Ajker Patrika

পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগ, ইসরায়েলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪৭
পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগ, ইসরায়েলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা
গত জুনে পশ্চিমতীরের দুরা শহরের কাছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া কাঁদানে গ্যাস থেকে ফিলিস্তিনি ভূমি মালিক, সাংবাদিক ও বিক্ষোভকারীরা দৌড়ে পালাচ্ছেন। ছবি: এএফপি

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নিধন’ চলছে এবং এতে ইসরায়েল সরকারের নীরব সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। একই সঙ্গে পশ্চিমতীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর যে নিপীড়ন চলছে, তার বাস্তবতা স্বীকার করাই ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য এখন আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের পুরো দখলদারত্বকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করবে। এর আগে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বললেও পুরো দখলদারত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেনি।

মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিমতীরের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপনকারী ‘সন্ত্রাসীরা’ ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। ইসরায়েল সরকার অনেক ক্ষেত্রে এতে চোখ বন্ধ করে রেখেছে এবং সরকারের কিছু সদস্য ফিলিস্তিনিদের জোর করে উচ্ছেদে সমর্থনমূলক বক্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি মিলিব্যান্ডের বক্তব্যকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ সরকার পরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কাজ করছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আরও ১১টি দেশ (কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন) ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মিলিব্যান্ড জানান, অবৈধ বসতি স্থাপনে অর্থায়ন বা সহায়তাকারীরাও ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবেন। এ-সংক্রান্ত আইন আগামী ৯ মাসের মধ্যে কার্যকর করার প্রত্যাশা করছে সরকার।

পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা, বিশেষ করে জেরুজালেমের পূর্ব দিকে ‘ই-১’ প্রকল্প, ব্রিটেনের পদক্ষেপকে আরও জরুরি করে তুলেছে বলে জানান মিলিব্যান্ড। তাঁর মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমতীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, যা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে হুমকিতে ফেলবে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র রপ্তানিতেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মিলিব্যান্ড। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যে ৩০টির বেশি অস্ত্র লাইসেন্স স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। এখন দখলদারত্বে সরাসরি সহায়ক অস্ত্র ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির নতুন লাইসেন্সও দেওয়া হবে না।

তবে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেননি মিলিব্যান্ড। আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়াকে সমর্থনের ঘোষণা দেন।

মিলিব্যান্ড বলেন, ইসরায়েলের জনগণের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক অটুট; তাদের বিরোধ ইসরায়েলি জনগণের সঙ্গে নয়, বরং সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। তিনি নিজেকে ‘গর্বিত ব্রিটিশ ইহুদি’ উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় অধিকার—দুটির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তাঁর মতে, উভয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই স্থায়ী নিরাপত্তার একমাত্র পথ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত