Ajker Patrika

এমএলএ বাগিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা বিরোধীদের, বিজয়ের দলের বিধায়কদের গণপদত্যাগের হুমকি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ১১: ২২
এমএলএ বাগিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা বিরোধীদের, বিজয়ের দলের বিধায়কদের গণপদত্যাগের হুমকি
থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নাটক তুঙ্গে উঠেছে। সাবেক অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সতর্ক করে বলেছে, যদি দুই দ্রাবিড় দল—এমকে স্টালিনের দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) এবং এদাপ্পাদি কে পালানিস্বোয়ামীর অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) নিজেরা সরকার গঠনের চেষ্টা করে, তাহলে ডিএমকের প্রতিটি বিধায়ক (এমএলএ) পদত্যাগ করবেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে। ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শিবিরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই টিভিকে থেকে এমন হুঁশিয়ারি এল। টিভিকের সন্দেহ, সরকার গঠনের জন্য দুই দল নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করছে এবং সবচেয়ে বেশি জনসমর্থন পাওয়া দলটিকে বাইরে রেখে ক্ষমতার সমীকরণ সাজাতে চাচ্ছে।

১০৭টি আসনে জয় পাওয়া টিভিকের যুক্তি, একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ তাদেরই পাওয়া উচিত। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের গভর্নর আর ভি আরলেকার থালাপতি বিজয়কে সরকার গঠনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর বক্তব্য, টিভিকের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই। বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের যে রূপরেখা পেশ করেছিলেন, সেটিও তিনি গ্রহণ করেননি।

সূত্র জানায়, দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো হওয়া বৈঠকটি শেষ হয় গভর্নরের এই অবস্থানে অনড় থাকার মধ্য দিয়ে। গভর্নর বারবার বলছেন, বিজয়কে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র দেখাতে হবে।

রাজভবনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গভর্নর ব্যাখ্যা করেছেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন, যা তামিলনাড়ু বিধানসভায় অপরিহার্য, তা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। ইতিমধ্যে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস, যাদের পাঁচজন বিধায়ক রয়েছে। বাকি আসনের জন্য বাম দল ও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সূত্র জানিয়েছে, টিভিকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে গতকাল ডিএমকে একটি বৈঠক করেছে, যেখানে চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর একটি হলো দলীয় প্রধান এমকে স্টালিনকে ‘জরুরি সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া। এ বিষয়ে ডিএমকে বলেছে, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য আরেকটি নির্বাচন এড়ানো, একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করা এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির জন্য কোনো সুযোগ না রাখা।’

সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবকে ‘জটিল সংকট’ আখ্যা দিয়ে ডিএমকে তাদের সব বিধায়ককে ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাইয়ে অবস্থান করতে বলেছে। তবে ডিএমকের শীর্ষ সূত্র এনডিটিভিকে নিশ্চিত করেছে, এমন একটি পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে যেখানে ই পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এবং বাইরে থেকে তাঁকে সমর্থন দেবে ডিএমকে।

ডিএমকের তরুণ নেতৃত্বের একটি অংশ, বিশেষ করে উদয়ানিধি স্টালিনের ঘনিষ্ঠমহল আশঙ্কা করছে, বিজয় একবার ক্ষমতায় এলে তিনি হয়ে উঠতে পারেন এমজি রামাচন্দ্রনের (এমজিআর) মতো এক প্রভাবশালী নেতা, যাকে নিকট ভবিষ্যতে ক্ষমতা থেকে সরানো প্রায় অসম্ভব হবে। কিংবদন্তি এমজিআর জীবিত থাকা পর্যন্ত ডিএমকেকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তবে এমকে স্টালিনসহ দলের প্রবীণ নেতারা এখনো এই সমীকরণে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন বলে সূত্র জানিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, বহু দশক ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করা দুটি দল যদি একই নৌকায় উঠে পড়ে, তাহলে জনমনে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

এআইএডিএমকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দলটি তাদের বিধায়কদের আপাতত অপেক্ষা করতে বলেছে। দলের একটি অংশ টিভিকের সঙ্গে জোটে আগ্রহী হলেও জ্যেষ্ঠ নেতারা তা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় ৪৫ জনের বেশি বিধায়ক পালানিস্বামীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তিনি বিধায়কদের বলেন, টিভিকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই মুহূর্তে জোট গঠনের প্রশ্নই আসে না। এআইএডিএমকে তাদের বিধায়কদের আরও দুই দিন শান্ত থাকতে ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলেছে।

গভর্নরের অবস্থান টিভিকের সম্ভাব্য মিত্রদেরও ক্ষুব্ধ করেছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (সিপিআই) তামিলনাড়ু শাখা গভর্নরকে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। দলটি বলেছে, শপথ অনুষ্ঠানের আগেই বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলা ‘অনুচিত’।

এক বিবৃতিতে সিপিআই বলেছে, ‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে টিভিকেকে অবশ্যই গভর্নরের কাছ থেকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে তারা বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এস আর বোম্মাই মামলাসহ একাধিক রায়ে এই নীতিকে সমর্থন করেছে।’

এদিকে, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) প্রধানও বলেছেন, বিজয় যেহেতু রাজ্যের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে এসেছেন, তাই তিনি অন্যদের সমর্থন চাইতেই পারেন এবং বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের পর তাঁকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘গভর্নর টিভিকেকে সমর্থন করা ব্যক্তিদের তালিকা চাইতে পারেন না।’ তিনি বলতে পারেন না, ‘কে আপনাকে সমর্থন করছে? ১১৮ জনকে নিয়ে এসে আমাকে দেখান, তারপর শপথ অনুষ্ঠানে আসুন।’

টিভিকে ডিএমকের কাছ থেকেও সমর্থন পেয়েছে। বিদায়ী সরকারি দলটি গভর্নরের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘জনরায়ের প্রতি অসম্মান’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অভিনেতা কমল হাসানও বিজয়ের পক্ষে কথা বলেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার ভাগ-বণ্টন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর সরকারি কর্মচারীর আত্মহত্যা

এমএলএ বাগিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা বিরোধীদের, বিজয়ের দলের বিধায়কদের গণপদত্যাগের হুমকি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী: শুভেন্দু প্রায় নিশ্চিত, পেতে পারেন দুই ডেপুটি

সড়কে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই মামলা

র‍্যাবের তালিকা: খুলনায় ৩৩ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত