Ajker Patrika

সামাজিক মাধ্যমে কিশোরদের নিষেধাজ্ঞায় ‘উল্টো ক্ষতি’ হতে পারে—বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৮: ০৬
সামাজিক মাধ্যমে কিশোরদের নিষেধাজ্ঞায় ‘উল্টো ক্ষতি’ হতে পারে—বিজ্ঞানীদের সতর্কতা
ছবি: এএফপি

কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা প্রত্যাশিত সুফল না এনে বরং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এই ধরনের নীতিমালা সমস্যার মূল কারণ সমাধান না করে তরুণদের আরও কঠিনভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঠেলে দিতে পারে।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে গবেষকেরা বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় গৃহীত এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিবেচনাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ নীতিগুলো এককভাবে কার্যকর হবে না। কারণ, কিশোরদের অনলাইন আচরণ পরিবার, স্কুল, সরকার ও সামাজিক পরিবেশের মতো বৃহত্তর একটি ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

গবেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা দিলে তরুণেরা সহজেই বিকল্প অ্যাপ বা ব্যক্তিগত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যাবে, যেখানে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা আরও কঠিন হবে। একই সঙ্গে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও তামাক ও অ্যালকোহল শিল্পের মতো নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিভিন্ন কৌশল নিতে পারে। এমনকি ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’-এর সংজ্ঞা পরিবর্তনের চেষ্টা, কম নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ এবং লবিংয়ের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ সব কিশোরের ওপর একই প্রভাব ফেলবে না। যাদের পরিবার ও শিক্ষা ব্যবস্থার শক্তিশালী সহায়তা রয়েছে, তারা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকবে। কিন্তু সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অনিরাপদ পরিবেশ বা সীমিত সহায়তায় থাকা তরুণেরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গবেষণার সহলেখক এক কিশোর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের জায়গা নয়; এটি বন্ধুত্ব গড়ে তোলা, নিজের অনুভূতি প্রকাশ, নতুন কিছু শেখা এবং অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতি থেকে মানসিক আশ্রয় পাওয়ারও মাধ্যম। পরিবারের সঙ্গে বলতে না পারা অনেক বিষয় বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই ভাগাভাগি করে থাকে।

বিজ্ঞানীরা তাই সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে প্রমাণভিত্তিক, নমনীয় ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু স্ক্রিন টাইম বা স্বল্পমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্য নয়, বরং শিক্ষা, সামাজিক সম্পর্ক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই কার্যকর নীতি প্রণয়ন করা উচিত। অন্যথায়, সরকার দৃশ্যমান হলেও অকার্যকর এমন নীতি গ্রহণের ঝুঁকিতে পড়বে, যা সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিত রেখেই নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রও টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা বিবেচনা করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত