
কোমল পানীয় কোকা-কোলার হলুদ মোড়কে মোড়ানো কিছু বোতলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এতে দাবি করা হচ্ছে, গাজায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পশ্চিমা পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। এ থেকে বাঁচতে কোকা-কোলা নিজেদের রূপ পাল্টাতে বাধ্য হয়েছে। টাইপোগ্রাফি ও ক্যালিগ্রাফি নামের ফেসবুক গ্রুপে ২ ডিসেম্বর এমন এক পোস্ট দেওয়া হয়। এটি বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। এতে প্রতিক্রিয়া পড়েছে ১৬ হাজারের বেশি। এর মধ্যে লাইক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট, লাভ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ৬ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বয়কট থেকে বাঁচতে কোকা-কোলার বোতলের মোড়ক বদলানোর তথ্যটি সঠিক নয়।
রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধানে আমেরিকান কমিউনিটিভিত্তিক ওয়েবসাইট রেড্ডিটে প্রায় দুই বছর পূর্বে ফেসবুকে প্রচারিত ছবিটির অনুরূপ একটি ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। রেড্ডিটে ছবিটি পোস্ট করা হয় চন্দ্রজিত নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। প্রায় ২ বছর আগে পোস্ট করা ছবিটির ক্যাপশনে লেখা হয়, কোক জিরো লেমন। ছবির বোতলগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, সেখানে লেখা রয়েছে লেমন, কোকা-কোলা, সুগার ফ্রি। বোতলের গায়ে সুগার ফ্রি শব্দটি সুইডিশ ভাষাতেও লেখা রয়েছে। পোস্টদাতাও একজন কমেন্টকারীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিশ্চিত করেছেন, ছবিটি সুইডেনে তোলা।
আইসিএ আলুন্দাহলেন নামে সুইডেনের একটি সুপারমার্কেটের ফেসবুক পেজেও ২০২২ সালের ১৬ মার্চ একই ডিজাইনের বোতল খুঁজে পাওয়া যায়। পোস্টটি দেখুন এখানে।
আরও অনুসন্ধানে অ্যালামি ডটকমের ওয়েবসাইটেও একটি ছবিতে একই ডিজাইনের কিছু বোতল খুঁজে পাওয়া যায়। ছবিটি ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পোস্ট করা হয়েছে। এটি তোলা হয়েছে ইতালির রোম থেকে। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, এগুলো কোকা-কোলার লেমন ফ্লেভারের সুগার ফ্রি পানীয়ের বোতল।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি পণ্য বেচাকেনার একটি পোলিশ ওয়েবসাইটেও একই ধরনের দেখতে কিছু বোতল পাওয়া যায়। হলুদ মোড়কে মোড়ানো বোতলের এ ছবিগুলোর সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত লেমন জিরো সুগার কোকের মোড়কযুক্ত বোতলের মিল রয়েছে।
ওপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়, ফেসবুকে প্রচারিত লেমন জিরো সুগার কোকের মোড়কযুক্ত বোতলগুলো বয়কট এড়াতে কোকা-কোলার নতুন কোনো পদক্ষেপ নয়। আগে থেকেই কোকা-কোলার এমন ডিজাইনের বোতল বাজারে আছে।
কোকের ওয়েবসাইট ঘুরেও সাম্প্রতিক সময়ে কোকা-কোলার বোতল ডিজাইন পরিবর্তন করে নতুন কোনো পানীয় বাজারে আনার বিষয়ে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে নজিরবিহীন হামলা চালানোর পর থেকে দুই পক্ষে যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোকা-কোলাসহ বেশ কিছু পশ্চিমা পণ্য বর্জনের ডাক দেয় সাধারণ মানুষ। ফলে ম্যাকডোনাল্ডস-কেএফসির বিক্রিতে ধস নামে।
এ ছাড়া ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ায় তুরস্কের সংসদে নিষিদ্ধ করা হয় বিশ্বখ্যাত কোম্পানি কোকা-কোলা এবং নেসলের পণ্য। গত ৭ নভেম্বর এক বিবৃতিতে পশ্চিমা পণ্য নিষিদ্ধের তথ্য জানায় দেশটির সংসদ। এতে বলা হয়, ‘যেসব কোম্পানি ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়, সেসব কোম্পানির পণ্য তুরস্কের সংসদ এলাকার রেস্টুরেন্ট, ক্যাফেটেরিয়া এবং চায়ের দোকানগুলোতে বিক্রি করা হবে না।’
সিদ্ধান্ত
দুই মাসের বেশি সময় ধরে গাজায় হামাস-ইসরায়েলের যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পশ্চিমা পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে কোকা-কোলার কিছু বোতলের ছবি প্রচার করা হচ্ছে। কোকা-কোলা বয়কট এড়াতে পণ্যের মোড়ক বদলিয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোকা-কোলার ওই বোতলের ছবিগুলো পুরোনো। এগুলো বয়কট এড়াতে পরিবর্তন করা হয়নি।

গাঁজা ব্যবসায়ীকে শাস্তি দিচ্ছেন মাদারীপুরের নতুন এমপি—এমন দাবিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখা যায়। মুহূর্তেই এটি ভাইরাল হয়ে যায়।
২ দিন আগে
‘তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীর শপথ পাঠ আমি করাতে আগ্রহী—মিজানুর রহমান আজহারী’ (বানান অপরিবর্তিত) দাবিতে ফেসবুকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টে দাবি করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ
৩ দিন আগে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ বছর পর ভোট দিয়েছেন।
৪ দিন আগে
‘নির্বাচনে জাল ভোট পড়েছে ২১.৪ শতাংশ: টিআইবি’ দাবিতে নাগরিক টিভির একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিক টিভি-র এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটের ২১ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিভিন্ন অসঙ্গতি
৪ দিন আগে