হৃদরোগ ইনস্টিটিউট

রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে (এনআইসিভিডি) পুরোনো করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলছে সেটির নির্মাণকাজ। এই অবস্থায় সংকটাপন্ন রোগীদের জরুরি সেবা দেওয়া হচ্ছে অস্থায়ী সিসিইউতে। কিন্তু একটি সিসিইউর জন্য যে পরিবেশ দরকার, সেখানে তা নেই। নানা অব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন হচ্ছে রোগীর সেবা কার্যক্রম।
এনআইসিভিডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের মে মাসে মূল ভবনের সিসিইউর পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন করে নির্মাণ শুরু করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সে সময় সিসিইউ স্থানান্তর করা হয় দক্ষিণ ভবনের দ্বিতীয় তলায়। নতুন সিসিইউর সিভিল (পুরকৌশল) কাজের জন্য পৌনে ২ কোটি টাকা এবং ইলেকট্রিক্যাল কাজের জন্য পৌনে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু ইলেকট্রিক্যাল কাজ শুরু না হওয়ায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দের অর্থ ফেরত যায়। ওই অর্থবছরে নতুন বরাদ্দ আসেনি। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনআইসিভিডি কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনো বরাদ্দ ফেরত আসে। নির্মাণকাজ শেষ হলেও চলছে ইলেকট্রিক ও অভ্যন্তরীণ নকশার (ইন্টেরিয়র) কাজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় সিসিইউ স্থাপনের কাজ চলছে। এ জন্য দুই দিকে প্রবেশদ্বারে টিনের বেড়া দেওয়া, ভেতরে চলছে কাজ। সিভিল বা পুরকৌশল ও টাইলস স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ইলেকট্রিক্যাল, রং করা ও ঘষামাজা চলছে।
এদিকে নতুন সিসিইউ স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়ায় হাসপাতালের দক্ষিণ ভবনের দ্বিতীয় তলায় অস্থায়ী সিসিইউতে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহের দুই কার্যদিবসে অস্থায়ী সিসিইউর সামনে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে দেখা গেছে, ৩৮ শয্যার অস্থায়ী সিসিইউতে অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ার মতো। শয্যায় সংকটাপন্ন হৃদ্রোগী থাকলেও অন্যান্য ওয়ার্ডের মতো শোরগোল শোনা যায় সেখানে। রোগীদের স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মচারীরা বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রবেশ করছেন। শয্যা ছাড়াও মেঝেতে রোগীর সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন। রোগীদের তুলনায় ইউনিটটিতে স্বজন ও অন্য লোকজনের সংখ্যা বেশি। গুরুত্বপূর্ণ ওই ইউনিটে সংক্রমণ ও চিকিৎসার মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি স্পষ্ট।
অস্থায়ী সিসিইউতে রোগীর যথাযথ যত্নের ঘাটতির বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সিসিইউর পরিবেশ ভালো রাখতে হলে রোগী সীমিত করতে হবে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে তা সম্ভব নয়। বিশেষত এনআইসিভিডির মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে বিষয়টি বেশ কঠিন। এই প্রতিষ্ঠান কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারে না। শুধু শয্যা বাড়ানোই সমাধান নয়, শয্যা বাড়ানোর পর যথাযথ সেবাও নিশ্চিত করতে হবে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে সিসিইউতে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি হলে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), স্থিতিশীল অবস্থার রোগীদের প্রিসিসিইউতে রাখা হয়। অস্ত্রোপচারের পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রোগীকে রাখা হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। এর পরবর্তী ধাপে এইচডিইউ এবং ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। ভর্তি রোগীদের মধ্যে কারও অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাকে সিসিইউতে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের (বিএসিটিএ) সভাপতি অধ্যাপক এ টি এম খলিলুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যেসব রোগীর মারাত্মক হার্ট প্রবলেম, তাদের সিসিইউতে আনা হয়। জরুরি চিকিৎসা যন্ত্রাংশ ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়েই সিসিইউ। সবাই সরকারি হাসপাতালের সংকট সম্পর্কে অবগত। তবে সমাধানে সদিচ্ছা দেখা যায় না। সরকারি সিসিইউতে বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনে রোগীরা। শয্যা, যন্ত্রাংশ, অন্যান্য সুবিধাসহ আদর্শ সিসিইউ বলতে যা বোঝায়, তা অবশ্যই থাকতে হবে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে সিসিইউ স্থাপন বা সংস্কারের জন্য তিন বছর লেগে যাবে; কোনো অবস্থায়ই তা গ্রহণযোগ্য নয়।’
নতুন সিসিইউর বিষয়ে এনআইসিভিডির পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, ‘সিসিইউ সংস্কার নয়, নতুন করে স্থাপন করা হচ্ছে। যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে এ মাসের শেষ বা আগামী মাসের শুরুতে সিসিইউটি আমরা বুঝে পাব। আগের সিসিইউ ভেঙে নতুন করে অবকাঠামো করা হয়েছে। কেননা আগে একাধিক কক্ষ ছিল; তা এখন একত্র করা হয়েছে। নতুন সিসিইউতে আমরা ৩৮টি শয্যা করব। এক অংশে রোগীদের এক্সামিনেশনের জন্য স্বতন্ত্র জায়গা রাখা হবে। গত বছরের মাঝামাঝি আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোনো যে বরাদ্দ ছিল, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আনা হয়েছে। নতুন সিসিইউ চালু হলে অস্থায়ীটিকে সিসিইউ-২ করা হবে। রোগী কিছুটা স্থিতিশীল হলে মূল সিসিইউ থেকে ইউনিট-২-তে পাঠানো হবে। এতে বেশি সংকটাপন্ন রোগীকে সেবা দেওয়া যাবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৯৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮১৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ২১৯ জনের মৃত্যু হলো। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যায়।
৮ ঘণ্টা আগে
জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা—আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে এসব উপসর্গে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে সাধারণ সর্দি-কাশি মনে হলেও এর পেছনে থাকতে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। দেশে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে নিয়মিত নজরদারি চলছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
রোদ-বৃষ্টির খামখেয়ালি এই শরৎ ঋতুতে সাধারণ উপসর্গ ভেবে কোনো অসুস্থতাকে অবহেলা করা উচিত নয়। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দূষিত পানি এই সময়ে নানা জীবাণুর আদর্শ প্রজননক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
১৫ ঘণ্টা আগে