
‘হাদি হত্যার বিচার হলে, আজ “খামেনি” মরতো না’— ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার মন্তব্য দাবিতে এমন একটি ফটোকার্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টের কমেন্ট বক্সে বেশিরভাগই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
আলোচিত বিষযে সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি শেয়ার করা হয় ‘Mehedi Hasan’ নামের একটি পেজ থেকে। ১ মার্চ (রোববার) দুপুর ২টা ২৭ মিনিটে পোস্টটি শেয়ার করা হয়। এই পোস্টটিই সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত এতে ২ হাজার ৮০০ রিয়েকশন, ১০টি শেয়ার এবং প্রায় ১০৩টি কমেন্ট রয়েছে।
পোস্টের মন্তব্য যাচাই করে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী বিষয়টি সত্য মনে করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এম নামের একজন লেখেন, ‘বট বাহিনী ক্যামেরার সামনে থাকতে ভালোবাসে, দেশকে নিয়ে ব্যবসা করতে ভালোবাসে, ইসলাম ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে ভালোবাসে, হাদি ভাইকে নিয়ে ব্যবসা করতে ভালোবাসে। আপনার মতামত কী?’
ইয়ামান হাসান নামের আরেকজন লেখেন, ‘এরা কি সারাক্ষণ নেশার ঘোরে থাকে?’ মনির হোসেন নামের একজন লেখেন, ‘হায় আল্লাহ, কী কয়!’

ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ওপরের ডান পাশে অনলাইন নিউজ পোর্টাল চরচা-এর লোগো রয়েছে। ছবিতে জুমার মুখাবয়ব ছাড়া শরীরের বাকি অংশ লাল কাপড়ে আবৃত, অনেকটা ডানা মেলা বাদুরের আকৃতিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফটোকার্ডে শিরোনামের ফন্ট, রঙ ও আকারের সঙ্গে চরচার সাম্প্রতিক ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের অমিল লক্ষ্য করা যায়। তবে কার্ডে লেখা বিস্তারিত অংশ, তারিখ এবং নিচে চরচার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের নামের ফন্ট এবং ডিজাইনের সঙ্গে চরচার ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডের মিল রয়েছে।
চরচার লোগোর সূত্র ধরে অনুসন্ধানে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ১ মার্চ (রোববার) দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে শেয়ার করা ‘আমি মনে করি জুলাইয়ের কবর হয়ে গেছে’ শিরোনামের একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ‘শিক্ষামন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকায় নেমেছেন: ফাতিমা তাসনিম জুমা’ ক্যাপশনে শেয়ার করা ওই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ও জুমার ছবি ছাড়া বাকি ডিজাইনের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডের মিল পাওয়া যায়।

পোস্টের কমেন্টে ‘শিক্ষামন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকায় নেমেছেন: ফাতিমা তাসনিম জুমা’ শিরোনামে চরচার ইউটিউব চ্যানেলের লিংকও পাওয়া যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি চ্যানেলটিতে ফজলুল কবিরের সঞ্চালনায় চরচার বিশেষ আয়োজন ‘তীর্যক’-এ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন ডাকসু নেত্রী ও ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা।
১ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে জুলাই আন্দোলন, শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যু, রাষ্ট্রের ভূমিকা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের মতামত ও নারীদের হয়রানি নিয়ে আলোচনা করা হলেও ‘হাদি হত্যার বিচার হলে, আজ “খামেনি” মরতো না’—এ ধরনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া দেশীয় কোনো গণমাধ্যমেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। জুমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও এ ধরনের কোনো পোস্ট নেই।
সিদ্ধান্ত
আলোচিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত। মূলত চরচার ‘আমি মনে করি জুলাইয়ের কবর হয়ে গেছে’, শিরোনামের ফটোকার্ডটির শিরোনাম ও ছবি সম্পাদনা করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শিকার হয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে ঘিরে কয়েকজন চিৎকার করছেন, ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দাবির সমর্থনে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা
২ ঘণ্টা আগে
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বলিউড তারকা শাহরুখ খান,সালমান খান ও আমির খান ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেছেন— এমন দাবিতে কিছু ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শনিবার (১ মার্চ) ভোরে নিজ কার্যালয়ে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের ছবি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স-এ।
১ দিন আগে
‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে