ডা. উম্মে নুসরাত আরা

থ্যালাসেমিয়া হিমোগ্লোবিন ডিসঅর্ডারের অন্তর্ভুক্ত একধরনের বংশগত রক্তস্বল্পতার রোগ। হিমোগ্লোবিন হচ্ছে এক প্রকার লৌহ মিশ্রিত পদার্থ, যেটি আমাদের রক্তের লোহিত কণিকার মধ্যে থাকে। এই হিমোগ্লোবিন আয়রন ও গ্লোবিন প্রোটিন দিয়ে তৈরি। গ্লোবিন আলফা ও বিটা এই দুই জোড়া
চেইন দিয়ে তৈরি।
থ্যালাসেমিয়া রোগে এ দুই জোড়া গ্লোবিনের যে কোনো এক জোড়ার তৈরি হওয়া কমে যায়। আলফা চেইন তৈরিতে সমস্যা হলে তাকে আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বিটা চেইন তৈরিতে কোনো সমস্যা হলে তাকে বিটা থ্যালাসেমিয়া বলা হয়। এক জোড়া চেইনের তৈরি হওয়া যখন কমে যায়, তখন সঙ্গের অন্য জোড়ার তৈরি হওয়া বেড়ে যায়। বেড়ে যাওয়া গ্লোবিন লোহিত কণিকায় জমা হয়ে লোহিত কণিকাটি ভেঙে যায়।
বাংলাদেশে পরিসংখ্যান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ১০
লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতিবছর নতুন করে প্রায় ৭ হাজার থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জন্ম হচ্ছে।
থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ
থ্যালাসেমিয়া দুটি প্রধান ধরনের হতে পারে—আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বিটা থ্যালাসেমিয়া।
আলফা থ্যালাসেমিয়া
এই রোগের জন্য ১৬ নম্বর ক্রোমোজোমে উপস্থিত আলফা চেইন উৎপাদনকারী জিনের রূপান্তর বা মিউটেশন বা ডিলিশন দায়ী। চারটি জিন দিয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়া শিকল তৈরি হয়। বাবা-মা থেকে পাওয়া চারটি জিনের মধ্যে এক বা তার অধিক ত্রুটিপূর্ণ হলে আলফা থ্যালাসেমিয়া হয়। যত বেশি জিন ত্রুটিপূর্ণ হবে, তত বেশি মারাত্মক সমস্যা হবে।
বিটা থ্যালাসেমিয়া
এই রোগের জন্য ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে উপস্থিত বিটা চেইন উৎপাদনকারী জিনের রূপান্তর বা মিউটেশন দায়ী। বাবা-মা থেকে পাওয়া জিনের মধ্যে এক বা তার অধিক ত্রুটিপূর্ণ হলে বিটা থ্যালাসেমিয়া হয়। এ ক্ষেত্রে-
থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ
থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গগুলো মূলত রক্তস্বল্পতাজনিত উপসর্গ। যেমন-
সংক্রমণ
এটি একটি বংশগত রোগ। তাই বাবা-মা দুজনই যদি বাহক হন, তাহলে কিছু সন্তান সুস্থ হবে, আবার কিছু সন্তান রোগী অথবা বাহক হবে। বাবা-মা দুজনই যদি রোগী হন, তাহলে সব সন্তান রোগে আক্রান্ত হবে। তাঁদের সুস্থ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবার যদি মা-বাবার একজন রোগী হন, অন্যজন সুস্থ থাকেন, তাহলে কিছু সন্তান বাহক হবে; কিছু সুস্থ হবে।
চিকিৎসা
থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা প্রতি মাসে রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। প্রয়োজন অনুসারে প্রতি মাসে এক থেকে দুই ব্যাগ রক্ত লাগতে পারে। চিকিৎসা না করা হলে এ রোগীরা রক্তশূন্যতায় মারা যায়। আবার বারবার রক্ত নেওয়ার কারণে শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে অতিরিক্ত লৌহ জমে যায়। ফলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। তাই অতিরিক্ত লৌহজনিত জটিলতা প্রতিরোধে আয়রন চিলেশন থেরাপি দেওয়া হয়।
থ্যালাসেমিয়ার স্থায়ী চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন। কিন্তু এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অন্যান্য চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে জিন থেরাপি ও স্টেম সেল থেরাপি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো রোগের প্রতিরোধ।
প্রতিরোধ
এইসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
লেখক: শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

থ্যালাসেমিয়া হিমোগ্লোবিন ডিসঅর্ডারের অন্তর্ভুক্ত একধরনের বংশগত রক্তস্বল্পতার রোগ। হিমোগ্লোবিন হচ্ছে এক প্রকার লৌহ মিশ্রিত পদার্থ, যেটি আমাদের রক্তের লোহিত কণিকার মধ্যে থাকে। এই হিমোগ্লোবিন আয়রন ও গ্লোবিন প্রোটিন দিয়ে তৈরি। গ্লোবিন আলফা ও বিটা এই দুই জোড়া
চেইন দিয়ে তৈরি।
থ্যালাসেমিয়া রোগে এ দুই জোড়া গ্লোবিনের যে কোনো এক জোড়ার তৈরি হওয়া কমে যায়। আলফা চেইন তৈরিতে সমস্যা হলে তাকে আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বিটা চেইন তৈরিতে কোনো সমস্যা হলে তাকে বিটা থ্যালাসেমিয়া বলা হয়। এক জোড়া চেইনের তৈরি হওয়া যখন কমে যায়, তখন সঙ্গের অন্য জোড়ার তৈরি হওয়া বেড়ে যায়। বেড়ে যাওয়া গ্লোবিন লোহিত কণিকায় জমা হয়ে লোহিত কণিকাটি ভেঙে যায়।
বাংলাদেশে পরিসংখ্যান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ১০
লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতিবছর নতুন করে প্রায় ৭ হাজার থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জন্ম হচ্ছে।
থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ
থ্যালাসেমিয়া দুটি প্রধান ধরনের হতে পারে—আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বিটা থ্যালাসেমিয়া।
আলফা থ্যালাসেমিয়া
এই রোগের জন্য ১৬ নম্বর ক্রোমোজোমে উপস্থিত আলফা চেইন উৎপাদনকারী জিনের রূপান্তর বা মিউটেশন বা ডিলিশন দায়ী। চারটি জিন দিয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়া শিকল তৈরি হয়। বাবা-মা থেকে পাওয়া চারটি জিনের মধ্যে এক বা তার অধিক ত্রুটিপূর্ণ হলে আলফা থ্যালাসেমিয়া হয়। যত বেশি জিন ত্রুটিপূর্ণ হবে, তত বেশি মারাত্মক সমস্যা হবে।
বিটা থ্যালাসেমিয়া
এই রোগের জন্য ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে উপস্থিত বিটা চেইন উৎপাদনকারী জিনের রূপান্তর বা মিউটেশন দায়ী। বাবা-মা থেকে পাওয়া জিনের মধ্যে এক বা তার অধিক ত্রুটিপূর্ণ হলে বিটা থ্যালাসেমিয়া হয়। এ ক্ষেত্রে-
থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ
থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গগুলো মূলত রক্তস্বল্পতাজনিত উপসর্গ। যেমন-
সংক্রমণ
এটি একটি বংশগত রোগ। তাই বাবা-মা দুজনই যদি বাহক হন, তাহলে কিছু সন্তান সুস্থ হবে, আবার কিছু সন্তান রোগী অথবা বাহক হবে। বাবা-মা দুজনই যদি রোগী হন, তাহলে সব সন্তান রোগে আক্রান্ত হবে। তাঁদের সুস্থ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবার যদি মা-বাবার একজন রোগী হন, অন্যজন সুস্থ থাকেন, তাহলে কিছু সন্তান বাহক হবে; কিছু সুস্থ হবে।
চিকিৎসা
থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা প্রতি মাসে রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। প্রয়োজন অনুসারে প্রতি মাসে এক থেকে দুই ব্যাগ রক্ত লাগতে পারে। চিকিৎসা না করা হলে এ রোগীরা রক্তশূন্যতায় মারা যায়। আবার বারবার রক্ত নেওয়ার কারণে শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে অতিরিক্ত লৌহ জমে যায়। ফলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। তাই অতিরিক্ত লৌহজনিত জটিলতা প্রতিরোধে আয়রন চিলেশন থেরাপি দেওয়া হয়।
থ্যালাসেমিয়ার স্থায়ী চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন। কিন্তু এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অন্যান্য চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে জিন থেরাপি ও স্টেম সেল থেরাপি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো রোগের প্রতিরোধ।
প্রতিরোধ
এইসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
লেখক: শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে।
১ দিন আগে
কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে আমাদের সবার কমবেশি জানাশোনা আছে। তবে এটি জেনে রাখা ভালো যে অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষ ও নারীদের এটি হওয়ার হার বেশি। ফলে শীতকালে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এর অনেক কারণ রয়েছে।
২ দিন আগে
শীতের হিমেল হাওয়া আমাদের ত্বকে টান ধরায়। শুধু তা-ই নয়, এটি আমাদের কানের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালীন ঠান্ডা ও আর্দ্রতা কানে ইনফেকশন থেকে শুরু করে শ্রবণশক্তির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও করতে পারে।
২ দিন আগে
ঘুম ভালো হওয়া সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বর্তমান জীবনে অনিদ্রা অনেকের সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ পর্যাপ্ত ও সময়মতো ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বক এবং শরীরের জন্য উপকারী।
২ দিন আগে