Ajker Patrika

নাম বদলে যাচ্ছে এআই–এর, তদারকিতে নতুন বাহিনী গড়লেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নাম বদলে যাচ্ছে এআই–এর, তদারকিতে নতুন বাহিনী গড়লেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে কাজ করার জন্য এক নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। বাহিনীর নাম হবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স।’ এর নেতৃত্ব দেবেন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দেন।

পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’–এর কাজ হবে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র যাতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে তা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা সমন্বয় করা।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে এআই-এর নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘artificial’ বা ‘কৃত্রিম’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে ‘নকল’ বলে মনে করায়। ট্রাম্প গত সপ্তাহে আরও বলেছিলেন, এআই-এর নিরাপত্তা তদারকির জন্য তিনি একটি বোর্ড গঠন করবেন। শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মকর্তারা তাঁর ভাষায় ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর তিনি এই ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স (মার্কিন) ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে ভোক্তা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংগঠন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরবরাহকারী এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা সমন্বয় করবে।’

টাস্কফোর্সে আরও থাকবেন—ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক প্রতিরক্ষা উপসচিব এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার। টাস্কফোর্সটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে।

প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার জন্য শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের, যার মধ্যে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের কর্মকর্তারাও রয়েছেন, ক্রমবর্ধমান চাপের পর এই ঘোষণা এল। গত ৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এআই-এর সুবিধাগুলো এর কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করে। তিনি যুক্তি দেন, প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।

অল্টম্যান মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার ‘ডিকোডেড’কে বলেন, ‘এই প্রযুক্তির সুবিধা এবং মানুষের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার জন্য পৃথিবীর কিছু খারাপ ঘটনা ঘটার বিষয় মেনে নেওয়া উচিত।’

আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মূলত এআই কোম্পানিগুলোকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, স্পেসএক্স ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের স্বাক্ষর রয়েছে।

একই দিনে প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে মার্কিন সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থাকে ‘এসআই’ এবং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহার শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি আর ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং অন্যান্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে এআই-এর পরিবর্তে এসআই ব্যবহার করা হবে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এই নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের যুক্তি, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি আরও উন্নত ধরনের ব্যবস্থাকে বোঝায়, ফলে এই নাম ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

শীর্ষ প্রযুক্তি নেতাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে নতুন নাম ব্যবহার শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বহু বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক ইলন মাস্ক। তিনি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্ম স্পেসএক্সএআই-এর নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত