Ajker Patrika

ইয়েমেনের দুই প্রদেশ থেকে আমিরাত সমর্থিতদের তাড়িয়ে দিল সৌদি সমর্থিত বাহিনী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ০৭
দক্ষিণ ইয়েমেনের মুকাল্লায় মোতায়েন সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী। ছবি: এএফপি
দক্ষিণ ইয়েমেনের মুকাল্লায় মোতায়েন সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী। ছবি: এএফপি

সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) কাছ থেকে হাজরামাউত ও আল-মাহরা গভর্নরেট পুনর্দখল করেছে। ইয়েমেনে উপসাগরীয় দুই আরব শক্তির মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। খবর আল–জাজিরার।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের শীর্ষ নির্বাহী সংস্থা প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান রশাদ আল-আলিমি শনিবার এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি সমর্থিত হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী সৌদি আরব-সংলগ্ন এই প্রদেশে ‘সব সামরিক ও নিরাপত্তা অবস্থান পুনর্দখল’ করে ‘রেকর্ড সাফল্য’ অর্জন করেছে। এর এক দিন আগে এই অভিযান শুরু হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা হাজরামাউত প্রদেশের রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর মুকাল্লা পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই শহরটি গত মাসে এসটিসি দখল করেছিল এবং সম্প্রতি সেখানে সৌদি বাহিনী হামলা চালিয়েছিল।

ইয়েমেনি সরকারি সূত্র আল–জাজিরা আরবিকে জানিয়েছে, ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় গভর্নরেট হাজরামাউতের সব জেলা এখন সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া আল-মাহরা গভর্নরেটের যুব দপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওমর সুয়াইলাম গতকাল রোববার তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে জানান, এসটিসি বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী গভর্নরেটটির ‘নয় জেলার সবগুলো’ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে ইয়েমেনে নজিরবিহীন উত্তেজনা দেখা দেয়। কারণ, ডিসেম্বরে এসটিসি বাহিনী হাজরামাউত ও আল-মাহরা দখল করে নেয়। এই দুটি প্রদেশ ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক জুড়ে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সীমান্ত আছে এই দুই প্রদেশের।

আল–জাজিরার ইয়েমেন বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আল-শালাফি বলেন, গত এক দিনে ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, ‘ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে এবং মাটিতে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে সংঘাতের সমাধান করেছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এরপর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়—ইয়েমেন সরকার সৌদি আরবে সংলাপের জন্য সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে।’

শুক্রবার থেকে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮০ জন এসটিসি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে রোববার এক এসটিসি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তার মতে, ‘১৫২ জন এসটিসি সদস্য আহত হয়েছেন এবং ১৩০ জনকে বন্দী করা হয়েছে।’ শনিবার এসটিসির এক সামরিক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ‘মুকাল্লার পশ্চিমে বারশিদ এলাকায়’ এসটিসির একটি ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক’ বিমান হামলা চালায়। তবে এসবের মধ্যেও এসটিসি সৌদি আরবের সংলাপ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা এটিকে ‘এক আন্তরিক সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ‘দক্ষিণের জনগণের আকাঙ্ক্ষা রক্ষা করতে পারে।

এদিকে, স্থানীয় সূত্র আল–জাজিরাকে জানিয়েছে—হাজরামাউতের সাইয়ুন শহরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনরায় সক্রিয় করা এবং নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে কাজকর্ম আবার শুরু হয়েছে। আল–জাজিরা আরবি জানিয়েছে, হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হাজরামাউতের গভর্নর সালেম আহমেদ সাইদ আল-খানবাশি ওয়াদি হাজরামাউতের সাইয়ুন বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন।

তবে দক্ষিণ ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকায় এখনো উত্তেজনা ও বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণ ইয়েমেনের বন্দর শহর এডেনে এসটিসির আরোপিত চলাচল সীমাবদ্ধতার অভিযোগ এনে একটি বিবৃতি দিয়েছে। সরকারের অভিযোগ, এসটিসি কিছু যাত্রীকে এডেনে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং শহরে ঢোকার চেষ্টা করা লোকজনকে আটক করছে—যাদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য আসা অসুস্থ মানুষ ও পরিবারও রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আদেনে নাগরিকদের চলাচলে এসটিসির এই নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন এবং রিয়াদ চুক্তির সরাসরি ভঙ্গ। আমরা সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে সব ধরনের চলাচল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা নিশ্চিত করছি যে রাষ্ট্র বেসামরিকদের সুরক্ষা ও চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হাজরামাউত থেকে এগিয়ে এডেনের দিকে অভিযান চালাবে, যা এসটিসির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কিছু ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধের জন্য সরকার ও সৌদি আরব একদিকে এবং এসটিসি অন্যদিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছে।

তবে অন্যান্য এলাকায় এখনো বিধিনিষেধ রয়েছে। ইয়েমেনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, তারা সোকোত্রা দ্বীপ (ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি ইয়েমেনি দ্বীপ) থেকে ও সেখানে যাওয়ার ফ্লাইট বন্ধ ও ঘুরিয়ে দেওয়ার খবর পেয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করতে যাচ্ছে সরকার

‘ভারতে বাংলাদেশের খেলতে না চাওয়া ক্রিকেটের জন্য লজ্জার’

পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনের সময় শেষ, কেমন সাড়া মিলল

আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন

‘অনৈতিক সম্পর্ক’ ফাঁস করায় নিজের কিশোরী মেয়েকে হত্যা করান বাবা— আসামির স্বীকারোক্তি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত