Ajker Patrika

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে যুগান্তকারী উদ্ভাবন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পেল নতুন ওষুধ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে যুগান্তকারী উদ্ভাবন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পেল নতুন ওষুধ
যারা প্রতিদিন এই ট্যাবলেটটি খেয়েছেন, তাদের গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল ১৩ দশমিক ২ মাস। ছবি: সংগৃহীত

অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসের ক্যানসার চিকিৎসায় একটি নতুন ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই ওষুধ ক্যানসার রোগীদের গড় বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ করে দেয়। ওষুধটিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ক্যানসারের চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘রেভোলিউশন মেডিসিন্স’-এর তৈরি ‘ড্যারাক্সনরাসিব’ (daraxonrasib) নামের ওষুধটি বাজারে ‘রাসনক’ (Rasonque) নামে বিক্রি হবে।

৫০০ রোগীর ওপর চালানো চূড়ান্ত ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন এই ট্যাবলেটটি খেয়েছেন, তাদের গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল ১৩ দশমিক ২ মাস। অন্যদিকে কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল ৬ দশমিক ৬ মাস।

ওষুধটি ‘অত্যন্ত কঠিন এবং চিকিৎসা করা দুরূহ’ এমন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এফডিএ।

ড্যারাক্সনরাসিব মূলত মিউটেট হওয়া বা পরিবর্তিত ‘কেআরএএস’ (KRAS) জিনকে লক করে বা নিষ্ক্রিয় করে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। উল্লেখ্য, অগ্ন্যাশয়ের ৯০ শতাংশেরও বেশি টিউমারে এই জিনের উপস্থিতি থাকে, যা ক্যানসারের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার সাধারণত বেশ দেরিতে শনাক্ত হয় এবং এর চিকিৎসা করা অত্যন্ত কঠিন। অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ রোগ শনাক্ত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে মারা যান।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৬৭ হাজার মানুষের অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত হয়। প্রধান ক্যানসারগুলোর মধ্যে এ রোগে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

২০২৫ সালে এফডিএ ওষুধটিকে ‘ব্রেকথ্রু থেরাপি’ বা যুগান্তকারী চিকিৎসা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গুরুতর রোগের এমন চিকিৎসার ক্ষেত্রে দ্রুত পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এফডিএর অনকোলজি সেন্টার অব এক্সিলেন্সের পরিচালক অ্যাঞ্জেলো ডি ক্লারো জানান, যেখানে চিকিৎসার চাহিদা পূরণে বড় ঘাটতি রয়েছে, সেখানে ওষুধটি নজিরবিহীন ফল দেখিয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়সীমার ছয় মাস আগেই সংস্থাটি ওষুধটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এফডিএ আরও জানিয়েছে, এই চিকিৎসার সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল র‍্যাশ বা চর্মরোগ, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি ও বমি হওয়া। ট্রায়ালে ড্যারাক্সনরাসিব গ্রহণকারী প্রায় ৪৪ শতাংশ রোগীর গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অন্যদিকে কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের মধ্যে এ হার ছিল ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিনেটর বেন সাসে গত ডিসেম্বরে তাঁর চতুর্থ পর্যায়ের অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন। এটি তাঁর টিউমার ছোট করতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত