মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং লোহিত সাগরে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ইরান থেকে সরাসরি অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানি শুরু করেছে ভারত। গতকাল শনিবার ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূ-রাজনৈতিক চাপের মুখে ২০১৯ সাল থেকে বন্ধ থাকা এই বাণিজ্য পুনরায় শুরু হওয়াকে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৯ সালের মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর চাপের মুখে ভারত ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারত তখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে বাধ্য হয়। তবে সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে দিল্লি।
ভারতের তেল মন্ত্রক তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার এই সময়ে ভারতীয় শোধনাগারগুলো তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের চাহিদা নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ইরান থেকে আমদানিকৃত তেলও রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ইরান থেকে এই তেল আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধ বা পেমেন্ট সংক্রান্ত কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত বাধা বর্তমানে নেই বলে নিশ্চিত করেছে সরকার।
তেল ছাড়াও ভারত ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করেছে। গত বুধবার ভারতের পশ্চিম উপকূলের ম্যাঙ্গালোর বন্দরে ৪৪ হাজার টন ইরানি এলপিজি নিয়ে একটি জাহাজ নোঙর করেছে। বর্তমানে সেই জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাসের কাজ চলছে। উল্লেখ্য, এই জাহাজটি আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল, তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এটি বন্দরে ভেড়ার অনুমতি পেয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্যিক বিবেচনার ভিত্তিতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করার পূর্ণ স্বাধীনতা ভারতীয় কোম্পানিগুলোর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সরবরাহ রুটগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ায় ভারত তার বিকল্প উৎসগুলো সচল রাখছে। ইরানের সঙ্গে এই নতুন করে শুরু হওয়া বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুধু ভারতের জ্বালানি সাশ্রয় করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দিল্লির কৌশলগত প্রভাবও বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্য অস্থির হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে তেল-গ্যাসের সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে টালমাটাল পুরো বিশ্বের অর্থনীতি। যুদ্ধের এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সব পক্ষই ছাড় না দেওয়ার অবস্থানে।
১ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ ১৫ বছর মালয়েশিয়ার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে কাটানোর পর অবশেষে মুক্তি পেয়ে নিজ দেশে ফিরেছেন ইন্দোনেশিয়ার এক নারী। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা সীমান্তজুড়ে মাদক পাচার চক্রে দরিদ্র অভিবাসী নারীদের শোষণের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
১ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অভিযোগ করেছেন, ভারত একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বা ‘সাজানো অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেছেন, এর উদ্দেশ্য হলো—যাতে দোষ চাপানো যায় পাকিস্তানের ওপর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করা হলে নয়াদিল্লিকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আকাশপথে বড় ধরনের সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইস্পাহানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-১৩০ সামরিক বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
৪ ঘণ্টা আগে