Ajker Patrika

‘রোমান্স ফ্রড বিলিয়নিয়ার’ চেন ঝিকে হাতে পেল চীন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
প্রিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান চেন ঝি। ছবি: সংগৃহীত
প্রিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান চেন ঝি। ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তর্দেশীয় অপরাধচক্রের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত ‘রোমান্স ফ্রড বিলিয়নিয়ার’ চেন ঝিকে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশ চীনে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র গত বছর তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার তিন মাসের মাথায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে কম্বোডিয়া।

চেন ঝিকে ‘রোমান্স ফ্রড বিলিয়নিয়ার’ বলা হয় মূলত তাঁর অপরাধ সাম্রাজ্যের একটি বড় অংশ রোমান্স স্ক্যাম বা প্রেমের প্রতারণা থেকে গড়ে ওঠার অভিযোগের কারণে। ‘রোমান্স ফ্রড’ হলো এমন এক ধরনের অনলাইন প্রতারণা, যেখানে প্রতারকেরা ভুয়া পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং অ্যাপ বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে মানুষের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিশ্বাস তৈরি হওয়ার পর তাঁরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় করে—কখনো চিকিৎসা ব্যয়, কখনো ব্যবসায় বিনিয়োগ, কখনো ভিসা বা জরুরি বিপদের কথা বলে।

চেন ঝির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর নিয়ন্ত্রিত ‘প্রিন্স গ্রুপ’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে—বিশেষ করে কম্বোডিয়া ও আশপাশের দেশগুলোতে এই ধরনের অনলাইন প্রতারণার বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত। হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে জোর করে বা প্রতারণার মাধ্যমে এসব স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। তাঁরা পশ্চিমা দেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের সঙ্গে ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নিত।

মূলত কম্বোডিয়ায় অবস্থান করে প্রতারণা, মানবপাচার ও অর্থপাচারের একটি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন চেন ঝি, যার আনুমানিক মূল্য ৪৭ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি। ২০১৪ সাল থেকে তিনি কম্বোডিয়ার নাগরিকত্ব ভোগ করলেও গত ডিসেম্বর সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মাসব্যাপী যৌথ তদন্ত ও সহযোগিতার পর মঙ্গলবার চেনকে গ্রেপ্তার করে চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।

চেন ঝি ও তাঁর মালিকানাধীন প্রিন্স গ্রুপ অন্তত ২০২০ সাল থেকে চীনা অপরাধ তদন্তের আওতায় ছিল। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’-এর মাধ্যমেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে বেইজিং মধ্যস্থতা করার এক সপ্তাহের মধ্যেই চেনকে চীনে প্রত্যর্পণের ঘটনা ঘটল।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, লন্ডনেও দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন চেন। তাঁর মালিকানাধীন আইল অব ম্যানের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত বছর অভিযান চালায় ব্রিটিশ পুলিশ। তবে সেই দিনই তিনি যুক্তরাজ্য ছেড়ে যান। তাঁর সাবেক সহযোগী ক্লিফ টিও জানান, চীনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতেই লন্ডনে থাকতে শুরু করেছিলেন চেন।

জাতিসংঘের হিসাবে, কম্বোডিয়ায় এক লাখের বেশি পাচারকৃত শ্রমিক প্রতারণামূলক কল সেন্টার ও স্ক্যাম কার্যক্রমের নির্মম পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে সড়কপথে জয়শঙ্করের ৪০০ মাইলের রুদ্ধশ্বাস যাত্রা, নেপথ্য কাহিনি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: মূল নকশার বাইরে চারটি র‍্যাম্প নির্মাণের ভাবনা

ওয়াশিংটন সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, যা আলোচনা হলো মার্কিনদের সঙ্গে

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

পাবনা ১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত