Ajker Patrika

গাজায় তীব্র শীতে ৬ শিশুর মৃত্যু, দেয়াল ধসে নিহত আরও ৫

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৪৫
গাজায় ইসরায়েলি হামলা চলছেই। এই অবস্থায় দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে শীতকালী বৃষ্টি ও বন্যা। ছবি: অনাদোলু
গাজায় ইসরায়েলি হামলা চলছেই। এই অবস্থায় দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে শীতকালী বৃষ্টি ও বন্যা। ছবি: অনাদোলু

গাজায় ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ধসে পড়ে অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও তীব্র ঠান্ডায় প্রাণ হারিয়েছে আরও অন্তত ছয় শিশু। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েলের ‘গণহত্যামূলক’ যুদ্ধে এই ভবনগুলো আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং ত্রাণের স্বল্পতার কারণে গাজায় বিপজ্জনক জীবনযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, ঘন ঘন শীতকালীন ঝড় মোকাবিলা করার জন্য ফিলিস্তিনিদের কাছে প্রয়োজনীয় আশ্রয়ের ব্যাপক অভাব রয়েছে।

মঙ্গলবার ঝোড়ো আবহাওয়ায় যারা মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে দুজন নারী, একজন মেয়ে এবং একজন পুরুষ রয়েছেন বলে গাজা সিটির বৃহত্তম আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে আরও বেশ কয়েকজন শিশু ও বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, গত রাতে হাইপোথারমিয়ায় (অত্যধিক ঠান্ডা) আক্রান্ত হয়ে এক বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আল জাজিরা আরবি জানিয়েছে, তীব্র শীত এবং অপর্যাপ্ত আশ্রয়ের কারণে সোমবার রাতে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে গাজায় ইউনিসেফের কর্মকর্তা জেমস এল্ডার জানিয়েছে, হাইপোথারমিয়ায় অন্তত ‘ছয়’ শিশু মারা গেছে।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় মোতায়েন করা তাদের সেনাদের কাছাকাছি ছয়জনকে দেখা গেলে মঙ্গলবার তাদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। এতে পশ্চিম রাফাহতে অন্তত দুজন নিহত হন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার শত শত তাঁবু এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রবল বাতাসে উড়ে গেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজা সিটির ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় একটি ৮ মিটার (২৬ ফুট) উঁচু দেয়াল তাঁবুর ওপর ধসে পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্য—৭২ বছর বয়সী মোহাম্মদ হামুদা, তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি এবং তাঁর পুত্রবধূ নিহত হন।

আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নতুন করে তাঁবু তৈরির কাজ শুরু করেন। জানাজা শেষে বাসেল হামুদা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘বিশ্ব আমাদের মৃত্যুর সব রূপ দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এটা ঠিক যে বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে, কিন্তু আমরা গাজা উপত্যকায় মৃত্যুর সম্ভাব্য প্রতিটি কারণ প্রত্যক্ষ করেছি।’

আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, শহরের পশ্চিম অংশে তাঁবুর ওপর দেয়াল ধসে আরও এক নারী নিহত হয়েছেন। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল গাজার জনগণের জন্য এই ঝড়ের ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং ভূখণ্ডে পণ্য প্রবেশের ওপর চলমান বিধিনিষেধের ফলে গাজার অধিকাংশ মানুষ পর্যাপ্ত আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে।

গাজার অধিকাংশ ফিলিস্তিনি এখন অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে। কারণ, যুদ্ধের সময় তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যখনই ঝড় আঘাত হানে, ফিলিস্তিনি উদ্ধারকর্মীরা লোকজনকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ভেতরে আশ্রয় না নিতে সতর্ক করেন। কারণ, সেগুলো ধসে পড়ার ভয় থাকে। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতি চলাকালে গাজায় পর্যাপ্ত আশ্রয় সরঞ্জাম প্রবেশ করছে না।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, তারা এবং তাদের সহযোগীরা গাজাজুড়ে তাঁবু, তারপুলিন, কম্বল ও পোশাকের পাশাপাশি পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর সামগ্রী বিতরণ করছে। তবে ইসরায়েল গত ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা এবং আশ্রয়ের জন্য জরুরি সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় ত্রাণ সহায়তা দিতে ব্যর্থ হওয়াটা দুঃখজনক। তারা আরও বলেছে, ক্রমবর্ধমান মৃত্যু এবং রোগের বিস্তার প্রমাণ করে যে ভূখণ্ডটি ‘গণহত্যার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ অনুভব করছে।’

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র বলেছেন, পুরো উপত্যকার হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে শিশুরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে তারা সহায়তার জন্য শত শত কল পেয়েছেন। তিনি জানান, ঝড়ে অনেক আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং পশ্চিম গাজা সিটিতে শক্তিশালী বাতাসে অনেক তাঁবু সম্পূর্ণ উড়ে গেছে।

গাজার ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ শাওয়া আল জাজিরাকে বলেছেন, শীতকালীন ঝড় শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমান পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি জানান, গাজার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবার এই ঝড়ের ফলে বিপদ এবং নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শাওয়া আরও বলেন, গাজায় পণ্য প্রবেশের ওপর ইসরায়েলের বিধিনিষেধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আশ্রয় ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রাপ্তিতে বাধা দিচ্ছে, যা সাহায্য সংস্থাগুলোর কাজকে ব্যাহত করছে এবং গাজার ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে।

গাজা সিটির মেয়র ইয়াহিয়া আল-সাররাজ আল জাজিরাকে বলেন, উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা ‘মর্মান্তিক’ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়েছেন। তারা অপর্যাপ্ত তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, যার অনেকগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সেই সঙ্গে অসুস্থ বা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধও নেই। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান যাতে ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করতে পারে এবং ফিলিস্তিনিরা তাদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাহরাইনের বাসায় অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ইসিকে ব্যবস্থা নিতে বলল বিএনপি

মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনটি শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

অবৈধ আয়কে ‘মায়ের দান’ উল্লেখ করেন সওজ প্রকৌশলী, দুদকের চার্জশিট

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আইডি কার্ড চালু করল সরকার, আবেদন ফ্রি

অনুসন্ধান ও তদন্তের জট কাটাতে দুদকে ১৫টি বিশেষ টাস্কফোর্স

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত