থেকেই এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নজর কেড়েছে আরও অস্বস্তিকর কিছু বাজি, যেগুলো ইরান, ভেনেজুয়েলা ও ইসরায়েলকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাত্ত্বিকভাবে এ ধরনের বাজি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতিমালার পরিপন্থী। কারণ, দেশটির নিয়ম অনুযায়ী যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, হত্যাকাণ্ড, জুয়া বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে লেনদেন নিষিদ্ধ। কিন্তু এটি কোনোভাবেই কোটি কোটি টাকার এই বাণিজ্য থামাতে পারছে না।
সমালোচকেরা এই অ্যাপগুলো বন্ধের দাবি তুলে বলছেন, এগুলো অনৈতিক এবং সম্ভবত অবৈধ যুদ্ধ-মুনাফাবাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে লেনদেন বা দুর্নীতির পথ খুলে দিতে পারে।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘পাবলিক সিটিজেন’-এর লবিস্ট ক্রেইগ হোলম্যান সম্প্রতি এই বাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন যেকোনো বিষয়ের ওপর জুয়া খেলার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যুর মতো ভয়াবহ বিষয় নিয়েও বাজিতে পরিণত হয়েছে।’
শুধু পলিমার্কেট প্ল্যাটফর্মেই ইরান যুদ্ধ-সম্পর্কিত বাজিতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন হয়েছে বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাবনার ওপর বাজি ধরার সুযোগও দেওয়া হয়েছিল এক পর্যায়ে।
নিউইয়র্কভিত্তিক কোম্পানি পলিমার্কেট যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত আকারে কার্যক্রম চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে তারা ওই বাজিটি সরিয়ে নেয়। তবে ব্যবহারকারীরা এখনো সেখানে ‘কবে মার্কিন বাহিনী ইরানে প্রবেশ করবে’—এমন প্রশ্নে বাজি ধরতে পারছেন। বিবিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও কোম্পানিটি কোনো সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে কালশিও খামেনি-সংক্রান্ত বাজিটি বাতিল করেছে, যেখানে ৫৪ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়েছিল। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘কারও মৃত্যু নিয়ে সরাসরি বাজি ধরা’ নিষিদ্ধ। কালশির দাবি, যুদ্ধের ওপর বাজি ধরার বিষয়গুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের অনিয়ন্ত্রিত এক্সচেঞ্জগুলোতে ঘটছে।
যুদ্ধের বাজি নিয়ে এই উদ্বেগের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়ে বড় এক লড়াই।
প্রথাগত গেমিং প্রতিষ্ঠানের মতো এখানে কোনো কোম্পানি বাজির দর নির্ধারণ করে না; বরং এই মার্কেটগুলো অনেকটা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো কাজ করে, যেখানে ব্যবহারকারীরা একে অপরের বিপক্ষে ভবিষ্যৎ ঘটনার ফলাফলের ওপর ‘ইভেন্ট কন্ট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে বাজি ধরেন।
এই কাঠামোর কারণেই জাতীয় আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশনের’ (সিএফটিসি) ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করছে।
তবে সমালোচকদের মতে, এগুলো মূলত খেলাধুলা ও জুয়ার প্রতিষ্ঠান। প্রথাগত গেমিং কোম্পানিগুলোর মতো কড়া নিয়মকানুন ও কর এড়াতে তারা নিজেদের আর্থিক এক্সচেঞ্জ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে।
কে এই অ্যাপগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডজনখানেক আইনি লড়াই চলছে। রাজ্যগুলো এখন দাবি করছে, এগুলোকে সিএফটিসির হাতে না রেখে সাধারণ জুয়া প্রতিষ্ঠানের মতো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
এমনকি কিছু রিপাবলিকান নেতাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রথাগত গেমিং প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের লবিং জোরদার করেছে। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা মিক মুলভানিকে নিয়োগ করেছে ওয়াশিংটনে তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য।
আর্থিক সংস্কার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘বেটার মার্কেটস’-এর সিকিউরিটিজ পলিসি ডিরেক্টর বেন শিফরিন বলেন, ‘কেউ বলছে না যে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। অঙ্গরাজ্যগুলো এবং অন্যান্য সমর্থকেরা বলছেন, যে বিষয়গুলো আসলে জুয়া, সেগুলোকে জুয়া হিসেবেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
ইসরায়েল, ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে ঘিরে সামরিক তৎপরতার ঠিক আগে আগে সন্দেহজনক বাজির ঘটনা এই দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা একটি আইন প্রস্তাব করেছেন, যাতে ফেডারেল কর্মকর্তাদের ইভেন্ট কন্ট্রাক্টে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়। তারা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এমন একটি ঘটনা, যেখানে পলিমার্কেটে নতুন এক জুয়াড়ি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটকের খবর সরকারিভাবে ঘোষণার ঠিক আগেই বাজি ধরে প্রায় ৫ লাখ ডলার জিতে নেন।
তাঁরা ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে লেনদেনের ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সতর্কবার্তাও দিয়েছে এবং যুদ্ধের ওপর বাজি ধরার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে চিঠি লিখেছেন। তবে এসব অ্যাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা এখনো কম।
যদিও বাইডেন প্রশাসন খেলাধুলা ও রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বাজি নিষিদ্ধ করার কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, কিন্তু আদালতে পরাজয় এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর সেই উদ্যোগ থমকে গেছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে তুলনামূলক শিথিল নীতির প্রতিশ্রুতি দেন।
গত মাসে সিএফটিসি জানিয়েছে, তারা খেলাধুলা ও নির্বাচন-সংক্রান্ত বাজি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে চলমান আইনি লড়াইয়েও তারা প্রেডিকশন মার্কেট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নিয়েছে। সিএফটিসির ট্রাম্প-নিযুক্ত চেয়ারম্যান মাইকেল সেলিগ রাজ্যগুলোর এই তৎপরতাকে ‘অতিরিক্ত কঠোর’ বলে সমালোচনা করেছেন।
তাঁর মতে, ইভেন্ট কন্ট্রাক্টগুলো ‘বৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম’ পরিচালনা করে, যা ব্যবসায়িক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করে। তিনি আরও বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে আমেরিকানরা এই পণ্যটি পছন্দ করছে এবং তারা এতে অংশ নিতে চায়।’
তবে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ম মেনে চলার ওপরও জোর দেন তিনি।
চাপের মুখে পলিমার্কেট সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরদারিতে আরও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে কালশি নিজেদের ‘নিয়ন্ত্রিত এক্সচেঞ্জ’ দাবি করে ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে লেনদেন ঠেকাতে কী করছে, তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে লেনদেনের দুটি ঘটনায় শাস্তির ঘোষণা দেয় এবং জানায়, গত এক বছরে তারা ২০০টি তদন্ত শুরু করেছে।
শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি খামেনিকে ঘিরে ৫৪ মিলিয়ন ডলারের বাজারটিও বাতিল করে দেয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা কারও মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো বাজি তালিকাভুক্ত করে না এবং তাদের নীতিমালায় তা উল্লেখ রয়েছে। ভবিষ্যতে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
তবে এই সিদ্ধান্তে অনেক ব্যবহারকারী ক্ষুব্ধ হন, স্ট্যুও তাঁদের একজন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে ওই নিয়মগুলো ‘গোপন করে রেখেছিল’ এবং পরে দেওয়া ব্যাখ্যাটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, খামেনি ক্ষমতা হারানোর ‘বাস্তবসম্মত উপায় খুব বেশি ছিল না’।
স্ট্যু শেষ পর্যন্ত নিজের অর্থ ফেরত পেয়েছেন। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণই হয়তো একমাত্র সমাধান কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তাঁর মতে, পুরো বিতর্কটি আসলে শব্দচয়নের ফাঁদে আটকে গেছে।
তাঁর ভাষায়, ‘ওরা একে কন্ট্রাক্ট ট্রেডিং বলে, প্রযুক্তিগতভাবে হয়তো সেটাই ঠিক। কিন্তু আমরা যদি সৎভাবে বলি, তাহলে এটা এখনো বাজিই।’

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার শপথ নিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে...
২ ঘণ্টা আগে
দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিল ম্যধপ্রাচ্যের দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই প্রচেষ্টা নাকচ করে দিয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যেসব সম্প্রচারমাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ বা সংবাদ বিকৃতির সঙ্গে জড়িত, তাদের লাইসেন্স নবায়নের আগে নিজেদের শুধরে নেওয়ার এটাই শেষ সুযোগ।
৪ ঘণ্টা আগে
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন একটি গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশে সহায়তা করেছিলেন।
৪ ঘণ্টা আগে