Ajker Patrika

ইতালিতে নিজ বাড়িতে বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, বেঁচে গেছেন একমাত্র ছেলে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ১২: ২৩
ইতালিতে নিজ বাড়িতে বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, বেঁচে গেছেন একমাত্র ছেলে
নিহত কামাল উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী আরজু ও তাঁদের কন্যা আলিসিয়া। ছবি: লা রিপাবলিকা

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় কাসালোত্তি এলাকায় একই বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী গৃহকর্তা কামাল উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাঁদের ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তান আলিসিয়া।

এই ভয়াবহ সহিংসতা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন দম্পতির ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলে অনিয়ন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহত হলেও বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

পুলিশের তদন্তকারী দল এখন ঘাতককে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ঘাতক এই পরিবারের পূর্বপরিচিত এবং সম্ভবত তাঁদেরই কোনো স্বদেশি। ঘটনাস্থলটি ছিল কামালের নিজেদের ঘর (ভায়া মন্তিমিও)। ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের কোনো লক্ষণ না থাকায় পুলিশ ধারণা করছে, পরিচিত কেউ হওয়ায় ভুক্তভোগীরা নিজেই তাঁর জন্য দরজা খুলে দিয়েছিলেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮ বছর বয়সী অনিয়ন পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি অভিযুক্তকে চিনতে পেরেছেন। তাঁরা দুজন একই সুপার মার্কেট চেইনে কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার পর নীল রঙের একটি শার্ট পরিহিত অবস্থায় অভিযুক্তকে হেঁটে এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।

রোম পুলিশের স্কোয়াড্রে মোবিলের প্রধান রবার্তো জুসেপ্পে পিতিত্তোর নেতৃত্বে এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফরেনসিক দল ভায়া মন্তিমিও এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং বৈজ্ঞানিক আলামত সংগ্রহ শুরু করে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অ্যাম্বুলেন্স, তবে চিকিৎসকেরা জানান ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র বেঁচে যাওয়া অনিয়ন বর্তমানে তীব্র মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ আশা করছে, তাঁর দেওয়া বিস্তারিত জবানবন্দি ঘাতককে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে মূল ভূমিকা পালন করবে।

কাসালোত্তি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় গভীর আতঙ্ক ও শোক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া প্রবাসীদের অনেকেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড বিশ্বাস করতে পারছেন না।

নিহত কামালের কাজিন হোসনে আরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আজ বিকেলেই আরজুর সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়েছিল। কামাল ১৫ বছর আগে ইতালিতে এসেছিলেন। আর মাত্র তিন বছর আগে তাঁর পরিবার বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে যোগ দেয়। কী থেকে কী হয়ে গেল, আমরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না।’

রোম পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতককে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ইতালির জাতীয় দৈনিক লা রিপাবলিকা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত