Ajker Patrika

৪৭ বছর পর সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় নাম কাটা গেল সিরিয়ার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
৪৭ বছর পর সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় নাম কাটা গেল সিরিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা অপসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানায়, ১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এতদিন তালিকায় সিরিয়ার সঙ্গে ইরান, কিউবা ও উত্তর কোরিয়াও ছিল। গত জুলাইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার এই মর্যাদা প্রত্যাহারের ইচ্ছার কথা কংগ্রেসকে জানান। এরপর কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক ৪৫ দিনের পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হলো।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিরিয়ার জনগণকে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ায় নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে সহায়ক হবে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আল নুসরা ফ্রন্টকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেওয়া একটি পদবিও প্রত্যাহার করেছে। সংগঠনটি ২০১৬ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং পরে ২০১৭ সালে হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) সঙ্গে একীভূত হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সিরীয় সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে সিরিয়া সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর এইচটিএস-এর সাবেক নেতা আহমাদ আল-শারা সিরিয়ার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর সরকারের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনরায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।

মঙ্গলবার এক ভাষণে আল-শারা বলেন, সিরিয়া আজ অতীতের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে উন্নয়ন, পুনর্গঠন ও নতুন করে দেশ গড়ার পথে যাত্রা শুরু করেছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সিরিয়া পুনর্গঠনে প্রায় ২১৬ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সিদ্ধান্ত বিদেশি বিনিয়োগের পথ আরও সহজ করলেও অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনো দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত