Ajker Patrika

ফুড পয়জনিং হলে কী করবেন, কী করবেন না

ডা. কাকলী হালদার
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৫৯
ফুড পয়জনিং হলে কী করবেন, কী করবেন না

ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি খুব দ্রুত সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সুস্থ থাকতে হলে এর লক্ষণ ও তাৎক্ষণিক করণীয়গুলো মনে রাখা জরুরি।

ফুড পয়জনিংয়ের প্রধান লক্ষণ

  • সাধারণত দূষিত খাবার খাওয়ার ১ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে।
  • পেটে প্রচণ্ড মোচড় দিয়ে ব্যথা হয়।
  • বারবার পাতলা পায়খানা এবং বমি বমি ভাব বা বমি হয়।
  • শরীরে প্রচণ্ড দুর্বলতা এবং মাথা ঘোরায়।
  • সামান্য জ্বর বা মাংসপেশিতে ব্যথা।
  • তীব্র পানিশূন্যতার ফলে মুখ ও জিব শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

ঘরোয়া প্রতিকার ও প্রাথমিক করণীয়

ওরাল স্যালাইন: শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া পানি ও লবণ পূরণে রোগীকে বারবার খাওয়ার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এটি ফুড পয়জনিংয়ের কার্যকর প্রাথমিক চিকিৎসা।

বিশ্রাম: এ সময় শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে।

সহজপাচ্য খাবার: পেট খারাপ অবস্থায় ভারী বা তেল-মসলাযুক্ত খাবার একদম খাওয়ানো যাবে না। ডাবের পানি, ভাতের মাড়, কাঁচা কলা দিয়ে জাউ ভাত কিংবা চিড়ার পানি দেওয়া যেতে পারে।

আদা ও লেবুর রস: বমি ভাব কমাতে আদা-চা বা হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়। আদার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ পেটের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।

হাসপাতালে যখন নিতে হবে

যদি ঘরোয়া ব্যবস্থায় কাজ না হয় এবং তীব্র লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে কোনোভাবে দেরি করা যাবে না। চিকিৎসকের কাছে কিংবা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। লক্ষণগুলো হলো—

  • ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ক্রমাগত বমি হতে থাকলে।
  • মলের সঙ্গে রক্ত দেখা দিলে।
  • শরীরের তাপমাত্রা বা জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে।
  • চোখ বসে গেলে অথবা প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে।
  • তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হুট করে অ্যান্টিবায়োটিক বা বমি বন্ধের ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।

পরামর্শ দিয়েছেন: ডা. কাকলী হালদার সহকারী অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত