Ajker Patrika

ফরাসি নারীকে পাকিস্তানে ১২ বছর বন্দী করে রেখেছিলেন স্বামী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ২০: ২০
ফরাসি নারীকে পাকিস্তানে ১২ বছর বন্দী করে রেখেছিলেন স্বামী
ফরাসি নারী সিলভি ইয়াসমিনা। ছবি: বিবিসি

পাকিস্তানে ফ্রান্সের এক নারীকে ১২ বছর ধরে বন্দী রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। বুধবার (২৪ জুন) বিবিসি জানিয়েছে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের দুর্গম শহর বারায় পুলিশের অভিযানে ওই নারী ও তাঁর পাঁচ সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সিলভি ইয়াসমিনা নামের ৫৪ বছর বয়সী ওই ফরাসি নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর পাকিস্তানি স্বামী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ও সন্তানদের শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। তিনি পুলিশকে বলেছেন, স্বামী প্রতিদিনই তাঁদের ওপর সহিংস আচরণ করতেন এবং কার্যত পুরো পরিবারকে বন্দী করে রেখেছিলেন।

ঘটনাটি ফাঁস হয় যখন ওই নারীর এক ছেলে গোপনে বাড়ি থেকে বের হয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে সক্ষম হয়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বাড়িটিতে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে তারা ইয়াসমিনা ও তাঁর সন্তানদের একটি ছোট এবং জরাজীর্ণ কক্ষে আটকে থাকতে দেখে।

পুলিশ জানিয়েছে, বন্দী করে রাখা সদস্যদের শরীরজুড়ে নির্যাতনের চিহ্ন ও আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে।

উদ্ধারের পর ইয়াসমিনা ও তাঁর সন্তানদের পেশোয়ারের একটি নারী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, তাঁরা শিগগির ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

ইয়াসমিনার দাবি, ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে পাকিস্তানে আসার পর থেকেই তাঁদের স্বাধীনতা কেড়ে নেন স্বামী। এর পর থেকে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর বড় দুই সন্তান লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া ছোট তিন সন্তানকে কখনো স্কুলে ভর্তি করা হয়নি।

পুলিশ এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে বসবাস করার সময় ইয়াসমিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ২০০৩ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন। পরে দুই বড় সন্তানকে নিয়ে পাকিস্তানে চলে আসেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে ইয়াসমিনা বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আমার স্বামী একজন স্বামী ও সন্তানের পিতা হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করা উচিত ছিল, তা করেননি। তিনি প্রতিদিন আমাদের মারধর করতেন এবং জীবনে অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করতেন।’

ইয়াসমিনা আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল, আমার নিজের ভবিষ্যৎ ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে আর এভাবে চলতে থাকলে আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎও ধ্বংস হয়ে যাবে।’ বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত