Ajker Patrika

কন্যার প্লেগে মৃত্যু হয়েছে, মানতে নারাজ তরুণ রুশ বিজ্ঞানীর মা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কন্যার প্লেগে মৃত্যু হয়েছে, মানতে নারাজ তরুণ রুশ বিজ্ঞানীর মা
দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যু নিয়ে রহস্য ঘনীভূত।

রাশিয়ার ইরকুৎস্কে সন্দেহভাজন প্লেগ সংক্রমণে এক তরুণ বিজ্ঞানীর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্টটিউব ভেঙে যাওয়ার পর সংক্রমিত হয়ে মারা যান ২৮ বছর বয়সী ল্যাব টেকনিশিয়ান দারিয়া শিপিলোভা। তবে তাঁর মা এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করেছেন। রুশ কর্তৃপক্ষও পরে দারিয়ার মৃত্যুকে প্লেগ হিসেবে উল্লেখ করা বক্তব্য প্রত্যাহার করে জানিয়েছে, তিনি অজ্ঞাত কারণে হওয়া নিউমোনিয়ায় মারা গেছেন।

রাশিয়ার সাইবেরিয়ান অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন দারিয়া। গত ২ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরকুৎস্কে তাঁর দুইতলা আবাসিক ভবনে একাধিকবার জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাতে কমলা রঙের সুরক্ষা পোশাক ও গ্যাস মাস্ক পরা কর্মীরা ভবনটিতে গিয়ে রাসায়নিক দিয়ে দুই প্রবেশপথ জীবাণুমুক্ত করেন।

রাশিয়ার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোট্রেবনাদজোরের কর্মীরা স্থানীয়দের জানিয়েছিলেন, একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাইরাসে একজন মেয়ে মারা গেছে। যদিও পরে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়, ইরকুৎস্ক শহরে এ ধরনের রোগের কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি।

দারিয়ার মা স্বেতলানা শিপিলোভা একজন চিকিৎসাকর্মী। তিনি মেয়ের মৃত্যুর সঙ্গে টেস্টটিউব ভেঙে যাওয়ার গল্পকে ‘অসম্ভব’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের গবেষণাগারে ব্যবহৃত টেস্টটিউব এতটাই সুরক্ষিত থাকে যে দেয়ালে ছুড়ে মারলেও সেগুলো ভেঙে যাওয়া বা ভেতরের উপাদান ছড়িয়ে পড়া সহজ নয়।

মেয়ের মৃত্যুর পর স্বজনদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলেও জানান স্বেতলানা। ফলে মেয়েকে দাফন করতে না পারার কষ্টের কথাও বলেন তিনি। দারিয়াকে পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ হিসেবে স্মরণ করে তাঁর মা বলেন, ইরকুৎস্কের অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে চাকরি পাওয়া কঠিন হলেও দারিয়া তাঁর ইন্টার্নশিপের সময়ের কাজের দক্ষতার কারণে সেখানে সুযোগ পেয়েছিলেন।

এদিকে সাইবেরিয়ায় প্লেগের আরেকটি সম্ভাব্য সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে রাশিয়া ইরকুৎস্কে প্লেগ শনাক্ত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে।

‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’ নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয় প্লেগ। ইঁদুরসহ বিভিন্ন তীক্ষ্ণদন্ত প্রাণী এবং তাদের শরীরের মাছির মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে। প্লেগের প্রধান ধরনগুলোর একটি হলো বুবোনিক প্লেগ, যাতে জ্বরের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদনাদায়ক লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায়। নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমেও অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান এগিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে প্লেগের চিকিৎসা সম্ভব। তবে দ্রুত চিকিৎসা না হলে নিউমোনিক ও সেপটিসেমিক প্লেগ প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রোগটি বিলুপ্ত হয়নি; বিশেষ করে আফ্রিকার কিছু দেশে এখনো মানুষের মধ্যে প্লেগের সংক্রমণ ঘটে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত