Ajker Patrika

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা করছে সিরিয়া—স্বীকার করলেন আল-শারা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা করছে সিরিয়া—স্বীকার করলেন আল-শারা
গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সিরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগ এগিয়ে চলছে। তাঁর আশা, সম্ভাব্য এই নিরাপত্তা চুক্তি ভবিষ্যতে একটি বিস্তৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে।

সম্প্রতি আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন আল-শারা।

সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতা হলেও গোলান মালভূমির বিষয়ে সিরিয়ার অবস্থানে পরিবর্তন আসবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার নীতি অনুসরণ করছে। একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত সমাধানের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।’

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আহমেদ আল-শারা ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় একাধিকবার সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

সাক্ষাৎকারে আল-শারা স্পষ্ট করে বলেন, ‘প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই।’ এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা নাকচ করে দেন তিনি। তিনি জানান, লেবাননের চলমান সংকট মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করছে দামেস্ক।

বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। কয়েক মাস ধরে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। একই সঙ্গে লেবানন সরকার দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং দেশের সব ধরনের অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

আল-শারা বলেন, ‘লেবাননে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ ও শান্তি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের একমাত্র কর্তৃত্ব লেবাননের হাতে থাকা উচিত। এ অবস্থানের প্রতি সিরিয়ার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। লেবাননের সংকটের সমাধান শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিয়ে সম্ভব নয়। এ জন্য বহুমাত্রিক সমস্যার একটি সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘লেবাননে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তার তাৎক্ষণিক ও সরাসরি প্রভাব সিরিয়ার ওপর পড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ যদি পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত হয়, তাহলে ভয়াবহ আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরি হবে।’

দেশের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আল-শারা বলেন, ‘শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই হবে না। একই সঙ্গে সিরিয়াকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকেও বাদ দিতে হবে। অন্যথায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না।’

কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) নিয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরেন আল-শারা।

উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণকারী কুর্দি ও আরব সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এই জোটের সঙ্গে সরকারের যে অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে তিনি বলেন, সরকার এখনো ওই চুক্তির প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শেষ পর্যন্ত এটি সফল হবে বলেই তাদের বিশ্বাস।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে বিশেষ কমিটি

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়েও নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আল-শারা। তিনি বলেন, ‘২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলা যুদ্ধে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে কাজ করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।’

জাতিসংঘের হিসাবে, ওই যুদ্ধ চলাকালে প্রায় এক লাখ মানুষকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছিল। তবে সিরিয়ার ন্যাশনাল কমিশন অন মিসিং পারসন্সের ধারণা, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা তিন লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

আল-শারা জানান, এই কমিটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কাজ করবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করবে তারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত