কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে সফল অ্যানিউরিজম ক্লিপিং বা কয়েলিং অপারেশন হতো না। কিন্তু ক্রমবর্ধমান এই রোগের সুচিকিৎসার কথা বিবেচনা করে এর চিকিৎসা এখন দেশেই শুরু হয়েছে। এখন অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপের ব্যবহার এবং আধুনিক প্লাটিনাম কয়েল সহজলভ্য হওয়ায় দেশেই সফল অ্যানিউরিজম সার্জারি করা হচ্ছে। বলা হয়ে থাকে, এটি ব্রেইন বা মস্তিষ্কের সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং অপারেশন। মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের রক্তনালির দুর্বল দেয়ালে ফোসকা বা বেলুনের মতো অংশ দেখতে পাওয়া যায়।
উপসর্গ
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যানিউরিজম ফেটে রক্তক্ষরণ না হলে রোগীর মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। মাঝে মাঝে ফেটে যাওয়ার আগে অ্যানিউরিজম প্রসারিত হয় এবং হঠাৎ একটু মাথাব্যথা করে আবার চলেও যায়। একে ওয়ার্নিং হেডেক বলে। ওয়ার্নিং হলে দ্রুত নিউরোসার্জনের শরণাপন্ন হয়ে
চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ রোগের উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলোর মধ্যে হলো:
কারণ
মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম রোগের সঠিক কারণ এখনো নির্ণীত হয়নি। তবে যে উপাদানগুলো মানুষকে এ রোগের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, সেগুলো হলো ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, জন্ম থেকে দুর্বল ধমনির দেয়ালের উপস্থিতি, মস্তিষ্কে আঘাত, ধমনির দেয়ালে সংক্রমণ।
রোগ নির্ণয় যেভাবে
সিটি স্ক্যান: মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করালে দ্রুত রক্তক্ষরণ শনাক্ত করা যায়।
এনজিওগ্রাম: সিটি এনজিওগ্রাম, এমআর এনজিওগ্রাম, ডিএস এনজিওগ্রাম করলে রক্তক্ষরণের কারণ জানা যায় এবং চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করা সহজ হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা
দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করালে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এ জন্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
নির্দিষ্ট চিকিৎসা
দুটি অত্যাধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অ্যানিউরিজম বন্ধ করে দেওয়া হয় যেন ভবিষ্যতে আর রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক না হতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো মাথার খুলি কেটে অ্যানিউরিজম ক্লিপিং সার্জারি এবং অন্যটি অ্যানিউরিজম কয়েলিং। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে খুলি কাটার প্রয়োজন হয় না।
সচেতনতা
কিছু বিষয়ে সচেতন হলে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
ওয়ার্নিং হেডেক হলে দেরি না করে নিউরোসার্জনের শরণাপন্ন হতে হবে। এতে রক্তক্ষরণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। রক্তক্ষরণ হলে ক্লিপিং বা কয়েলিং করে অ্যানিউরিজম ব্লক করতে পারলে পরবর্তী রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা এবং ব্রেইন, স্পাইন ও স্ট্রোক সার্জন

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
২ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
২ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
২ দিন আগে
রমজান মাসে আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় খাওয়াদাওয়ার সময় ও ধরন বদলে যায়। আরও বদলে যায় ঘুমের সময়। এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় শরীরকে। এ জন্য নতুন করে অনেক অভ্যাস তৈরি করতে হয়।
২ দিন আগে