Ajker Patrika

‘ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র’— ট্রাম্পের মন্তব্যের পরদিনই রুবিওর ইউটার্ন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ৫৫
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা চালাবে। কিন্তু তাঁর এ কথার পুরো উল্টো পথে হাঁটলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গতকাল রোববার রুবিও ইঙ্গিত দেন, ‘তেল কোয়ারেন্টাইন’ ছাড়া ভেনেজুয়েলার দৈনন্দিন শাসনব্যবস্থার আর কিছুতে নাক গলানোর ইচ্ছে নেই যুক্তরাষ্ট্রের।

বলা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার শাসন পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় পদক্ষেপ আবার দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি হস্তক্ষেপ বা ব্যর্থ ‘ন্যাশন-বিল্ডিং’-এ রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কা প্রশমিত করতে রুবিও এমন বক্তব্য রেখেছেন।

তবে রুবিওর এই বক্তব্য ট্রাম্পের আগে দেওয়া ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প বলেছিলেন, সাময়িক সময়ের জন্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’।

সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে রুবিও এই ‘ইউটার্ন’ করা বক্তব্য ব্যাখ্যা করে বলেন, মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আগে যেসব নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ‘তেল কোয়ারেন্টাইন’ জারি ছিল, সেগুলো অব্যাহত থাকবে এবং সেই চাপকেই ভেনেজুয়েলায় নীতিগত পরিবর্তন আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।

রুবিও আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যখন এমন কথা বলেন, তখন তিনি আসলে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণের কথাই বোঝান। আমরা ওই কোয়ারেন্টাইন বজায় রাখছি, এবং আমরা আশা করছি, এর ফলে শুধু তেল শিল্পটি জনগণের স্বার্থে পরিচালিত হওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, মাদক পাচার বন্ধের দিকেও পরিবর্তন আসবে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ এখনো বহাল আছে এবং এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী চাপের উপায়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ সবার আগে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার জনগণকে একটি ভালো ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যায় এমন পরিবর্তন না দেখা পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে।’

গত শনিবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলা ‘চালাবেন’ বলে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এবং এতবার বলেন যে এ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে উদ্বেগ এবং তাঁর নিজ দল রিপাবলিকানদের একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি দেখা দেয়। ইরাক ও আফগানিস্তানে অতীতের ‘ন্যাশন-বিল্ডিং’ প্রচেষ্টার কথা মনে করে পর্যবেক্ষকেরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এসব সমালোচনা নাকচ করে রুবিও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আবদ্ধ এক ‘পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠানের’ কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ভুলভাবে বোঝা হয়েছে।

রুবিও আরও বলেন, ‘পুরো পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো মনে করে সবকিছুই লিবিয়া, সবকিছুই ইরাক, সবকিছুই আফগানিস্তান। এটা মধ্যপ্রাচ্য নয়। এখানে আমাদের মিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটা পশ্চিম গোলার্ধ।’

বর্তমানে যারা মাদুরোর অধীনস্থ ছিলেন এবং এখন ক্ষমতায় আছেন, তাদের শাসন পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা সময় দেবে বলে জানান রুবিও। তিনি বলেন, ‘তাঁরা কী করে, সেটার ভিত্তিতেই আমরা সবকিছু বিচার করব। আমরা দেখব তারা কী করে।’

আর ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করলেও, রুবিও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফোর্স পোস্টচার’ মাদকবাহী নৌকা ও নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকার ঠেকাতে সক্ষম।

গত শনিবার ভোরে এক অভিযানে রাজধানী কারাকাসের একটি সামরিক ঘাঁটির ভেতরে থাকা নিজ বাসভবন থেকে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। পরে শনিবার বিকেলের শেষ দিকে নিউইয়র্ক সিটির উত্তরাঞ্চলীয় উপশহরের একটি ছোট বিমানবন্দরে মাদুরোর অবস্থান জানা যায়।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটনে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সাঁজোয়া গাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) কার্যালয়ে নিয়ে যায়। হোয়াইট হাউসের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হাস্যোজ্জ্বল মাদুরোকে দুই ডিইএ এজেন্ট তাঁর দুই বাহু ধরে ওই কার্যালয়ের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত