আজাদুল আদনান, ঢাকা

দেশে করোনাভাইরাসে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই পঞ্চাশোর্ধ্ব। আক্রান্তের দিক থেকেও শীর্ষে ছিলেন এই বয়সীরা। তাই করোনার টিকাদান কর্মসূচির শুরুতে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৫ বছর। এরপর ধাপে ধাপে সাত দফায় বয়সসীমা কমিয়ে এখন শিশুদেরও টিকা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু অগ্রাধিকার তালিকায় এগিয়ে থেকেও টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন বয়স্ক ব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মধ্যে পূর্ণ ডোজের টিকা পেয়েছেন মাত্র ৫৭ লাখ ৯২ হাজার ৮৭৭ জন। প্রথম ডোজ পেয়েছেন ১ কোটি ১৭ লাখ ৩২ হাজার ৫৪৯ জন। উল্লিখিত সময় পর্যন্ত নিবন্ধন করেন ১ কোটি ৬৮ লাখ ৮৬ হাজার ৫৬৮ জন। নিবন্ধন করেও এখনো টিকা পাননি ৫১ লাখ ৫৪ হাজার ১৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে করোনায় রোববার পর্যন্ত (৭ নভেম্বর) প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ৫১-১০০ বয়সীদের। এই তালিকায় ২২ হাজার ১৮ জন। এ ছাড়া ৪১-৫০ বছর বয়সী রয়েছেন ৩ হাজার ৩১০ জন, ৩১-৪০ বছর বয়সী ১ হাজার ৬৬১ জন, ২১-৩০ বছর বয়সী ৬৪৫ জন, ১১-২০ বছর বয়সী ১৮৩ জন এবং শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী রয়েছে ৭৮ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু করোনা নয়, যেকোনো রোগেই বয়স্ক ব্যক্তিরা অল্পতেই কাবু হয়ে যান। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদ্রোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য আরও জটিল। যেকোনো মুহূর্তে সংকটাপন্ন অবস্থা তৈরির শঙ্কা থাকে। করোনা সেটি আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শুরুর দিকে টিকার স্বল্পতা থাকলেও বর্তমানে সে সংকট নেই। বয়স্ক ব্যক্তিরা পিছিয়ে পড়ার কারণ তাঁরা টিকা নিতে আগ্রহী নন। তাই দুই দফা ক্যাম্পেইন করেও তাঁদের টিকা দেওয়া যায়নি।
অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বয়স্ক ব্যক্তিরা সব সময় অগ্রাধিকার তালিকায় আছেন। যাঁরা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের তো দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে, কিন্তু আসছেন না। ক্যাম্পেইনেও তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রে না আসায় এতগুলো মানুষ টিকার বাইরে। এখন স্কুল খোলা অন্যদিকে বয়স্ক ব্যক্তিরা বাসায় থাকছেন, এতে ঝুঁকি বাড়ছে। তাই দ্রুত তাঁদের টিকা নেওয়া উচিত।
টিকাদানের শুরু থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দ্রুত টিকা দেওয়ার কথা বলে আসছে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (নাইট্যাগ)। একসঙ্গে সবার টিকা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় জানিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা দিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে তারা।
নাইট্যাগের সদস্য অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলছেন, যেকোনোভাবে সবার আগে বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। বেশির ভাগ বয়স্ক জনগোষ্ঠী গ্রামের। তাঁদের বাঁচাতে উচিত ছিল দ্রুত টিকা দেওয়া। তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।
বর্তমানে সংক্রমণ কম, সেটা আমাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু কোনো কারণে বেড়ে গেলে চরম মূল্য দিতে হবে। ডেলটা ধরন হানা দিলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সময়মতো টিকা না পেয়ে প্রাণ হারান বহু বয়স্ক মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। নিবন্ধন করতে বলা হলেও মাসের পর মাস পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু টিকা পাচ্ছেন না তাঁরা।
বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছি। কিন্তু আবার যে আসবে না তা নিশ্চিত নয়। ইতিমধ্যে যাঁরা মারা গেছেন, বেশির ভাগই পঞ্চাশোর্ধ্ব। এ জন্য পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদেরও বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা নিশ্চিত করে তারপর পর্যায়ক্রমে বাকিদের টিকা দেওয়া উচিত।

