
হৃদ্পেশিতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহকারী কোনো করোনারি ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণত হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন ঘটে। ফলে হৃৎযন্ত্রের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় এই অবস্থা চলতে থাকলে হৃদ্পেশির ক্ষতি এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
তবে হার্ট অ্যাটাকের পর শরীর নিজে থেকেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বেশ কিছু জরুরি জৈবিক ব্যবস্থা সক্রিয় করে। আগের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, হৃৎযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশে রক্ত পৌঁছে দিতে অন্য ধমনিগুলোকে বড় করার চেষ্টা করে এবং এমনকি নতুন রক্তনালিও তৈরি করতে পারে। অনেকটা বিকল্প রাস্তা বা বাইপাস তৈরির মতো এই প্রক্রিয়া। কিন্তু সাধারণত এই ব্যবস্থা এত দ্রুত বা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না যে হার্ট অ্যাটাকের কারণে হওয়া ক্ষতি বা মৃত্যু পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়।
চীনের ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের নেতৃত্বে একদল গবেষক হৃৎযন্ত্রের এই প্রাকৃতিক বাইপাস বা ‘বিকল্প রক্তপথ’ তৈরির বিষয়ে নতুন এক প্রক্রিয়া শনাক্ত করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কাজের মূল কারিগর বড় ধমনিগুলো নয়, বরং ধমনি ও শিরার মধ্যে সংযোগ তৈরি করা অতি ক্ষুদ্র কৈশিক রক্তনালিগুলো বা ক্যাপিলারি টিউবগুলো।
গবেষণাটি বিজ্ঞান গবেষণা বিষয়ক জার্নাল সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রথমবারের মতো বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে, হৃৎযন্ত্র কীভাবে এই প্রাকৃতিক মেরামতব্যবস্থা কাজে লাগায় এবং ভবিষ্যতে কৃত্রিমভাবে এই প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় করে হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানো যেতে পারে কি না।
গবেষকেরা লিখেছেন, তাঁদের ফলাফল করোনারি বিকল্প রক্তনালি তৈরির কোষগত উৎস ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে এবং হৃৎযন্ত্রের কার্যকর মেরামতে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে।
গবেষণার শুরুতে বিজ্ঞানীরা আগের গবেষণার তুলনায় আরও নিখুঁত একটি কোষ-ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা রক্তনালির ভেতরের আবরণ তৈরি করা এন্ডোথেলিয়াল কোষগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন। তাঁরা একই সঙ্গে হৃৎযন্ত্রের বড় ধমনি এবং সেগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত অতি ক্ষুদ্র কৈশিক রক্তনালির এন্ডোথেলিয়াল কোষও পর্যবেক্ষণ করেন।
ইঁদুরের ওপর হার্ট অ্যাটাকের মডেল ব্যবহার করে গবেষকেরা তখন একটি অপ্রত্যাশিত বিষয় দেখতে পান। হৃৎযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ নতুন করে ঘুরিয়ে দেওয়ার কাজে বড় ধমনির এন্ডোথেলিয়াল কোষগুলো নয়, বরং ছোট কৈশিক রক্তনালির এন্ডোথেলিয়াল কোষগুলোই মূল ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ, হৃৎযন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে রক্ত পৌঁছে দিতে শরীরের ক্ষুদ্র কৈশিক নালিকাগুলো নিজেদের পরিবর্তন করে অনেকটা ছোট ধমনির মতো হয়ে উঠতে শুরু করে। এর মাধ্যমে তারা বিকল্প রক্তপথ বা বাইপাস তৈরিতে সাহায্য করে।
গবেষকেরা বলছেন, এই কৌশলটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়। নবজাতক ইঁদুরের হৃৎযন্ত্র যখন বিকশিত হয়, তখনও একই ধরনের প্রক্রিয়া দেখা যায়। সে সময় কৈশিক রক্তনালির এন্ডোথেলিয়াল কোষগুলো একত্রিত হয়ে ছোট ব্যাসের করোনারি ধমনির শাখা তৈরি করে। অর্থাৎ, হার্ট অ্যাটাকের পর প্রাপ্তবয়স্ক হৃৎযন্ত্র যেন তার বিকাশের শুরুর দিকের একটি পুরোনো জৈবিক কর্মসূচিকে আবার সক্রিয় করে ফেলে।
এরপর গবেষকেরা জানতে চাইলেন, এই প্রাকৃতিক বাইপাস তৈরির প্রক্রিয়াকে বাইরে থেকে আরও শক্তিশালী করা যায় কি না। তাঁরা ভাস্কুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর–এ (ভাস্কুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর এ—ভিইজিএফ–এ) নামের একটি সংকেত-প্রদানকারী প্রোটিনকে সম্ভাব্য উপায় হিসেবে শনাক্ত করেন। ভিইজিএফ–এ রক্তনালির বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইঁদুরের শরীরে অল্প সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ভিইজিএফ–এ প্রয়োগ করা হলে এটি একটি রাসায়নিক সংকেত-শৃঙ্খল সক্রিয় করে। এর ফলে নতুন তৈরি হওয়া বিকল্প ধমনিগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। যেসব ইঁদুরকে এই অপ্টিমাইজ করা ভিইজিএফ–এ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হৃৎযন্ত্রের চারপাশে রক্তপ্রবাহ ভালো হয়েছে, হার্ট অ্যাটাকের পর হৃৎযন্ত্রে তৈরি হওয়া ক্ষত বা দাগ তুলনামূলকভাবে ছোট হয়েছে এবং হৃৎযন্ত্রের সামগ্রিক কার্যক্ষমতাও উন্নত হয়েছে।
গবেষকেরা লিখেছেন, পরিমিত মাত্রায় ভিইজিএফ–এ সরবরাহ করলে হৃৎযন্ত্রের ক্ষুদ্র রক্তসঞ্চালনব্যবস্থার কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার হতে পারে। তাই হৃৎযন্ত্রের আশপাশের রক্তনালির পরিবেশকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করা ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকৌশল হতে পারে।
এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, পরীক্ষাগুলো এখনো ইঁদুরের ওপরই করা হয়েছে। মানুষের হৃৎযন্ত্রেও একই প্রক্রিয়া কাজ করে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে গবেষকদের ধারণা, হৃৎযন্ত্রে আঘাতের পর মানুষের শরীরেও এ রকম কিছু প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে। এখন বিজ্ঞানীরা যেহেতু এই প্রাকৃতিক বিকল্প রক্তপথ তৈরির প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে, তার একটি বিস্তারিত চিত্র পেয়েছেন, তাই ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের জন্য নতুন ধরনের ওষুধ বা চিকিৎসা তৈরিতে এই জ্ঞান ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের ৯০ শতাংশের বেশি বেঁচে যান। কিন্তু বেঁচে যাওয়া মানেই হৃৎযন্ত্র পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়। হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদ্পেশিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত ও দাগ তৈরি হতে পারে। এসব পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে আরও নানা ধরনের হৃদ্রক্তনালিজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই হার্ট অ্যাটাকের পরপরই যদি এমন কোনো চিকিৎসা দেওয়া যায়, যা হৃৎযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বাড়াবে এবং ক্ষত বা দাগের পরিমাণ কমাবে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে। নতুন গবেষণা সেই সম্ভাবনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ দরজা খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, হার্ট অ্যাটাকের পর হৃৎযন্ত্র নিজেকে কীভাবে মেরামত করার চেষ্টা করে। ভবিষ্যতের চিকিৎসা হয়তো পুরোপুরি বাইরের কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার বদলে শরীরের নিজস্ব মেরামতব্যবস্থাকেই আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাবে।
গবেষকদের ভাষায়, এই ফলাফলগুলো দেখায় যে কৈশিক রক্তনালির ধমনিতে রূপান্তর বা ক্যাপিলারি আর্টেরিয়ালাইজেশন হৃৎযন্ত্রে স্বাভাবিকভাবে নতুন রক্তসঞ্চালন ফিরিয়ে আনার একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে এটি ইস্কেমিক হৃদ্রোগের চিকিৎসায় সম্ভাবনাময় একটি নতুন কৌশলের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

ওষুধের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখাই ওষুধনীতির একমাত্র বা মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। রোগীর সামর্থ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসম্মত ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ টেকসই রাখতে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ প্রয়োজন।
৭ ঘণ্টা আগে
দেশে গত এক দিনে ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৯০৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এ নিয়ে মোট ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছে ৩৪ জন।
৮ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৭৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪২ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৪৯, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজনের আগামী ১০ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। এর সঙ্গে উপকূলীয় জনপদগুলোর খাওয়ার পানিতে বাড়তি লবণাক্ততার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে...
১ দিন আগে