আজকের পত্রিকা ডেস্ক

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনির সমর্থকদের কাছে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে তাঁর বিপুল বিজয় ৪০ বছরের শাসনেরই এক ধরনের স্বীকৃতি। নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৭২ শতাংশ ভোট। এটি তাঁর সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোটের কাছাকাছি। ১৯৯৬ সালে উগান্ডার প্রথম সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৭৪ শতাংশ ভোট।
এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ৮১ বছর বয়সী মুসেভেনি আবারও দাবি করছেন, ১৯৮৬ সালে মিল্টন ওবোতে সরকারের পতন ঘটিয়ে বিদ্রোহী কমান্ডার হিসেবে ক্ষমতা দখলের পরও তিনি এখনো উগান্ডার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন ধরে রেখেছেন।
তবে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক জনপ্রিয় পপ তারকা ববি ওয়াইন, এই ফলাফলকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানোর পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। মুসেভেনি মূলত তাঁর শাসনামলের অর্জনকে সামনে রেখেই প্রচারণা চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে তিনি উগান্ডায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছেন।
মুসেভেনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে উগান্ডাকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবেন। তাঁর সমর্থকদের মতে, এটি হবে তাঁর শাসনের উপযুক্ত উত্তরাধিকার। কারণ, পরের বছর তিনি তাঁর সপ্তম এবং সম্ভবত শেষ মেয়াদ শেষ করবেন। এই লক্ষ্য অর্জনে উগান্ডার নবীন তেল শিল্পকে মুসেভেনি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি বারবার বলেছেন, তেল রপ্তানি শুরু হলে অর্থনীতি দ্বিগুণ হারে বাড়বে।
মুসেভেনি অক্টোবর মাসকে প্রথম অপরিশোধিত তেল রপ্তানির লক্ষ্য সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তানজানিয়ার ভারত মহাসাগরীয় বন্দর তাঙ্গা পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে এই তেল রপ্তানি হবে। বয়সের ভার সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট নিজেকে সক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণে থাকা নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। শেষ দিকের এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি দাবি করেন, উগান্ডার ১৪০ টির বেশি নির্বাচনী আসনের প্রতিটিতেই তিনি সফর করেছেন।
তবে অক্টোবরের শুরুতে তাঁর দল হঠাৎ করেই বেশ কয়েকটি নির্বাচনী কর্মসূচি বাতিল করে। কারণ হিসেবে বলা হয় ‘রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব’, যা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মসূচিতে আরও বিরতি সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তোলে—অনেকে ক্লান্তি ও স্বাস্থ্যের অবনতির কথা বলতে শুরু করেন।
ববি ওয়াইনের জন্য এই ফলাফল ছিল বড় ধাক্কা। ২০২১ সালে যেখানে তিনি ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, এবার তা নেমে এসেছে ২৫ শতাংশে। অথচ উগান্ডার জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ—যাদের দীর্ঘদিন ধরে ৪৩ বছর বয়সী ওয়াইনের স্বাভাবিক সমর্থক বলে মনে করা হতো।
ওয়াইনের মতে, এই নির্বাচন ‘না বিশ্বাসযোগ্য, না বৈধ।’ তিনি বলেন, নির্বাচন ছিল মোটেও অবাধ ও সুষ্ঠু নয়। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী বারবার তাঁর সমাবেশ ভেঙে দিয়েছে। টিয়ার গ্যাস ও জীবন্ত গুলি ব্যবহার করে সমর্থকদের ভয় দেখানো হয়েছে, এমনকি কয়েকজন নিহতও হয়েছে। তিনি ব্যালট বাক্সে জালিয়াতির অভিযোগও তুলেছেন, তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
দুটি ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। আফ্রিকার অনেক বিরোধী নেতার মতো তাঁর অবস্থাও হতে পারে—যাদের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নে ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা ক্ষমতার বাইরে স্থায়ীভাবে ছিটকে পড়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে ওয়াইন ছিলেন উগান্ডার তরুণদের উদ্দীপনা ও অস্থিরতার প্রতীক। আর মুসেভেনি নিজেকে তুলে ধরেছেন অভিজ্ঞ অভিভাবক হিসেবে, যিনি স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেন। শেষ পর্যন্ত, বিতর্কিত সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ভোটাররা বেছে নিয়েছেন দ্বিতীয় পথটিকেই। উগান্ডার ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষেত্রে এখন অনেকেই তাকিয়ে আছেন একটি প্রশ্নের দিকে—মুসেভেনির উত্তরাধিকার ও ক্ষমতা ছাড়ার সময় এবং প্রক্রিয়া কী হবে।
তবে উগান্ডার সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালান কাসুজ্জা—যিনি একসময় বিবিসি নিউজডে রেডিও ও পডকাস্টের উপস্থাপক ছিলেন—এই বিষয়েই অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘উগান্ডায় পরিবর্তন, বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তন, হঠাৎ করে ঘটে না এবং প্রায় নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যতেও ঘটবে না। এটি ধীরে ধীরে ঘটে, এবং সেই প্রক্রিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে।’
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, নির্বাচনটি কোনো বড় রূপান্তরের মুহূর্ত নয়। বরং এটি রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের একটি নিয়মিত আচার—যার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্ট (এনআরএম) এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে চলতে থাকা গভীর ও ধীর পরিবর্তনগুলোকে বৈধতা দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের আভাস প্রথম দেখা যায় ২০২৩ সালের মার্চে মুসেভেনির মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সময়। পরে ২০২৫ সালের আগস্টে এনআরএমের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ কমিটির নির্বাচনে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সাধারণ কোনো অভ্যন্তরীণ নির্বাচন না হয়ে এটি পরিণত হয় মুসেভেনি-পরবর্তী যুগে অবস্থান নিশ্চিত করার এক উচ্চ ঝুঁকির লড়াইয়ে। দলাদলি দর–কষাকষি ও ব্যাপক ঘুষের অভিযোগে ভরা এই নির্বাচন দেখিয়ে দেয়, বিরোধী দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতার চেয়ে এখন ক্ষমতাসীন শিবির বেশি ব্যস্ত উত্তরাধিকার রাজনীতিতে। বিরোধীদের একাংশকে নিরাপত্তা বাহিনী দমন করেছে, আর একাংশকে আত্তীকরণ করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবার প্রভাব—তিনি প্রেসিডেন্টের ছেলে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি। দলের পুরোনো প্রজন্মের অনেক প্রভাবশালী নেতা সরে গেছেন। তাঁদের জায়গায় এসেছেন নতুন মুখ, যাঁদের অনেকেরই ৪০ বছর আগে মুসেভেনিকে ক্ষমতায় আনা যুদ্ধে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নেই, তবে তাঁরা মূলত তাঁর ছেলের প্রতি অনুগত বলে পরিচিত।
প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, স্টেট হাউসে ক্ষমতা এখন ক্রমেই বিকেন্দ্রীকৃত হচ্ছে। একসময় যেসব সিদ্ধান্ত সরাসরি মুসেভেনি নিতেন, সেগুলো এখন তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ছোট একটি বলয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। মুসেভেনির দৈনন্দিন কর্মসূচি তদারক করছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা নাতাশা কারুগিরে।
বিদেশি কূটনীতিক ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক দেখাশোনা করছেন তাঁর সৎভাই সালিম সালেহ। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতিতে প্রভাব রাখছেন তাঁর জামাতা ওড্রেক রওয়াবোগো, যিনি মুসেভেনির দ্বিতীয় কন্যা প্যাটিয়েন্সের স্বামী। আর উগান্ডার আধুনিক ইতিহাসে এই প্রথম, দেশের সব ধরনের নিরাপত্তা—অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক—তত্ত্বাবধান করছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান, ৫১ বছর বয়সী জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা।
উগান্ডার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক বাহিনীর প্রভাব প্রবল। মুসেভেনি নিজেও সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ফলে এই ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে—উগান্ডার ভবিষ্যৎ ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে মুসেভেনির ছেলের হাত ধরে। যদিও এখনো তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের আনুষ্ঠানিক পদে বসেননি।
বিবিসি থেকে অনূদিত

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনির সমর্থকদের কাছে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে তাঁর বিপুল বিজয় ৪০ বছরের শাসনেরই এক ধরনের স্বীকৃতি। নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৭২ শতাংশ ভোট। এটি তাঁর সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোটের কাছাকাছি। ১৯৯৬ সালে উগান্ডার প্রথম সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৭৪ শতাংশ ভোট।
এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ৮১ বছর বয়সী মুসেভেনি আবারও দাবি করছেন, ১৯৮৬ সালে মিল্টন ওবোতে সরকারের পতন ঘটিয়ে বিদ্রোহী কমান্ডার হিসেবে ক্ষমতা দখলের পরও তিনি এখনো উগান্ডার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন ধরে রেখেছেন।
তবে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক জনপ্রিয় পপ তারকা ববি ওয়াইন, এই ফলাফলকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানোর পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। মুসেভেনি মূলত তাঁর শাসনামলের অর্জনকে সামনে রেখেই প্রচারণা চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে তিনি উগান্ডায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছেন।
মুসেভেনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে উগান্ডাকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবেন। তাঁর সমর্থকদের মতে, এটি হবে তাঁর শাসনের উপযুক্ত উত্তরাধিকার। কারণ, পরের বছর তিনি তাঁর সপ্তম এবং সম্ভবত শেষ মেয়াদ শেষ করবেন। এই লক্ষ্য অর্জনে উগান্ডার নবীন তেল শিল্পকে মুসেভেনি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি বারবার বলেছেন, তেল রপ্তানি শুরু হলে অর্থনীতি দ্বিগুণ হারে বাড়বে।
মুসেভেনি অক্টোবর মাসকে প্রথম অপরিশোধিত তেল রপ্তানির লক্ষ্য সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তানজানিয়ার ভারত মহাসাগরীয় বন্দর তাঙ্গা পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে এই তেল রপ্তানি হবে। বয়সের ভার সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট নিজেকে সক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণে থাকা নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। শেষ দিকের এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি দাবি করেন, উগান্ডার ১৪০ টির বেশি নির্বাচনী আসনের প্রতিটিতেই তিনি সফর করেছেন।
তবে অক্টোবরের শুরুতে তাঁর দল হঠাৎ করেই বেশ কয়েকটি নির্বাচনী কর্মসূচি বাতিল করে। কারণ হিসেবে বলা হয় ‘রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব’, যা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মসূচিতে আরও বিরতি সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তোলে—অনেকে ক্লান্তি ও স্বাস্থ্যের অবনতির কথা বলতে শুরু করেন।
ববি ওয়াইনের জন্য এই ফলাফল ছিল বড় ধাক্কা। ২০২১ সালে যেখানে তিনি ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, এবার তা নেমে এসেছে ২৫ শতাংশে। অথচ উগান্ডার জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ—যাদের দীর্ঘদিন ধরে ৪৩ বছর বয়সী ওয়াইনের স্বাভাবিক সমর্থক বলে মনে করা হতো।
ওয়াইনের মতে, এই নির্বাচন ‘না বিশ্বাসযোগ্য, না বৈধ।’ তিনি বলেন, নির্বাচন ছিল মোটেও অবাধ ও সুষ্ঠু নয়। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী বারবার তাঁর সমাবেশ ভেঙে দিয়েছে। টিয়ার গ্যাস ও জীবন্ত গুলি ব্যবহার করে সমর্থকদের ভয় দেখানো হয়েছে, এমনকি কয়েকজন নিহতও হয়েছে। তিনি ব্যালট বাক্সে জালিয়াতির অভিযোগও তুলেছেন, তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
দুটি ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। আফ্রিকার অনেক বিরোধী নেতার মতো তাঁর অবস্থাও হতে পারে—যাদের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নে ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা ক্ষমতার বাইরে স্থায়ীভাবে ছিটকে পড়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে ওয়াইন ছিলেন উগান্ডার তরুণদের উদ্দীপনা ও অস্থিরতার প্রতীক। আর মুসেভেনি নিজেকে তুলে ধরেছেন অভিজ্ঞ অভিভাবক হিসেবে, যিনি স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেন। শেষ পর্যন্ত, বিতর্কিত সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ভোটাররা বেছে নিয়েছেন দ্বিতীয় পথটিকেই। উগান্ডার ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষেত্রে এখন অনেকেই তাকিয়ে আছেন একটি প্রশ্নের দিকে—মুসেভেনির উত্তরাধিকার ও ক্ষমতা ছাড়ার সময় এবং প্রক্রিয়া কী হবে।
তবে উগান্ডার সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালান কাসুজ্জা—যিনি একসময় বিবিসি নিউজডে রেডিও ও পডকাস্টের উপস্থাপক ছিলেন—এই বিষয়েই অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘উগান্ডায় পরিবর্তন, বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তন, হঠাৎ করে ঘটে না এবং প্রায় নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যতেও ঘটবে না। এটি ধীরে ধীরে ঘটে, এবং সেই প্রক্রিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে।’
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, নির্বাচনটি কোনো বড় রূপান্তরের মুহূর্ত নয়। বরং এটি রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের একটি নিয়মিত আচার—যার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্ট (এনআরএম) এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে চলতে থাকা গভীর ও ধীর পরিবর্তনগুলোকে বৈধতা দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের আভাস প্রথম দেখা যায় ২০২৩ সালের মার্চে মুসেভেনির মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সময়। পরে ২০২৫ সালের আগস্টে এনআরএমের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ কমিটির নির্বাচনে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সাধারণ কোনো অভ্যন্তরীণ নির্বাচন না হয়ে এটি পরিণত হয় মুসেভেনি-পরবর্তী যুগে অবস্থান নিশ্চিত করার এক উচ্চ ঝুঁকির লড়াইয়ে। দলাদলি দর–কষাকষি ও ব্যাপক ঘুষের অভিযোগে ভরা এই নির্বাচন দেখিয়ে দেয়, বিরোধী দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতার চেয়ে এখন ক্ষমতাসীন শিবির বেশি ব্যস্ত উত্তরাধিকার রাজনীতিতে। বিরোধীদের একাংশকে নিরাপত্তা বাহিনী দমন করেছে, আর একাংশকে আত্তীকরণ করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবার প্রভাব—তিনি প্রেসিডেন্টের ছেলে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি। দলের পুরোনো প্রজন্মের অনেক প্রভাবশালী নেতা সরে গেছেন। তাঁদের জায়গায় এসেছেন নতুন মুখ, যাঁদের অনেকেরই ৪০ বছর আগে মুসেভেনিকে ক্ষমতায় আনা যুদ্ধে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নেই, তবে তাঁরা মূলত তাঁর ছেলের প্রতি অনুগত বলে পরিচিত।
প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, স্টেট হাউসে ক্ষমতা এখন ক্রমেই বিকেন্দ্রীকৃত হচ্ছে। একসময় যেসব সিদ্ধান্ত সরাসরি মুসেভেনি নিতেন, সেগুলো এখন তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ছোট একটি বলয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। মুসেভেনির দৈনন্দিন কর্মসূচি তদারক করছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা নাতাশা কারুগিরে।
বিদেশি কূটনীতিক ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক দেখাশোনা করছেন তাঁর সৎভাই সালিম সালেহ। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতিতে প্রভাব রাখছেন তাঁর জামাতা ওড্রেক রওয়াবোগো, যিনি মুসেভেনির দ্বিতীয় কন্যা প্যাটিয়েন্সের স্বামী। আর উগান্ডার আধুনিক ইতিহাসে এই প্রথম, দেশের সব ধরনের নিরাপত্তা—অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক—তত্ত্বাবধান করছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান, ৫১ বছর বয়সী জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা।
উগান্ডার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক বাহিনীর প্রভাব প্রবল। মুসেভেনি নিজেও সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ফলে এই ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে—উগান্ডার ভবিষ্যৎ ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে মুসেভেনির ছেলের হাত ধরে। যদিও এখনো তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের আনুষ্ঠানিক পদে বসেননি।
বিবিসি থেকে অনূদিত

ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারীরা নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় সুলাওয়েসি দ্বীপের পাহাড়ি অঞ্চলে পৌঁছানোর সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ওই বিমানে ১১ জন আরোহী ছিলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা শাসনের জন্য প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদে যোগ দিতে ইচ্ছুক দেশগুলোর কাছে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থ জোগানোর শর্ত দিচ্ছেন। এই অর্থের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ট্রাম্পের হাতেই। এমনটি জানা গেছে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে।
৪ ঘণ্টা আগে
গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধ বন্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রথম এই বোর্ডের কথা প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এই সংস্থাটি গাজায় ‘শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ তহবিল সংগ্রহ এবং মূলধন ব্যবস্থাপনা’ তদারকি করবে।
৫ ঘণ্টা আগে
গাজায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য গঠিত নতুন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনটি বলা হয়েছে কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তা ড. আলী শাথ প্রকাশিত এক মিশন স্টেটমেন্টে।
৬ ঘণ্টা আগে