Ajker Patrika

চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাল গাছে চড়ায় পটু পিং পিং আর খাবার খোঁজায় দক্ষ ফু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৩৭
চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাল গাছে চড়ায় পটু পিং পিং আর খাবার খোঁজায় দক্ষ ফু
এই উড়োজাহাজেই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় পৌঁছাল চীনের দুই পান্ডা। ছবি: সিএনএন

চীনের ‘পান্ডা কূটনীতি’র দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা চিড়িয়াখানায় পৌঁছেছে দুটি জায়ান্ট পান্ডা। পুরুষ পান্ডাটির নাম পিং পিং আর স্ত্রীটির নাম ফু শুয়াং। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু থেকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফেডএক্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রায় ১৬ ঘণ্টার যাত্রা শেষে তারা আটলান্টায় পৌঁছায়।

সিএনএন জানায়, হামফ্রিস-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দুটি বড় কাঠের বাক্সে করে পান্ডা দুটিকে বিশেষ নিরাপত্তায় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়। পুলিশি পাহারায় বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে তাদের নতুন আবাসে পৌঁছানো হয়।

তবে আপাতত দর্শনার্থীরা পান্ডা দুটিকে দেখতে পারবেন না। আটলান্টা চিড়িয়াখানার নতুন জায়ান্ট পান্ডা কমপ্লেক্সের জীবাণু-নিরাপদ এলাকায় প্রায় এক মাস তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। চীনের কয়েকজন পশুচিকিৎসক ও পান্ডা প্রজনন বিশেষজ্ঞও এ সময় আটলান্টায় অবস্থান করবেন।

চিড়িয়াখানার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেমন্ড বি কিং বলেন, পিং পিং ও ফু শুয়াংকে স্বাগত জানাতে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। পান্ডা দুটির জন্য গত এক বছর ধরে আবাসস্থল সংস্কার করা হয়েছে। বড় পরিসরের ঘের, পর্যাপ্ত বাঁশ ও অভিজ্ঞ পরিচর্যাকারী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

২০২৪ সালে আটলান্টা চিড়িয়াখানায় থাকা চারটি পান্ডাকে চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে চিড়িয়াখানাটির সঙ্গে চীনের ২৫ বছরের পান্ডা চুক্তির অবসান ঘটে। নতুন এই জোড়া পান্ডার আগমন তাই যুক্তরাষ্ট্রে পান্ডা উপস্থিতির ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

পিং পিংয়ের জন্ম ২০২০ সালের ১৭ মার্চ। চীনা ভাষায় তার নামের অর্থ ‘শান্তি’। সে সাহসী ও শান্ত স্বভাবের এবং গাছে চড়তে বিশেষ পটু। ফু শুয়াংয়ের জন্ম একই বছরের ১৮ অক্টোবর। তার নামের অর্থ ‘দ্বিগুণ আশীর্বাদ’। সে মধু খুব পছন্দ করে এবং খাবার খুঁজে পেতে দক্ষ।

চেংদুর জায়ান্ট পান্ডা প্রজনন গবেষণাকেন্দ্র বয়স, স্বাস্থ্য, জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব বিবেচনা করে তাদের নির্বাচন করেছে। ভবিষ্যতে তাদের স্বাভাবিকভাবে প্রজননের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

চীনের জন্য পান্ডা শুধু একটি প্রাণী নয়; এটি কূটনীতিরও প্রতীক। ১৯৭২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রে পান্ডা পাঠানোর মাধ্যমে এই সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। গত কয়েক দশকে চীন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক জোরদারে পান্ডাকে ‘বন্ধুত্বের দূত’ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও পান্ডা বিনিময় দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি নরম মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ২০২৪ সালে সান দিয়েগো ও ওয়াশিংটনেও নতুন করে চীনা পান্ডা পাঠানো হয়েছিল।

পিং পিং ও ফু শুয়াংয়ের চেংদু ছাড়ার আগে তাদের পরিচর্যাকারী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জন্মের সময় মাত্র ১০০ গ্রামের কিছু বেশি ওজনের পান্ডা দুটিকে বড় করেছেন তাঁরা। তিনি বলেন, নিজের সন্তানদের বড় করার মতোই ছিল তা। দীর্ঘদিন তাদের দেখতে না পাওয়ার কথা ভেবে বিদায়টা তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত