শিশুদের অসুখ-বিসুখ দিনরাত যেন লেগেই থাকে। হঠাৎ নবজাতকের কান্না, পেটব্যথা, কানব্যথা, পিঁপড়া অথবা পোকামাকড়ের কামড়, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, হাত-পা মচকানো, অ্যালার্জির কারণে সাদা শরীরে লাল দানা—এ ধরনের সমস্যার কারণে মা-বাবা উদ্বিগ্ন হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। শিশুস্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থাকলে চিকিৎসকের কাছে না গিয়েও এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
কান্না
খিদে পেলে, পেটব্যথা অথবা কানব্যথার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা কান্নাকাটি করে। খিদের কান্না এবং ব্যথার কান্নার ধরন একটু খেয়াল করলে সহজে মা পৃথক করতে পারেন। খিদের কান্নার সময় শিশুরা থেমে থেমে কান্না করে এবং পাশাপাশি মুখ হাঁ করে এদিক-ওদিক তাকাতে দেখা যায়। মা শিশুর জন্য বুকের দুধ বা ফিডার দুধ দেওয়ামাত্রই কান্নার অবসান হয়। পেটে গ্যাস অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পেটব্যথার জন্য শিশুকে কাঁদতে দেখা যায়।
পেটব্যথা
ডায়রিয়া, আমাশয় ও জিয়ার্ডিয়ার জীবাণু, কৃমি ইত্যাদি প্রবেশ করলে শিশুর খাবারে অনীহা, বমি বমি ভাব, পেট ফেঁপে থাকা, পাতলা পায়খানা অথবা আমযুক্ত মল ত্যাগ করতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে দুধ পরিবর্তন করলে, বুকের দুধ ছাড়িয়ে গরুর দুধ বা বাজারে প্রচলিত দুধ দিলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিশুকে কাঁধের ওপর রেখে আলতো করে চাপড় দিলে গ্যাস বের হয়ে যায় এবং শিশুর কান্নাও থেমে যায়। এ ছাড়া সিমেথিকোন-জাতীয় পেটব্যথার ড্রপ ব্যবহার করলেও উপকার মেলে।
কানব্যথা
শিশুর ঠান্ডা লেগে কানের সংক্রমণ হলে, ময়লা জমলে, আঘাত পেলে কানব্যথা হতে পারে। এমন সময় কানে গরম তেল ব্যবহার করা নিষেধ। তবে কানে গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে। ঘরে রাখা প্যারাসিটামল সিরাপ বয়স অনুযায়ী খাওয়াতে হবে। শিশু মুখ খুলে শ্বাস নিলে নাকের নরমাল স্যালাইন ড্রপ দিতে হবে, গোসলের সময় কানে যেন পানি না ঢোকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
হাত-পা মচকানো
অসাবধানতাবশত শিশুর হাত-পা মচকালে মাংসপেশি বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে অথবা হাড্ডিগুলো স্থানচ্যুত হতে পারে। তখন বরফ সেঁক দিন, প্যারাসিটামল জাতীয় সিরাপ খাওয়ান এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন। মনে রাখা জরুরি, শিশুর হাত-পা ধরে হ্যাঁচকা টান দেওয়া চলবে না।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া
নাকে ঘা হলে এবং সেই ঘা খুঁটলে শিশুদের নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। পাশাপাশি নাকে আঘাত পেলে, ঠান্ডার কারণে, রক্তের কোনো অসুখের কারণেও
নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে ঠান্ডা মাথায় যা করতে পারেন—
১. শিশুর নাক দুই আঙুলে চেপে ধরুন
২. বরফ সেঁক দিন নাকের ওপর
৩. না কমলে তুলা গুটাল করে নাকের ছিদ্রে ঢুকিয়ে দিন। এতেও না কমলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
শিশুর শ্বাস বন্ধ রাখা
হঠাৎ কোনো সুস্থ শিশু কান্না করতে করতে শ্বাস বন্ধ করে ফেলে। অনেক সময় হাত-পা শক্ত হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। এটা শিশুর একটা ভিন্ন আচরণ। শিশু যখন রেগে যায়, ভয় পেয়ে যায় অথবা ব্যথা পেলে এমন করতে দেখা যায়। এটা শিশুর ব্রেনের একটা বিশেষ প্রতিক্রিয়া। এ সময় শিশুদের মন ভুলিয়ে রাখতে হবে। এ রোগে শিশুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
পরামর্শ দিয়েছেন: অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ডকেয়ার, মিরপুর-৬ ঢাকা

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় এক গ্লাস বিয়ার, দিনের শেষে একটু ওয়াইন বা কোনো উৎসবে গলা ভেজানো—এভাবে অ্যালকোহল গ্রহণ অনেকের কাছে স্বাভাবিক জীবনের অংশ। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এই আপাত নিরীহ অভ্যাসই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং ক্যানসারসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৮ ঘণ্টা আগে
ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে (মোবাইল, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটার) তাকিয়ে থাকে। আর অতিরিক্ত এই স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে কমে যাচ্ছে শিশুদের ঘুম, সমস্যা দেখা দিচ্ছে চোখে, ওজন বাড়ছে, মাথাব্যথাসহ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও খারাপ প্রভাব পড়ছে...
৮ ঘণ্টা আগে
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৬৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় চারজন, একজন করে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে...
১০ ঘণ্টা আগে
হামে আক্রান্ত এক বছরের ছেলেকে নিয়ে টানা প্রায় তিন মাস হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছেন পিরোজপুরের জাকির হোসেন (ছদ্মনাম)। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ছেলের বেশ জ্বর হলে তাকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে ১ মার্চ বাড়ি যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
১ দিন আগে