Ajker Patrika

নেপালে ভ্রমণ এখন কতটা নিরাপদ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নেপালে ভ্রমণ এখন কতটা নিরাপদ
ছবি: এএফপি

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং শত শত পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নেপাল ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। নিখোঁজ মানুষদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের শত শত পর্যটক রয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রাসুয়া জেলা ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয় অঞ্চলে সম্ভাব্য হিমবাহ ধস বা আকস্মিক প্রবল জলপ্রবাহের কারণে এ বিপর্যয় ঘটে। ভুটেকোশি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম, সেতু, সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো পানির তোড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ি নদীতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশাল জলরাশি ঘরবাড়ি ও সেতু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

নেপাল টুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী—বিভিন্ন ট্রেকিং ও ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে অন্তত ৬৪৪ পর্যটক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭৮ জন ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া ১২৭ জন নেপালি পর্যটক, ৬৫ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যায়নি।

অনেক ভারতীয় পর্যটক হিন্দু ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরের উদ্দেশে এই অঞ্চল দিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হিমালয়প্রেমী ট্রেকারদের কাছেও এলাকাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

উদ্ধারকাজে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। কয়েক ডজন পর্যটককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় হেলিকপ্টার ও অন্যান্য মাধ্যমে জরুরি খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং কাউন্টি এলাকায় বন্যা, ভূমিধস এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে এখনো প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।

তবে কোনো দেশই এখনো নেপালে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেয়নি। ফলে যারা নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ, আবহাওয়া ও সড়ক পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নেওয়া এবং দুর্গত পার্বত্য অঞ্চল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হিমালয়ের দুর্গম ট্রেকিং রুটে ভ্রমণ বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত