Ajker Patrika

কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারে ইরানের হামলা, ভারতীয় শ্রমিক নিহত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারে ইরানের হামলা, ভারতীয় শ্রমিক নিহত
কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারে ইরানি হামলায় এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ছবি: আল জাজিরা

ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় এক ভারতীয় শ্রমিকও নিহত হয়েছেন। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় স্থাপনার একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ ঘিরে যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠছে, তখনই এই ঘটনা ঘটল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার এক বিবৃতিতে কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানায়, ‘কুয়েত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে একটি বিদ্যুৎ ও পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টের সার্ভিস ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এতে এক ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ভবনটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার পরপরই প্রযুক্তিগত ও জরুরি সাড়া দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামলার ফলে প্ল্যান্টটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কুয়েত সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মালিক ট্রেইনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কুয়েত বারবার হামলার শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যাতেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশসীমায় ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোন একটি সামরিক শিবিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে ১০ জন সেনাসদস্য আহত হন।’ তিনি আরও জানান, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তারা চিকিৎসা পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলা শুরুর পর থেকেই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব হামলায় ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং অন্তত ২১৬ শিশু রয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা আঞ্চলিক দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিও অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখবেন, যার সময়সীমা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। জবাবে ইরান জানিয়েছে, তাদের স্থাপনায় হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে। এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের মতো পানি সংকটপূর্ণ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ পানি অবকাঠামোর ভঙ্গুরতাও স্পষ্ট করে তুলেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত