
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ফিলিপ মরিসের ‘নিকোটিন পাউচ’ তৈরির কারখানা স্থাপনের অনুমোদন বাতিলের দাবি জানিয়েছে নারী মৈত্রী। এ সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়াসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেছে তারা। একই সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী অবিলম্বে পাস করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নারী মৈত্রী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মাসুমা আলম।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুমা আলম বলেন, বিশ্বের বহু দেশ জনস্বাস্থ্যের হুমকি বিবেচনায় নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করেছে। ঠিক এমন সময়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ফিলিপ মরিসকে দেশে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনে কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। এটি দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই অনুমোদন বাতিল করতে হবে।
মাসুমা আলম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (এফসিটিসি) চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী হলেও এখনো তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাস হলে এফসিটিসির মানদণ্ড অনুযায়ী আইনটি শক্তিশালী হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তা হবে এক বড় পদক্ষেপ। তাই আমি বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাস করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
উইমেন জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি ফাহমিদা আহমেদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় দেশে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (এন্ডস) যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের অনুমতি প্রদান না করার নির্দেশনা দেওয়ার পরও এই নিকোটিন পাউচ কারখানা স্থাপনের অনুমোদন সরকারের নীতি ও সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের লঙ্ঘন। এটি দেশের তরুণ, নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
হেলথ রিপোটার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বী বলেন, সমাজ বদলের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়ে নীতিনির্ধারকেরা যখন নিকোটিন পাউচের মতো জীবনঘাতী পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন দেয়, তখন সেটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। এই প্রতারণার দায় নিয়ে অবিলম্বে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
উইমেন জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লাবিন রহমান বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের ত্যাগে যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে। নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমোদন দিয়ে সরকার অনেক নিন্দনীয় কাজ করেছে। আমি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করার আহ্বান জানাই।’
নারী মৈত্রী ইয়ুথ ফোরামের সদস্য আশরাফিয়া জান্নাত বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এখনো নিকোটিন পাউচকে চিকিৎসাগত বা নিরাপদ পণ্য হিসেবে অনুমোদন দেয়নি। বরং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের মতো ক্ষতিকর বিবেচনা করছে। সেখানে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে জেনেবুঝে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করা। এই ক্ষতি করার অধিকার কারোরই নেই।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি এসআরও জারির মাধ্যমে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেমসংশ্লিষ্ট সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর মে মাসে দেশে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (এন্ডস) যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের অনুমতি প্রদান না করার নির্দেশনা দেয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। সেই নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বৈশ্বিক তামাক কোম্পানি ফিলিপ মরিসকে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনে কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বেজা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রী টিচার্স ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো, নারী মৈত্রী মাদারস ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো ও নারী মৈত্রী ইয়ুথ ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকোর সদস্যরা।

চলতি বছরের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে খুব ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত হামের রোগী শনাক্ত হয়। অতি সংক্রামক রোগটি মার্চে এসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হাম টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও এর রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চললেও গত পাঁচ বছরে...
৩ ঘণ্টা আগে
হামের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকার বাইরের জেলাগুলো, এমনকি বিভাগীয় শহরেও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে। তা ছাড়া ৯ মাসের কম বয়সী শিশু হামে আক্রান্ত হওয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শিশুদের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে মুশকিলে পড়ছেন চিকিৎসকেরা।
৩ ঘণ্টা আগে
হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাস, কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে এটি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের কারণে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা এবং এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যেকোনো বয়সের মানুষ হামে আক্রান্ত হলেও শিশুদের মধ্যে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এ রোগের জীবাণু প্রথমে...
১১ ঘণ্টা আগে
দুই দশক আগে যে রোগটিকে পৃথিবী থেকে প্রায় নির্মূল ভাবা হয়েছিল, সেই ‘হাম’ এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ হামে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের সিংহভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
১৮ ঘণ্টা আগে