
ইরান উপকূল ও হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকেরা জীবনসংকটে পড়ে জরুরি সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন। ওই অঞ্চলে শুধু তাঁদের ওপরই মার্কিন হামলা হচ্ছে বলে দাবি করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভুক্তভোগী ভারতীয় নাবিকেরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত ভারতীয় নাবিকেরা দাবি করছেন, তাঁরা এই যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে আটকা পড়েছেন এবং একের পর এক মার্কিন হামলার কারণে বিপজ্জনক ও অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে একজন ভারতীয় নাবিককে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এই মুহূর্তে ইরানে আছি এবং এখানকার পরিস্থিতি খুব খারাপ। শুধুমাত্র ভারতীয় নাবিক থাকা জাহাজগুলোর ওপরই হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যের লড়াইয়ের মধ্যে কেন আমাদের জড়ানো হচ্ছে? আমরা কোনো সামরিক বাহিনীর সদস্য নই। আমরা চুক্তিবদ্ধ সাধারণ নাবিক, যাঁরা বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে এবং তেল সরবরাহ সচল রেখে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছি।’
যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মতো কোনো সামরিক প্রশিক্ষণ তাঁদের নেই উল্লেখ করে ওই নাবিক আরও বলেন, ‘আমরা কোনো সৈন্য নই। আমরা চুক্তির ভিত্তিতে শুধু কাজ করতে আসি। তাহলে কেন আমাদের ওপর হামলা হচ্ছে? আমাদের অপরাধটা কী?’
ওই নাবিক জানান, সম্প্রতি ওমান উপকূলে হামলার শিকার হওয়া একটি জাহাজে তিনি আগে কাজ করেছিলেন। ওই হামলায় ইতিমধ্যে ৩ জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ওমান উপকূলে যে জাহাজটিতে হামলা হয়েছে, আমি এক সময় সেখানে কাজ করেছিলাম। আমি ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, ওমান উপকূলে একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র এসে তাঁদের জাহাজে আঘাত হেনেছে।’
আরেকজন নাবিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ১৩ লাখের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত। কিন্তু বর্তমানে এই সংকটে আমাদের আকুতি কেউ শুনছে না।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৮ জুন পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি মারিভেক্স’ নামে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত একটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। হামলার পরপরই জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে সেটি ডুবতে শুরু করে। ওই জাহাজের সব ক্রু ছিলেন ভারতীয়। হামলার পর তাঁরা একটি জরুরি বার্তা পাঠান। কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো ওই বার্তায় তাঁরা ‘দয়া করে আমাদের বাঁচান’ বলে আকুতি জানান।
তবে শুধু একটি নয়, গত এক সপ্তাহে ওমান উপকূলের কাছে বেশ কয়েকটি তেল ট্যাংকারে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। প্রায় সবগুলো জাহাজেই ভারতীয় নাবিক ছিলেন। এর মধ্যে একটি হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এ ছাড়া ২৪ জন ভারতীয় ক্রু থাকা আরেকটি জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই ২৪ নাবিককে উদ্ধার করে ওমান কোস্টগার্ড।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত ওই জাহাজের ক্রু মেম্বারদের পাঠানো বার্তাটি ছিল এ রকম—‘মার্কিন নৌবাহিনীর হামলা, আমাদের ইঞ্জিনের রুমে ক্ষেপণাস্ত্র লেগেছে। নিচের অংশে ফুটো হয়ে গেছে...২৪ জন ক্রু। সবাই ভারতীয়। দয়া করে দ্রুত সাহায্য করুন।’
গত ৮ জুন পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি মারিভেক্সে হামলার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে একটি মার্কিন এফ-১৮ ফাইটার জেট দিয়ে ওই জাহাজের ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং সিস্টেমে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। সেটিকে থামাতেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
এদিকে বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনা। তারা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার পাশাপাশি মুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে তুলছে।’
ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনায় নয়াদিল্লিও নিন্দা জানিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার (১০ জুন) ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান (শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) জেসন মিক্সকে তলব করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিদিন সকালে ১৩ বছর বয়সী জানা আল-মাতুক একাই ঘুম থেকে ওঠে। নিজের নাশতা নিজেই তৈরি করে, নিজেই কাপড় ধোয় পরিষ্কার করে এবং স্কুলের জন্য প্রস্তুত হয়। কিছুদিন আগেও এসব ছোটখাটো কাজ তার মা করে দিতেন। কিন্তু ইসরায়েলি এক সর্বগ্রাসী হামলার পর সব বদলে গেছে।
১৭ মিনিট আগে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গতকাল রোববার জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকা থেকে ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনার পর তারা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ এমন পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনার জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো উপায়। গতকাল রোববার ভোরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন...
২ ঘণ্টা আগে
গিনির রাজধানী কোনাক্রির সবচেয়ে বড় বর্জ্য ফেলার স্থানে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গতকাল রোববার রাতভর ভারী বৃষ্টির পর বিবেসিয়া...
২ ঘণ্টা আগে