দেশে করোনাভাইরাসে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই পঞ্চাশোর্ধ্ব। আক্রান্তের দিক থেকেও শীর্ষে ছিলেন এই বয়সীরা। তাই করোনার টিকাদান কর্মসূচির শুরুতে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৫ বছর। এরপর ধাপে ধাপে সাত দফায় বয়সসীমা কমিয়ে এখন শিশুদেরও টিকা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু অগ্রাধিকার তালিকায় এগিয়ে থেকেও টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন বয়স্ক ব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মধ্যে পূর্ণ ডোজের টিকা পেয়েছেন মাত্র ৫৭ লাখ ৯২ হাজার ৮৭৭ জন। প্রথম ডোজ পেয়েছেন ১ কোটি ১৭ লাখ ৩২ হাজার ৫৪৯ জন। উল্লিখিত সময় পর্যন্ত নিবন্ধন করেন ১ কোটি ৬৮ লাখ ৮৬ হাজার ৫৬৮ জন। নিবন্ধন করেও এখনো টিকা পাননি ৫১ লাখ ৫৪ হাজার ১৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে করোনায় রোববার পর্যন্ত (৭ নভেম্বর) প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ৫১-১০০ বয়সীদের। এই তালিকায় ২২ হাজার ১৮ জন। এ ছাড়া ৪১-৫০ বছর বয়সী রয়েছেন ৩ হাজার ৩১০ জন, ৩১-৪০ বছর বয়সী ১ হাজার ৬৬১ জন, ২১-৩০ বছর বয়সী ৬৪৫ জন, ১১-২০ বছর বয়সী ১৮৩ জন এবং শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী রয়েছে ৭৮ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু করোনা নয়, যেকোনো রোগেই বয়স্ক ব্যক্তিরা অল্পতেই কাবু হয়ে যান। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদ্রোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য আরও জটিল। যেকোনো মুহূর্তে সংকটাপন্ন অবস্থা তৈরির শঙ্কা থাকে। করোনা সেটি আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শুরুর দিকে টিকার স্বল্পতা থাকলেও বর্তমানে সে সংকট নেই। বয়স্ক ব্যক্তিরা পিছিয়ে পড়ার কারণ তাঁরা টিকা নিতে আগ্রহী নন। তাই দুই দফা ক্যাম্পেইন করেও তাঁদের টিকা দেওয়া যায়নি।
অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বয়স্ক ব্যক্তিরা সব সময় অগ্রাধিকার তালিকায় আছেন। যাঁরা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের তো দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে, কিন্তু আসছেন না। ক্যাম্পেইনেও তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রে না আসায় এতগুলো মানুষ টিকার বাইরে। এখন স্কুল খোলা অন্যদিকে বয়স্ক ব্যক্তিরা বাসায় থাকছেন, এতে ঝুঁকি বাড়ছে। তাই দ্রুত তাঁদের টিকা নেওয়া উচিত।
টিকাদানের শুরু থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দ্রুত টিকা দেওয়ার কথা বলে আসছে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (নাইট্যাগ)। একসঙ্গে সবার টিকা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় জানিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা দিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে তারা।
নাইট্যাগের সদস্য অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলছেন, যেকোনোভাবে সবার আগে বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। বেশির ভাগ বয়স্ক জনগোষ্ঠী গ্রামের। তাঁদের বাঁচাতে উচিত ছিল দ্রুত টিকা দেওয়া। তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।
বর্তমানে সংক্রমণ কম, সেটা আমাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু কোনো কারণে বেড়ে গেলে চরম মূল্য দিতে হবে। ডেলটা ধরন হানা দিলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সময়মতো টিকা না পেয়ে প্রাণ হারান বহু বয়স্ক মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। নিবন্ধন করতে বলা হলেও মাসের পর মাস পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু টিকা পাচ্ছেন না তাঁরা।
বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছি। কিন্তু আবার যে আসবে না তা নিশ্চিত নয়। ইতিমধ্যে যাঁরা মারা গেছেন, বেশির ভাগই পঞ্চাশোর্ধ্ব। এ জন্য পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদেরও বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা নিশ্চিত করে তারপর পর্যায়ক্রমে বাকিদের টিকা দেওয়া উচিত।

তীব্র শীতের কারণে হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। আক্রান্তদের অধিকাংশই জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া ও নিউমোনিয়ায় ভুগছে। সরকারি হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
৬ ঘণ্টা আগে
সুইস খাদ্যপ্রতিষ্ঠান নেসলে ঘোষণা করেছে, তারা ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, ইতালি, সুইডেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ থেকে কিছু ব্যাচের শিশুখাদ্য ফর্মুলা প্রত্যাহার করছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
দেশের বেসরকারি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবগুলোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ সোমবার জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসারকে নিজ হাতে
১ দিন আগে
দেশে তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র শীত চলছে। কিছু অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এই অবস্থায় সারা দেশে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই মাসে প্রায় ১ লাখ বিভিন্ন বয়সের মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
২ দিন আগে