
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক গ্রামের ২২ জনকে ডাকা হয়েছিল ঢাকায়। এমন চাকরির আশায় আজ বুধবার ঢাকা এসেছিলেন তাঁরা মৌলভীবাজার থেকে। তবে বিমানবন্দরে এসে জানতে পারলেন, সবই ভুয়া। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।
প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা হলেন কমলগঞ্জ উপজেলার আদকানি গ্রামের মো. আইন উদ্দিন মিয়া (৩৩), তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম (২৬), মুনসুর আলী (১৯), মজিব আলী (১৯), জিয়াউর রহমান (১৯), রুসমত আলী (২৬), আলাউদ্দিন মিয়া (২১), সফুর মিয়া (৩০), মইনুল আলম (২১), মাসরুর রহমান (২০), আব্দুল হোসেন (২৫), সোহাগ আহমেদ (১৭), চেরাগ আলী (২৫), শাহ সাইদুজ্জামান (২৬), মো. আরকান আলী (২০), শাহ মাহবুব (১৯), নাইম হোসেন (২১), শিপন মিয়া (২০), দেলোয়ার হোসেন (২১), মো. জহির (২৫), হারুন মিয়া (৪০), খলিলুর রহমান (১৯) ও কুতুব মিয়া (৪০)।
তাঁরা অভিযোগ করেছেন, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সৈয়দ শাহজাহান আহমেদ পলাশ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, তাঁদের সবাইকে বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগের লেবার হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল। সবার কাছ থেকে ২০-৩৫ হাজার টাকা জামানত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৫-৭ হাজার টাকাসহ নানান অজুহাতে টাকা নিয়েছে প্রতারক চক্রটি। আজ তাঁদের বিমানবন্দরে কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে আসার পর প্রতারক চক্রটির কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না ভুক্তভোগীরা। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পান ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া বার্তা পাঠানোর অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপেও তাঁদের ব্লক করে দেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, কিছু খাওয়া কিংবা গ্রামে চলে যাওয়ার মতোও ভাড়ার টাকাও নেই অনেকের কাছে। পরে বিকেলে তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে করে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।
ভুক্তভোগী নাইম হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি দিনমজুরের কাজ করি। কিন্তু একটু ভালো থাকার আশায় বিমানবন্দরে কার্গোর লেবার হিসেবে চাকরি করার জন্য দালালের মাধ্যমে এসেছিলাম। বিমানবন্দরে আসার পরও শাহজাহান নামের ওই দালালের সঙ্গে কথা হইছে। পরে সে আসতেছি বলে সব জায়গায় ব্লক এবং ফোন বন্ধ করে দিয়ে আর আসে নাই।’
তিনি বলেন, ‘ওই দালাল আমাদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা করে নিয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষা, ভ্যাকসিন, ব্যাংক ড্রাফটের কথা বলে, ভ্যাকসিনের কার্ড বের করে দেওয়ার নানান অজুহাত দিয়ে আমাদের কাছ থেকে এসব টাকা নিয়েছে।’
আরেক ভুক্তভোগী আইন উদ্দিন মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হইছিলাম। তখন প্রতারক শাহজাহানের সঙ্গে আমার কমলগঞ্জ থানার সামনে পরিচয়। সে আমাকে ওই টাকা তুলে দেবে বলেছিল। পরে ওই দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাকে গত মাসের ২৫ তারিখে টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলেছিল।’
তিনি বলেন, ‘শাহজাহান আমাকে বলেছে, সে দীর্ঘদিন বিমানবন্দরে ঠিকাদারি করেছে। প্রতিবছর বিমানবন্দরে লেবার (শ্রমিক) দেয়। পরে চাকরি দেওয়ার কথা কইয়্যা আমাকে দিয়ে অনেক লোকজন জড়ো করেছে। একেকজনের কাছ থেকে ১০-৩০ হাজার টাকা নিয়েছে।’
ভুক্তভোগীদের পাওয়া টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আইন উদ্দিন বলেন, ‘উনি (শাহজাহান) যেহেতু প্রতারণা করে আমার ওপর গছাইয়্যা দিয়ে গেছে। আমাকেই দিতে অইব্যো। হয়তো বাড়িঘর বেইচ্যা আস্তে আস্তে দিতে অইব্যো, নয়তো এলাকায় বিচার সালিস বইব্যো। যা শাস্তি দিব, মাথা পেতে নিতে অইব্যো। তা ছাড়া কিছু করার নাই।’

আগামী রোববার থেকে যে জরুরি হামের টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে, তাতে প্রাদুর্ভাব বেশি এমন উপজেলাগুলোর শিশুদের আগে টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এসব কথা জানিয়েছে। দেশজুড়ে অতিসংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী...
৬ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ৬৮৫ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৯ জনে।
১০ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার হিসেবে নিচ্ছে সরকার। পরে তাদের এই টিকা ফেরত দেওয়া হবে।
২ দিন আগে
দেশে কয়েক মাস ধরে হামের টিকার সংকট চলছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) হামের টিকার সরবরাহ ঘাটতি ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, অর্থছাড়সহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে।
২ দিন আগে