
আমাদের জিব লক লক করে ওঠে মিষ্টি দেখলে, লালাও ঝরে। মিষ্টি-মণ্ডা দেখলেই কেমন যেন খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।
কিন্তু মিষ্টির চেয়ে তিতা যে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তা কজনে জেনেছেন? আদা, তিত করলা, চিরতা, নিমপাতা কী চমৎকার স্বাস্থ্যের জন্য! পাচকতন্ত্রের জন্য তিতা স্বাদের খাবার খুব উপকারী।
হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ তিতা পাতা, মূল, ফলকে পরিপাক টনিক হিসেবে ব্যবহার করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পেট পুরে খাওয়ার পর তিতা বেশ হজমি হয়ে ওঠে।
‘ইনটেগ্রেটিভ হেলথ এক্সপার্ট’ ও ‘ডিসকভার দ্য সিক্রেট টু পারফেক্ট হেলথ’ এমন কয়েকটি বেস্ট সেলার বইয়ের লেখক ডা. তাজ ভাটিয়া, এম ডি বলেন, ‘তিতা খাবারকে তিতা বলে সেগুলোর স্বাদের জন্য। আর কর্মের জন্য এরা লালা ক্ষরণ ও অম্ল রস বাড়ায়।’
ডা. ভাটিয়া বলেন, ‘তিতা খাবার পরিপাকতন্ত্র উদ্দীপ্ত করে আর অন্ত্রে খাদ্যের শোষণ বাড়ায়।’
তিতা খেলে পাকস্থলীর অম্ল রস ক্ষরণ হয়। তাতে পরিপাকের অন্যান্য প্রক্রিয়া সচল হয় এবং অন্ত্রে এর প্রভাব পড়ে। তিতা খেলে পাচক এনজাইম নিঃসরণ বাড়ে, ফলে অন্ত্রে খাদ্যকণার শোষণ বেড়ে যায়।
এ ছাড়া তিতা বাড়তি এনজাইম ঠেকায়। ঠেকায় লিকি গাঁট। পরিপাকতন্ত্র চুঁইয়ে খাদ্যকণা আর অণুজীব বাইরে পড়ে ঘটায় প্রদাহ। এমন ঘটনাও সামাল দেয় তিতা।
আরও তথ্য-প্রমাণ আছে, তিতা খাবার অন্ত্রে কাজ করে প্রবায়োটিকের মতো। এ ধরনের খাবারে আছে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় আঁশ। এগুলো অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর বৃদ্ধিকে উদ্দীপ্ত করে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, তিতা খাবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে মিষ্টির প্রতি আগ্রহ দমাতে সহায়তা করে। ক্লিফরড আর সেডিভি আরও বলেন, ‘তিতা খাবার উদ্ভিজ্জ ও ভিটামিন, খনিজ আর আঁশে সমৃদ্ধ। তাই এগুলো অত্যন্ত পুষ্টিকর।’
আজকাল বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্ক, পরিপাকতন্ত্র ও যকৃতের ওপর স্বাদ গ্রাহকের ভূমিকা বিষয়ে আরও জানার চেষ্টা করছেন। করলা সেদ্ধ, নিমপাতা ভাজি—এসব তিতা দিয়ে একসময় বাঙালির খাবার শুরু হতো। দশম শতকে বাগদাদি রান্নায় তিতার প্রাধান্য ছিল। তিতা পাটশাক, গিমা শাক আর ঘি দিয়ে নিমপাতা ভাজি। সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, সোনা মুগের ডাল আর উচ্ছে ভাজার কথা। মেথিশাক, শজনে ফুলও তিতা মুখের স্বাদ বদলায়।
লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার হিসেবে নিচ্ছে সরকার। পরে তাদের এই টিকা ফেরত দেওয়া হবে।
১ দিন আগে
দেশে কয়েক মাস ধরে হামের টিকার সংকট চলছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) হামের টিকার সরবরাহ ঘাটতি ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, অর্থছাড়সহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে।
২ দিন আগে
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়াকে আমরা সাধারণত স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। কিন্তু নতুন এক গবেষণা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেখিয়েছে, শরীরের ভেতরের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
২ দিন আগে
চলতি বছরের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে খুব ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত হামের রোগী শনাক্ত হয়। অতি সংক্রামক রোগটি মার্চে এসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হাম টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও এর রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চললেও গত পাঁচ বছরে...
৩ দিন আগে