আজকের পত্রিকা ডেস্ক

জাতিসংঘের আইন ভেঙে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোর করে বাংলাদেশ-মিয়ানমারে অনিরাপত্তার মধ্যে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষাবিষয়ক অধিকার লঙ্ঘন করে তাদের নির্বিচার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে নির্বাসিত করে আসছে। এই সময়ের মধ্যে শত শত রোহিঙ্গাকে নির্বিচার আটক করা এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
মে মাসে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে বহিষ্কার অভিযান শুরু হয়। এরপর ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত অন্তত ১৯২ জন রোহিঙ্গাকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ৪০ জন রোহিঙ্গাকে একটি জাহাজে করে মিয়ানমারের উপকূলে নিয়ে গিয়ে সাঁতরে তীরে উঠতে বাধ্য করা হয়। এই বর্বর নির্যাতন থেকে বাঁচতে আরও কয়েক ডজন রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরে সম্প্রতি ভারত থেকে আসা নয়জন রোহিঙ্গা পুরুষ ও নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের ওপর হামলা করেছে এবং তাঁদের টাকা, মোবাইল ফোন ও ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধন কার্ড কেড়ে নিয়েছে। অন্য তিনজন পুলিশি হুমকির মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
গোয়ালপাড়া জেলায় আটক হওয়া ৩৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা নারী জানিয়েছেন, ৬ মে রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা বন্দুকের মুখে তাঁর স্বামী, তিন সন্তানসহ তাঁকে বাংলাদেশে ঢুকতে বাধ্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী যখন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমাদের কোনো টাকা নেই এবং এলাকা চিনি না, কোথায় যাব, তখন তাঁরা তাকে এত জোরে থাপ্পড় মারেন যে, এখনো ঠিকমতো সে শুনতে পায় না। আর কোনো কথা বললে তারা আমাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।’
দিল্লিতে আটক ৪০ জন মুসলিম ও খ্রিষ্টান রোহিঙ্গাকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে একটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে উঠতে বাধ্য করা হয়। জাহাজের ক্রুরা তাঁদের মারধর করেন। পরে জাহাজটি মিয়ানমারের উপকূলের কাছে পৌঁছালে তাঁদের লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নির্বাসিত করে ভারত আন্তর্জাতিক আইন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারে নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা এই শরণার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ বিজেপির নীতিকেই প্রতিফলিত করে। এই বিজেপি মুসলিমদের অবৈধ অভিবাসী মনে করে।’
যদিও ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনের অংশীদার নয়, তবু তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘নন-রিফউলেমেন্ট’ নীতি মেনে চলতে বাধ্য। এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো দেশ শরণার্থীদের এমন জায়গায় ফেরত পাঠাতে বা নির্বাসিত করতে পারে না, যেখানে তাদের জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার/দূত টম অ্যান্ড্রুস এ ঘটনাকে ‘স্পষ্টভাবে জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি অবজ্ঞা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
২০১৭ সালে বিজেপি সরকার ‘অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের’ বহিষ্কার বা নির্বাসনের নির্দেশ জারির পর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রতি ভারতের নীতি পরিবর্তন হয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রোহিঙ্গাদের নির্বাসন বন্ধের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে ‘সুন্দরভাবে সাজানো গল্প’ বলে মন্তব্য করেন। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন রোহিঙ্গারা ‘শরণার্থী’ নাকি ‘অবৈধ প্রবেশকারী’।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এই বহিষ্কার বা নির্বাসন অভিযানের কারণে ভারতে থাকা বাকি রোহিঙ্গারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা নির্বিচার আটক এবং অবৈধ বহিষ্কার ও নির্বাসন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে কাজ করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘের আইন ভেঙে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোর করে বাংলাদেশ-মিয়ানমারে অনিরাপত্তার মধ্যে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষাবিষয়ক অধিকার লঙ্ঘন করে তাদের নির্বিচার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে নির্বাসিত করে আসছে। এই সময়ের মধ্যে শত শত রোহিঙ্গাকে নির্বিচার আটক করা এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
মে মাসে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে বহিষ্কার অভিযান শুরু হয়। এরপর ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত অন্তত ১৯২ জন রোহিঙ্গাকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ৪০ জন রোহিঙ্গাকে একটি জাহাজে করে মিয়ানমারের উপকূলে নিয়ে গিয়ে সাঁতরে তীরে উঠতে বাধ্য করা হয়। এই বর্বর নির্যাতন থেকে বাঁচতে আরও কয়েক ডজন রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরে সম্প্রতি ভারত থেকে আসা নয়জন রোহিঙ্গা পুরুষ ও নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের ওপর হামলা করেছে এবং তাঁদের টাকা, মোবাইল ফোন ও ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধন কার্ড কেড়ে নিয়েছে। অন্য তিনজন পুলিশি হুমকির মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
গোয়ালপাড়া জেলায় আটক হওয়া ৩৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা নারী জানিয়েছেন, ৬ মে রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা বন্দুকের মুখে তাঁর স্বামী, তিন সন্তানসহ তাঁকে বাংলাদেশে ঢুকতে বাধ্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী যখন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমাদের কোনো টাকা নেই এবং এলাকা চিনি না, কোথায় যাব, তখন তাঁরা তাকে এত জোরে থাপ্পড় মারেন যে, এখনো ঠিকমতো সে শুনতে পায় না। আর কোনো কথা বললে তারা আমাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।’
দিল্লিতে আটক ৪০ জন মুসলিম ও খ্রিষ্টান রোহিঙ্গাকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে একটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে উঠতে বাধ্য করা হয়। জাহাজের ক্রুরা তাঁদের মারধর করেন। পরে জাহাজটি মিয়ানমারের উপকূলের কাছে পৌঁছালে তাঁদের লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নির্বাসিত করে ভারত আন্তর্জাতিক আইন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারে নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা এই শরণার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ বিজেপির নীতিকেই প্রতিফলিত করে। এই বিজেপি মুসলিমদের অবৈধ অভিবাসী মনে করে।’
যদিও ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনের অংশীদার নয়, তবু তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘নন-রিফউলেমেন্ট’ নীতি মেনে চলতে বাধ্য। এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো দেশ শরণার্থীদের এমন জায়গায় ফেরত পাঠাতে বা নির্বাসিত করতে পারে না, যেখানে তাদের জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার/দূত টম অ্যান্ড্রুস এ ঘটনাকে ‘স্পষ্টভাবে জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি অবজ্ঞা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
২০১৭ সালে বিজেপি সরকার ‘অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের’ বহিষ্কার বা নির্বাসনের নির্দেশ জারির পর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রতি ভারতের নীতি পরিবর্তন হয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রোহিঙ্গাদের নির্বাসন বন্ধের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে ‘সুন্দরভাবে সাজানো গল্প’ বলে মন্তব্য করেন। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন রোহিঙ্গারা ‘শরণার্থী’ নাকি ‘অবৈধ প্রবেশকারী’।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এই বহিষ্কার বা নির্বাসন অভিযানের কারণে ভারতে থাকা বাকি রোহিঙ্গারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা নির্বিচার আটক এবং অবৈধ বহিষ্কার ও নির্বাসন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে কাজ করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনির সমর্থকদের কাছে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে তাঁর বিপুল বিজয় ৪০ বছরের শাসনেরই এক ধরনের স্বীকৃতি। নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৭২ শতাংশ ভোট। এটি তাঁর সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোটের কাছাকাছি। ১৯৯৬ সালে উগান্ডার প্রথম সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৭৪ শতাংশ ভোট।
২ ঘণ্টা আগে
ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারীরা নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় সুলাওয়েসি দ্বীপের পাহাড়ি অঞ্চলে পৌঁছানোর সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ওই বিমানে ১১ জন আরোহী ছিলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা শাসনের জন্য প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদে যোগ দিতে ইচ্ছুক দেশগুলোর কাছে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থ জোগানোর শর্ত দিচ্ছেন। এই অর্থের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ট্রাম্পের হাতেই। এমনটি জানা গেছে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে।
৫ ঘণ্টা আগে
গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধ বন্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রথম এই বোর্ডের কথা প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এই সংস্থাটি গাজায় ‘শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ তহবিল সংগ্রহ এবং মূলধন ব্যবস্থাপনা’ তদারকি করবে।
৫ ঘণ্টা আগে