Ajker Patrika

প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন বাফেট, বললেন—সময় সব সময়ই জয়ী হয়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০৭
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন বাফেট, বললেন—সময় সব সময়ই জয়ী হয়
ওয়ারেন বাফেট। ছবি: সিএনএন

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ১৯৭০ সাল থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত বছরের শেষ দিকে দীর্ঘ কয়েক দশকের দায়িত্ব শেষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদও ছাড়েন ৯৬ বছর বয়সী বাফেট।

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিএনএন জানায়, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব এখন তাঁর ছেলে হাওয়ার্ড বাফেটের হাতে যাচ্ছে। ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তবে ওয়ারেন বাফেট পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ছেন না; তিনি ‘ইমেরিটাস চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন।

‘ওরাকল অব ওমাহা’ নামে পরিচিত বাফেট মূল্যভিত্তিক বিনিয়োগের দর্শন অনুসরণ করে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়েকে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য বছরে গড়ে প্রায় ১৯ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা সামগ্রিক বাজারের প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বর্তমানে ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার।

আজ শুক্রবার শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বাফেট জানান, নতুন সিইও গ্রেগ অ্যাবেল তাঁর প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছেন—এ কারণেও তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে বয়সের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের এক বছর বয়সী প্রপৌত্রের সঙ্গে তুলনা করে বাফেট লেখেন, তাঁর প্রপৌত্র এখন ‘তাঁর চেয়ে একটু দ্রুত’ চলাফেরা করে। তিনি আরও লেখেন, ‘সময় সব সময়ই জয়ী হয়।’

গ্রেগ অ্যাবেল বাফেটের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, বার্কশায়ার ও এর মালিকদের ওপর তাঁর প্রভাব আমেরিকার ব্যবসায়িক ইতিহাসে অতুলনীয়।

বাফেট তাঁর বিপুল সম্পদের বড় অংশ দাতব্য কাজে ব্যয় করেছেন। ২০১০ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের সঙ্গে তিনি ‘দ্য গিভিং প্লেজ’ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বের ধনীদের অন্তত অর্ধেক সম্পদ দাতব্য কাজে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। ২০২৫ সালের এক চিঠিতে বাফেট জানান, তাঁর মৃত্যুর পর ৯৯ শতাংশের বেশি সম্পদ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

বিলাসী জীবনযাপনের পরিবর্তে সাধারণ জীবনযাপনের জন্যও বাফেট পরিচিত। ১৯৫৮ সালে ৩১ হাজার ৫০০ ডলারে কেনা ওমাহার একই বাড়িতে জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন তিনি।

১৯৫১ সালে বাবার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন বাফেট। ১৯৫৬ সালে নিজস্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গড়েন। ১৯৬২ সালে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ার কেনা শুরু করেন এবং ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি বিমা, রেলপথ, পোশাক ও খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত