Ajker Patrika

আলিপুরদুয়ার থেকে মোদির ‘মিশন বেঙ্গল’, নজর বাংলাদেশে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে একটি জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই
পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে একটি জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার থেকে বিজেপির ‘মিশন বেঙ্গল’ শুরু করেছেন। মূলত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে এই প্রচার শুরু হলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সফরের মাধ্যমে মোদি প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্রতি একটি কড়া বার্তা দিতে চান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশের জন্য আলিপুরদুয়ারকে বেছে নিয়েছেন, যা বাংলাদেশের সীমান্তের খুব কাছে। রাজ্য বিজেপির সূত্র বলছে, বৃহস্পতিবারের (২৯ মে) এই সভার স্থান নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলিপুরদুয়ারের অবস্থান কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি হাসিমারা বিমানঘাঁটির কাছাকাছি, যা সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতে ভারতের বিমানশক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনে ব্যবহৃত হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে ভারত তার সামরিক সক্ষমতার একটি ইঙ্গিত দিতে চাইছে। এটি বাংলাদেশের জন্যও একটি সামরিক ও রাজনৈতিক সিগন্যাল।

আরও একটি কারণ হলো, আলিপুরদুয়ার ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেন নেক’-এর অংশ। এটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সিকিম ও উত্তর-পূর্বের সেভেন সিস্টার্সের একমাত্র স্থলপথ। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক দুর্বলতা ভারতের জন্য সব সময় উদ্বেগের। আর এখানেই আসে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ—গত মার্চ মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের বেইজিং সফরের সময় একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গিয়েছিল। তাই ভারতের এই সীমান্তে মোদির এ সফরকে সেই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সভায় মোদি তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীত, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ আটকে রাখা ও অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থান শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন। তবে, তাঁর ভাষণের অন্তর্নিহিত লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সঙ্গে ‘চীনের ঘনিষ্ঠতা’ নিয়ে ভারতের অস্বস্তির ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি দুটি নির্বাচনে ভালো ফল করলেও সেগুলো খুব বড় জয় না। দলের রাজ্য নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং শুভেন্দু অধিকারীর ওপর নির্ভরতাও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ভাগ্য খুব বেশি বদলাতে পারেনি। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি উত্তরবঙ্গে ৩০টি আসন পেলেও, গত কয়েক বছরে পাঁচটি আসন তৃণমূলে চলে গেছে। তাই মোদি চান এই অঞ্চলে বিজেপির প্রভাব ফিরিয়ে আনতে।

মোদি এই সফরের পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির বড় প্রচারণার ঘোষণা দেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মোদির আলিপুরদুয়ারের সভা ‘বাংলাদেশকে ভারতের শক্তি দেখানোর’ একটি বার্তা।

জনসভার আগে, মোদি কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার জন্য ১ হাজার ১০ কোটি রুপির বেশি মূল্যের একটি গ্যাস প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আড়াই লাখেরও বেশি পরিবার গ্যাস পাবে ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তবে কলকাতার মতো বড় শহরের পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গের দুটি দূরবর্তী জেলাকে বেছে নেওয়া এই অঞ্চলের ভৌগোলিক গুরুত্বকেই তুলে ধরে। এর মাধ্যমে বিজেপি কলকাতার দিকেও নিজেদের পথ তৈরি করতে চাইছে, যেখান থেকে নজর রাখা যাবে বাংলাদেশেও।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

অভিবাসন ও সুবিধা বাড়িয়ে বিশ্বসেরা মেধাবীদের নিয়ে যেতে চায় কানাডা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ছবি: সংগৃহীত
কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন বিশ্বসেরা গবেষকদের আকর্ষণে বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থ ছাঁটাই ও নীতিগত চাপের কারণে আমেরিকান অনেক গবেষক যখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন, ঠিক তখনই নতুন তহবিল ও অভিবাসন কাঠামো ঘোষণার মাধ্যমে গবেষকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে কানাডা।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রয়টার্স জানিয়েছে, অটোয়ার ঘোষিত ১.৭ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের এই পরিকল্পনার লক্ষ্য আগামী এক দশকে হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক গবেষককে কানাডায় নিয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য কয়েকজন গবেষক যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে কানাডায় যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন এমআইটির খ্যাতনামা কানাডীয় অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট সারা সিগার, যিনি আগামী সেপ্টেম্বর থেকে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।

সারা সিগার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান গবেষণায় বাজেট সংকোচন এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণেই তিনি কানাডায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

টরন্টো, আলবার্টা, ম্যাকমাস্টার এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মতো কানাডার বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জানিয়েছে—সরকার ঘোষিত নতুন অর্থায়ন তাদেরকে বৈশ্বিক মানসম্পন্ন গবেষক ও প্রফেসর নিয়োগে সহায়তা করবে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই জলবায়ুবিজ্ঞান থেকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে ১০০ নতুন পোস্ট ডক্টরাল পজিশন ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অর্থ সংকটের মুখে। এমআইটি-এর প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে অনেক গবেষণা প্রকল্প কমিয়ে আনতে হয়েছে বা স্থগিত করতে হয়েছে।

এদিকে, নতুন নীতির অংশ হিসেবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসাধারী বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য দ্রুত ভিসা সুবিধা চালু করছে। ২০২৬ সাল থেকে দেশটিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট কোটা থেকেও বাদ দেওয়া হবে এবং তাঁদের ভিসা প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে ১৪ দিন করা হবে।

তবে চ্যালেঞ্জও আছে। অতীত অভিজ্ঞতার পরিসংখ্যান বলছে, কানাডায় উচ্চশিক্ষিত অভিবাসীদের প্রায় অর্ধেকই পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশটি ছেড়ে যান। মূলত কম বেতন ও সীমিত সুযোগের কারণেই তাঁদের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায়।

তারপরও বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থিরতার এই সময়টি কানাডার জন্য ‘একটি ঐতিহাসিক সুযোগ’—যার সদ্ব্যবহার করলে দেশটি আগামী দশকে বৈশ্বিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের শক্ত কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ইউরোপে জব্দ করা রুশ সম্পদ ইউক্রেনকে দেওয়ার চুক্তি শিগগির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১: ৩১
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) লন্ডনে ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) লন্ডনে ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনকে সহায়তা করতে ইউরোপে আটকে থাকা রাশিয়ার প্রায় ১০০ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আশা করছে, কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) লন্ডনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। এই বৈঠকে ভবিষ্যতে যুদ্ধরত ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, জব্দ করা রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ ইউক্রেনের পুনর্গঠনে ব্যবহার করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এই সম্পদের মধ্যে শুধু যুক্তরাজ্যের ব্যাংকেই প্রায় ৮ বিলিয়ন পাউন্ড রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে জেলেনস্কি বলেন—ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইউক্রেন টিকে থাকতে পারবে না। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা সহায়তা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপ নিয়ে ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনাটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।

কিয়ার স্টারমার বলেন, ইউক্রেন ইস্যু এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে’ দাঁড়িয়ে আছে এবং ইউরোপকে আরও কঠোরভাবে কূটনৈতিক চাপ ও সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও জানান, যে কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি হতে হবে ‘ন্যায়সংগত ও স্থায়ী’।

তবে রাশিয়ার জব্দ সম্পদ ইউক্রেনকে দেওয়ার প্রশ্নে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেলজিয়াম। এই দেশটিতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রুশ সম্পদ গচ্ছিত আছে। কিন্তু রুশ সম্পদ মুক্তির বিষয়ে আইনি ও আর্থিক ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে কিছু আপত্তি জানিয়েছে দেশটির সরকার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর প্রস্তাবিত হালনাগাদ করা শান্তি প্রস্তাবনাটি ভালো করে পড়েই দেখেননি জেলেনস্কি। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওই প্রস্তাবে পুতিন রাজি আছেন।

তবে ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য ও তাদের মিত্ররা এই অবস্থানে এখনো অটল আছে যে, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র ইউক্রেনেরই এবং কোনো শান্তিচুক্তির বিনিময়ে রাশিয়াকে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া হবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

রুশ দখলের দাবি মিথ্যা—পোকরভস্কে ইউক্রেনের পতাকা উড়িয়ে জানাল সেনারা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পোকরভস্ক শহরে ইউক্রেনের পতাকা ওড়াচ্ছেন সেনারা। ছবি: বিবিসি
পোকরভস্ক শহরে ইউক্রেনের পতাকা ওড়াচ্ছেন সেনারা। ছবি: বিবিসি

পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর পোকরভস্ক নিয়ে লড়াই এখনো চলছে। অথচ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, শহরটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেন বলছে, পুতিনের ওই দাবি সত্য নয়। শহরের উত্তরাংশ এখনো তাদের হাতে রয়েছে এবং তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, পোকরভস্ক শহরটি দীর্ঘ সময় ধরে ইউক্রেনীয় সেনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রসদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু গত প্রায় ১৮ মাস ধরে এই শহরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে এবং শহরটি এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

বিবিসি আরও জানায়, একটি কমান্ড পোস্টে ড্রোন ফিড দেখে শহরটির রুশ অবস্থানে আঘাত হানতে রেডিওর মাধ্যমে নির্দেশ দিচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা। স্কালা অ্যাসল্ট রেজিমেন্টের কমান্ডার ইউরি সাংবাদিকদের একটি ড্রোন ফুটেজে দেখিয়েছেন, তাদের সৈন্যরা এখনো শহরের উত্তর অংশে ইউক্রেনের পতাকা ওড়াচ্ছে। ইউরি বলেন, ‘আমরা আমাদের ভূমি এভাবে ছেড়ে দেব না। যদি আমরা প্রতিরোধ না দেখাই, বিশ্ব আমাদের প্রতি আস্থা হারাবে।’

২৫ বছর বয়সী ইউক্রেনের এক ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সাশা। একটি মানচিত্রে প্লাস্টিকের খেলনা সৈন্য বসিয়ে তিনি দেখালেন—কোথায় ইউক্রেনের বাহিনী এখনো অবস্থান করছে, আর কোথায় রুশ বাহিনী অগ্রসর হয়েছে। তিনি জানান, রুশ সেনারা কখনো কখনো ছদ্মবেশে, দুই থেকে চারজনের দলে আড়াল-আবডালে সামনে এগোনোর চেষ্টা করছে।

রুশ বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও তাদের লোকবল এখনো বেশি। ‘র‍্যাবিট’ নামে পরিচিত এক ইউক্রেনীয় সৈন্য নিহত রুশদের নথিপত্র দেখিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদের অনেককে মেরে ফেলেছি। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়।’

সহযোদ্ধাদের কাছে ‘ঘোস্ট’ নামে পরিচিত আরেক সৈন্য জানালেন, পরিস্থিতি চাপের হলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি রাশিয়ার পোকরভস্ক শহর দখলের দাবিকে একটি ‘মিথ্যা প্রচারযুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্মুখ সমরে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক এখন ড্রোন। ‘খোতাবিচ’ ছদ্মনামে পরিচিত ইউক্রেনের আরেক সেনা জানিয়েছেন, রুশ ড্রোনগুলোতে থার্মাল ক্যামেরা আছে, যা রাতেও লক্ষ্যভেদ করতে পারে। তাই তাদের জন্য কুয়াশা, বৃষ্টি—এগুলোই ‘ভালো আবহাওয়া’। কারণ এমন আবহাওয়ায় ড্রোন ওড়ানো কঠিন হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, এখনো পুরোপুরিভাবে পোকরভস্কের পতন হয়নি এবং ইউক্রেন এখনো তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। শহরটিতে ইউক্রেনের যেসব সৈন্য লড়ছে—তারা এখন যুদ্ধেই মনোযোগী। শান্তি আলোচনার প্রশ্নে তাদের বেশির ভাগই নীরব। ইউক্রেনের হয়ে সেখানে লড়াইরত এক লাটভিয়ান স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘যদি ইউক্রেন হেরে যায়, তাহলে পরের লক্ষ্য হবে আমাদের দেশ।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

আফগান সীমান্তে উত্তেজনা: এবার টিটিপির হামলায় ৬ পাকিস্তানি সেনা নিহত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পাকিস্তান থেকে বিতাড়িত আফগান শরণার্থীরা সীমান্ত পার হয়ে আসার সময় একজন তালেবান নিরাপত্তাকর্মী পাহারা দিচ্ছেন। ছবি: এএফপি
পাকিস্তান থেকে বিতাড়িত আফগান শরণার্থীরা সীমান্ত পার হয়ে আসার সময় একজন তালেবান নিরাপত্তাকর্মী পাহারা দিচ্ছেন। ছবি: এএফপি

উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ছয়জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এ হামলা আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সোমবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার কুররাম জেলায় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায়। এর ফলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, মোট ছয়জন সেনা শহীদ হয়েছেন এবং চারজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি লড়াইয়ে দুজন জঙ্গিও নিহত হয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

প্রায় দুই দশক ধরে ইসলামাবাদ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা টিটিপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা তালেবান টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে এবং দাবি করে, এটি পাকিস্তানের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।

গত অক্টোবরে এক সপ্তাহের লড়াই এবং গোলাগুলির ফলে প্রায় ৭০ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছিল। কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় আফগান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা এখনো রয়ে গেছে এবং আন্তসীমান্ত হামলা অব্যাহত থাকায় সংঘর্ষ লেগেই আছে।

আফগানিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত শুক্রবার সীমান্ত ক্রসিংয়ে গোলাগুলিতে চার বেসামরিক নাগরিক এবং একজন সেনা নিহত হন।

সম্প্রতি লক্ষাধিক আফগান শরণার্থীকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। সীমান্ত সংঘর্ষ ছাড়াও এ বিষয়টিও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পদোন্নতির ডাক পেলেন শেখ হাসিনার সাজা প্রত্যাখ্যান করা শিক্ষক মাসুদ রানা

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত