Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের নিন্দায় সরব রাশিয়া, নীরব চীন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের নিন্দায় সরব রাশিয়া, নীরব চীন

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সরাসরি সশস্ত্র আগ্রাসনের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মাদুরোকে অপহরণ করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।

মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন যে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডিকে জোরপূর্বক দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এ পরিস্থিতির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করছি।’ রাশিয়া মনে করে, আদর্শিক শত্রুতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে, যার কোনো বাস্তবসম্মত ভিত্তি নেই।

এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকায় রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হওয়ায় মস্কো এ সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছে।

তবে রাশিয়ার উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদের বিপরীতে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার ও ঋণদাতা দেশ চীন এখন পর্যন্ত বিস্ময়করভাবে নীরব রয়েছে।

চীন ভেনেজুয়েলার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। বিশ্লষকদের মতে, বেইজিং সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়িয়ে নিজেদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না।

ভেনেজুয়েলান বিশ্লেষক কার্লোস পিনার মতে, চীন সম্ভবত পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা সরাসরি সামরিক ভাষা ব্যবহারের বদলে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান খুঁজতে আগ্রহী হতে পারে। তবে মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বেইজিংয়ের বিশাল অঙ্কের ঋণের গ্যারান্টি দেবে কি না, তা নিয়ে চীনের ভেতরে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

মাদুরোর আটকের খবরে আরও কিছু দেশ তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধের’ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা শত্রুর কাছে নতিস্বীকার করব না।’ তিনি এ ঘটনাকে মার্কিন ‘গুন্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন।

কলাম্বিয়া ও চিলি—ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর লাতিন আমেরিকার দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক বলেছেন, ‘আমরা শক্তির ব্যবহার এবং এই সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানাই।’

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেন, ‘একতরফা সামরিক অভিযান পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বেসামরিক জনগণের ঝুঁকি বাড়াবে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন—ইইউ প্রতিনিধি কাজা ক্যালাস সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইইউ।

ব্রিটেন—ব্রিটিশ রাজনীতিক নাইজেল ফারাজ এ পদক্ষেপকে ‘অপ্রথাগত’ বললেও মনে করছেন, এটি রাশিয়া ও চীনকে একটি কড়া বার্তা দেবে।

বেলারুশ—ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মাদুরো সরকারের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে বেলারুশ। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘সন্ত্রাসী আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

অন্যদিকে জার্মানির কনজারভেটিভ খ্রিষ্টিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের সংসদ সদস্য রডেরিখ কিজেভেটার বলেন, এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালের পর গড়ে ওঠা নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে পরিত্যাগ করছে।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও চ্যাথাম হাউসের মার্ট ওয়েলার বলেন, ‘জাতিসংঘের অনুমোদন বা আত্মরক্ষার পরিস্থিতি ছাড়া বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।’ তাঁর মতে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত