
নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর আবারও আলোচনায় এসেছে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা। তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এই দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৫০০ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে ভারতীয় রয়েছেন ২৮৮ জন, যাদের প্রায় সবাই তীর্থযাত্রী। তিব্বতের দিক থেকে নেমে আসা প্রবল বন্যার পানিতে রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ভারতও নেপালকে উদ্ধারকাজে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—কেন হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এই তীর্থযাত্রায় অংশ নেন? কী এমন মাহাত্ম্য রয়েছে কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরের?
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র তীর্থযাত্রা। যাত্রার মূল গন্তব্য চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত কৈলাস পর্বত (উচ্চতা ৬,৬৩৮ মিটার) এবং মানস সরোবর হ্রদ।
হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাস পর্বত হলো ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর আবাসস্থল। অপরদিকে মানস সরোবরকে এমন এক পবিত্র হ্রদ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে স্নান করলে পাপমোচন হয় এবং মোক্ষ লাভের পথ সুগম হয়।
বৌদ্ধদের কাছে কৈলাস ‘কাং রিনপোচে’ নামে পরিচিত এবং এটি আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। জৈন ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, প্রথম তীর্থংকর ঋষভদেব এখানেই মোক্ষ লাভ করেছিলেন। বন ধর্মেও পাহাড়টি সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানের মর্যাদা পেয়ে এসেছে।
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। হিন্দু পুরাণ, বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ও জৈন ঐতিহ্যে এই তীর্থের উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর প্রায় দুই দশক এই যাত্রা বন্ধ ছিল। পরে ১৯৮১ সালে দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে এটি পুনরায় চালু হয়। এরপর কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালে তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু হয়।
ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা মূলত তিনটি রুট ব্যবহার করে কৈলাস-মানস সরোবর পৌঁছান। একটি হলো—লিপুলেখ পাস (উত্তরাখণ্ড)
এটি ভারতের সরকারি তীর্থপথ। যাত্রা শুরু হয় দিল্লি থেকে। এরপর আলমোড়া, ধারচুলা ও গুঞ্জি হয়ে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতার লিপুলেখ পাস অতিক্রম করে তিব্বতে প্রবেশ করতে হয়।
এই যাত্রা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগম যৌথভাবে পরিচালনা করে। আগে দীর্ঘ ট্রেকিং করতে হলেও সাম্প্রতিক সড়ক উন্নয়নের ফলে সীমান্ত পর্যন্ত গাড়িতে যাওয়া অনেক সহজ হয়েছে।
দ্বিতীয় পথটি হলো—নাথু লা পাস (সিকিম)। এই পথ তুলনামূলকভাবে কম কষ্টকর। দিল্লি থেকে গ্যাংটক, এরপর নাথু লা পাস হয়ে গাড়িতে তিব্বতে প্রবেশ করা যায়। ট্রেকিং কম হওয়ায় বয়স্ক তীর্থযাত্রীদের কাছে এটি জনপ্রিয়। তবে পুরো যাত্রা শেষ করতে সাধারণত ২০ দিনের বেশি সময় লাগে।
তৃতীয় পথটি হলো—কাঠমান্ডু (নেপাল) রুট। সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নমনীয় পথ হলো নেপালের কাঠমান্ডু হয়ে যাওয়া। তীর্থযাত্রীরা কাঠমান্ডু থেকে নেপালগঞ্জ বা সিমিকট এবং পরে হিলসা হয়ে তিব্বতে প্রবেশ করেন। অনেক বেসরকারি ট্যুর অপারেটর এই রুটে হেলিকপ্টার সুবিধাও দিয়ে থাকে, ফলে কঠিন পাহাড়ি ট্রেকিং অনেকটাই এড়ানো যায়।
তবে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই নেপাল রুটই।
কৈলাস-মানস সরোবরের বেশির ভাগ পথই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায়। সেখানে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। ফলে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।
এর পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের মোকাবিলা করতে হয়—হিমাঙ্কের কাছাকাছি তাপমাত্রা, হঠাৎ তুষারপাত ও বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা, দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং সীমিত চিকিৎসা ও উদ্ধারসুবিধা।
সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো কৈলাস পর্বতকে ঘিরে ৫২ কিলোমিটারের পরিক্রমা (কোরা)। এই পথে প্রায় ৫ হাজার ৬৩০ মিটার উচ্চতার দোলমা লা পাস অতিক্রম করতে হয়, যা পুরো যাত্রার সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপ হিসেবে পরিচিত।
প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেন। অনেকের কাছে এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, জীবনের সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক সাধনা।
হিন্দু ধর্মমতে, একবার কৈলাস পর্বত প্রদক্ষিণ করলে বহু জন্মের পাপ মোচন হয়। মানস সরোবরের জলকেও পবিত্র বলে মনে করা হয়। বহু তীর্থযাত্রী সেই জল দেশেও নিয়ে আসেন। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীরাও এটিকে আত্মশুদ্ধি ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন।

বিশ্বজুড়ে অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসার নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে আসার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এর আওতায় অবৈধ অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কার, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং নানা কারণে
৩২ মিনিট আগে
বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় ১৯৯৫ সালে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক বসনীয় সার্ব সামরিক কমান্ডার র্যাটকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
৩৬ মিনিট আগে
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে পৌঁছেছে। এখনো ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ, যাঁদের মধ্যে শত শত বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী শহর, গ্রাম...
১ ঘণ্টা আগে
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং শত শত পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নেপাল ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে