Ajker Patrika

ট্রাম্পের সাহস থাকলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাক: ইরানের চ্যালেঞ্জ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ট্রাম্পের সাহস থাকলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাক: ইরানের চ্যালেঞ্জ
পারস্য উপসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ। ছবিটি কয়েক বছর আগের তোলা। ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবি নাকচ করেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সাহস থাকলে’ পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠিয়ে দেখতে পারে সেটার কী পরিণতি হয়। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি আইআরজিসি নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এর ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প কি বলেননি যে—তিনি ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছেন? তাহলে সাহস থাকলে তিনি তাঁর জাহাজ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠাতে পারেন।’

নাইনি দাবি করেন, ইরান এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩ হাজার ৬০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘শত্রু’ যখন ইরানের সামরিক শক্তি ও সামাজিক প্রতিরোধক্ষমতা স্বীকার করবে, তখনই যুদ্ধ শেষ হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা আগ্রাসীকে শাস্তি দিতে চাই এবং শত্রুর ওপর আমাদের ভারী ও বিধ্বংসী হামলা অব্যাহত রাখব।’

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ন্যাটো মিত্রদের কাছে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। একই সময়ে জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের আহ্বান মেনে হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না বা কোনো জাহাজকে এসকর্ট দেবে না।

স্থানীয় সময় গতকাল রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের কাছে সহায়তা চাওয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি দাবি করছি—এই দেশগুলো এগিয়ে এসে নিজেদের এলাকা রক্ষা করুক। কারণ, এটি তাদেরই এলাকা। এখান থেকেই তারা জ্বালানি পায়। যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে আমাদের হয়তো সেখানে থাকারই প্রয়োজন নেই, কারণ আমাদের এটার দরকার নেই। আমাদের কাছে প্রচুর তেল আছে।’

এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিতে নৌবাহিনী পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা টোকিওর নেই। তিনি বলেন, ‘এসকর্ট জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। জাপান স্বাধীনভাবে কী করতে পারে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে কী করা সম্ভব, তা আমরা পর্যালোচনা করছি।’

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যায়, সেটি রক্ষায় মিত্রদের সহায়তা চাইতে ট্রাম্পের চাপ অব্যাহত থাকার মধ্যেই এই মন্তব্য এল। ইরান কার্যত সরু এই প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে। তাকাইচি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন ডিসি সফরে যেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথরিন কিংও জলপথটি খোলা রাখতে ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বানের পর এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি এবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের কাছে যে অনুরোধ এসেছে, সে অনুযায়ী আমরা কী অবদান রাখছি, তা আমরা খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে—বিশেষ করে ওই এলাকায় অবস্থানরত অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের কথা বিবেচনায়—প্রতিরক্ষায় সহায়তার জন্য বিমান সরবরাহ করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমরা হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ পাঠাব না। বিষয়টির গুরুত্ব আমরা জানি। এটি এমন কিছু নয় যা আমাদের কাছে চাওয়া হয়েছে বা আমরা দিচ্ছি।’

অপরদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন। জবাবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি মার্চের শুরু থেকেই তারা কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত